A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হলো সোনার বাংলা | Probe News

Lakho kontho7.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: আকাশে স্বাধীনতার সূর্য আর জমিনের জাতীয় প্যারেড ময়দানে দেশের ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন বাংলা ভাষাভাষী। আর এই লাখো জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। ঘড়ির কাটায় সকাল ১১টা ২০। সম্মিলিত কণ্ঠে একসাথে ধ্বনিত হলো রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করা রবীন্দ্রনাথের "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি..."। বাংলাদেশ আর বাংলাদেশিদের প্রাণের এ সুর ছড়িয়ে পড়ল প্যারেড গ্রাউন্ডের বাইরে, সারা বাংলাদেশে। পুরো পৃথিবীজুড়ে যেখানে যতো বাংলাদেশি বাঙালি রয়েছেন তারাও কণ্ঠ মেলালেন লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া জাতীয় সংগীতে। এভাবেই লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর দাবি তুলল বাংলাদেশ।
২০১৩ সালের ৬ মে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছিল সাহারা ইন্ডিয়া পরিবার (ভারত)। ওই আয়োজনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল তার দ্বিগুণেরও বেশি। কেবল মাঠেই নয়, প্যরেড গ্রাউন্ডের বাইরে এবং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে যেখানে ছিলেন, সবাই দাঁড়িয়ে শামিল হয়েছেন এই আয়োজনে, কণ্ঠ মিলিয়েছেন সোনার বাংলায়।
লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে ৪৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বুধবার বাংলাদেশ উঠে গেল নতুন এক মর্যাদার উচ্চ শিখরে। বাঙালির দেশপ্রেমের অনন্য এক নজির দেখল বিশ্ব। পাশাপাশি লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করে বাংলাদেশের গিনেজ রেকর্ডে নাম উঠতে এখন শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপেক্ষা।

প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সংগীত গেয়েছেন আড়াই লাখ বাংলাদেশি, বাইরে আরো কয়েক লাখ আর দেশ-বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি। লাখো কণ্ঠের জায়গায় জাতীয় সংগীত তাই ধ্বনিত হয়েছে কোটি কণ্ঠে। আর তার ছুঁয়ে গেছে প্রাণে প্রাণে। এ সুর হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে বাংলাদেশ উজ্জীবিত হল স্বাধীনতার চিরভাস্বর স্মরণীয় দিন ২৬ মার্চের সকালে এভাবেই বিশ্ব দেখলো এক জাতীয় সংগীতই সকল মতাদর্শের মানুষকে কিভাবে একত্র করে ফেলেছে একস্থানেই। যে সংগীতের সঙ্গে সুর উঠলো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরা সুর মেলালেন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ আয়োজনের সঙ্গে।

ক্ষণ গণনা শেষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের মূল মঞ্চে দেশবরেণ্য শিল্পীদের কণ্ঠে সুর উঠে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি...’। পরম আবেগে এ প্রাণের এ সংগীতের সঙ্গে সুর তোলেন পুরো গ্রাউন্ডজুড়ে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অংশগ্রহণকারীরা। একস্থানে ৩ লাখ কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের সুর অন্যরকম আবহ তৈরি করে প্যারেড গ্রাউন্ডে।

৮টা ৫৫ মিনিটে মূল মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় ১ লাখ ৬০ হাজার লোক জমায়েত হয়েছেন প্যারডে গ্রাউন্ডে। ৯টা ১২ মিনিটে জমায়েত হয় ১ লাখ ৮০ হাজার আর ৯টা ৫০ মিনিটে ঘোষণা দেওয়া হয় ২ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দশটায় ঘোষণা দেওয়া হয় ২ লাখ ১৫ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছেন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। সোয়া ১০টায় উপস্থিতি ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার। ১০টা ৪০ মিনিটের আড়াই লাখ মানুষের ঘোষণা আসে মঞ্চ থেকে। জাতীয় সংগীত শুরুর আগে আগে সোয়া ১১টায় ডিজিটাল কাউন্টিং মেশিনে উপস্থিতির সংখ্যা দেখানো হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নেন। সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ আয়োজন নিয়ে টানা কয়েকদিন ধরেই সম্পন্ন হয় নানা প্রস্তুতি। প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সুর মেলালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ সশস্ত্র বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা। যারা প্যারেড গ্রাউন্ডের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত গেয়েই এতে অংশ নিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্য ছাপিয়ে গেছে, নতুন মাত্রা পেয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের খাতায় বাংলাদেশের নাম ওঠার মাধ্যমে। সকাল সাড়ে ৬টায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রবেশদ্বার খোলা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় ৮টায়। দেশবরেণ্য এবং খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মাঠে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েক দফা অনুশীলন শেষে ১১টা ৫ মিনিটে আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রোব/বান/জাতীয় ২৬.০৩.২০১৪

 

২৬ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১২:২৬:৫০ | ১৭:২৮:৩২

জাতীয়

 >  Last ›