A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

জীবন সংগ্রামেও পঙ্গু তাঁরা | Probe News

প্রোব নিউজ, ঢাকা: পাকিাস্তানী হানাদারদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে জীবনবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পাড়েছিলেন তাঁরা। অনেকে ফিরে আসেন নি, মাতৃভূমির জন্য শহীদ হয়েছেন, লাল সবুজের পতাকা দেখার সৌভাগ্য হয়নি তাদের। কিন্তু যারা রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসেছেন স্বাধীন দেশে, তারাইবা কেমন আছেন, কেমন কাটছে তাদের জীবন? না, সবার জীবনে স্বাধীনতার স্বাদ একরকম হয়ে আসেনি। অনেকেই বরণ করে নিয়েছেন পঙ্গুত্ব। স্বাধীনতা সংগ্রামে পঙ্গু হয়েও শেষ হয়নি জীবনের দুঃখ-দুর্দশা, বরং জীবন সংগ্রামেও পঙ্গু হয়ে আছেন দেশের অগণিত মুক্তিযোদ্ধারা।
কথা হয় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপেক্সে বসবাসকারী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে।
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ১ নং রোডের একটি টিনসেটের বাসায় থাকেন ৬৮ বয়সের বৃদ্ধ মোহাম্মদ হানিফ। দেশকে শত্র“মুক্ত করতে নিজ জেলা ফেনীতেই মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। যুদ্ধেও মাঠে পাক সেনাদের ছোড়া ছ’টিগুলি পেটে নিয়ে কোনরকম বেঁচে যান এই মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে মেরুদণ্ড থেকে দুই পা পর্যন্ত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে রোগে শোকে দিন কাটছে তাঁর।
স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে একটুও বুক কাপেনি যার, সামান্য একটা হুইল চেয়ারের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বহুবার ধর্না দিতে হয়েছে দেশের এই বীর সন্তানের।
মোহাম্মদ হানিফ অনেকটা রাগ আর ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে আবেদন করেও একটা হুইল চেয়ার আমার কপালে জুটলো না। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার মত টাকাও আমার কাছে নেই। এখন মনে হচ্ছে যুদ্ধ করাটাই উচিত হয়নি। আত্মহত্যা করলেই হয়তো তাদের টনক নড়বে।’

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জমি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সরকার নানা টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা। যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময় ৫২ একরের এ জমিটির মালিক ছিলেন বক্স এলাহী নামে এক পাকিস্তানির। স্বাধীনতার পর এ জমিটি রাষ্ট্রায়ত্ব করে নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তা দান করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের হস্তক্ষেপে চলে যায় এ কপ্লেক্সের সিংহভাগ জমি। বর্তমানে প্রায় ১৩ একর জমি দখলে রয়েছে। এখানে শহিদ পরিবার, যুদ্ধাহতসহ মুক্তিযোদ্ধাদের মোট ২২৭টি পরিবার বসবাস করছেন।
কমপ্লেক্স বহুমুখি সমিতির পরিচালক ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির প্রোবনিউজকে বলেন, সরকার তাদের ওপর চাপ দিচ্ছে জায়গাটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা সরকারের এই মন ভোলানো কথায় বিশ্বাষ করি না।
তিনি বলেন, ‘আজ হাসিনা দেবে কাল যে খালেদা কেড়ে নেবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে। তাছাড়া, আমরা যেহেতু জাতির বোঝা আমাদের সকলের নামে আড়াই কাঠা জমি লিখে দিলেই তো হয়। এতে সরকারের বোঝাও কমে যাবে’।
প্রোব/বিএইচ/জাতীয়/২৫.০৩.২০১৪

২৫ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২২:০৩:১০ | ১১:৪৪:১০

জাতীয়

 >  Last ›