A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মহান স্বাধীনতা দিবস ওরা ১১ জন-সময়ের আয়নায় | Probe News

harun final.png

 শফিক রহমান, প্রোব নিউজ: ১৯৭১সালের ২৫শে মার্চ মধ্য রাতে বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হায়েনারা। আর সে রাতেই মুক্তি পাগল বাঙালি গড়ে তোলে প্রতিরোধ সংগ্রাম। নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগের বিনিময়ে একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। আর মুক্তির রণাঙ্গন ফেরত টসবগে একদল তরুণ নির্মাণ করে চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম এ Chashiচলচ্চিত্রের সেই আলোচিত নায়কেরা এখন কেমন আছেন? কোথায় আছেন? প্রোবনিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ প্রশ্নের জবাব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে ওরা ১১ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে চারজন মারা গেছেন। বাকি সাতজনের একজন রাজনীতিতে সরব থাকলেও পর্দার আড়ালে রয়েছেন অন্যরা। চলচ্চিত্রটির পরিচালক, প্রযোজক ও কলাকুশলীরা জানিয়েছেন এসব তথ্য।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ চলচ্চিত্রে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন- খসরু, কাজী ফিরোজ রশীদ, মঞ্জু, হেলাল, অনিল, আবু, আতা, বেবী, মুরাদ, আলতাফ ও সিদ্দিক জামাল নান্টু। এরা সবাই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে মুক্তি যুদ্ধ শেষ হলেও নতুন এক যুদ্ধে নামেন সেই সময়ের এই তরুনরা। নির্মাণ করেন ‘ওরা ১১ জন’। চলচ্চিত্রটির পরিচালকের ভূমিকায়ও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা চাষী নজরুল ইসলাম, যিনি পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।
জানা গেছে, ১১ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে মারা গেছেন বেবী, নান্টু, মুরাদ ও আলতাফ। ১৯৭৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আলতাফ। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ‘ওরা ১১ জন’সহ প্রায় ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। আর সিদ্দিক জামাল নান্টু অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছিলেন। ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নান্টুও মারা যান।
জানা যায়, বাকি সাতজনের মধ্যে আবু, আতা, অনিল, মঞ্জু’র খবর কারোই জানা নেই। শান্তিনগরে হোটেল ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন হেলাল। আর খসরু? এক নামে যাকে এই200px-Ora_Egaro_Jon রাজধানীতে চিনতো ছোটবড় সবাই, সেই খসরু এখন নীরবে-নিভৃতে একাকী জীবন যাপন করছেন। এক সময়কার বন্ধুরাও তার খোঁজ নেন না।
জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খসরু ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র ছিলেন। সক্রিয় ছিলেন ছাত্রলীগের সঙ্গে। পরে মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন খসরু। সদ্য যুদ্ধফেরত দুই তরুন খসরু ও মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) সম্মুখ যুদ্ধের সেই অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরতে এমন একটি মাধ্যমের কথা তারা ভাবছিলেন, যাতে করে একসঙ্গে দেশ-বিদেশের অনেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও যা হয়ে থাকবে একটি প্রামাণ্য দলিল। অন্যদিকে, চাষী নজরুল ইসলামও এমন একটি ভাবনা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এই তিন জন সিদ্ধান্ত নিলেন সেই মাধ্যমটি হবে চলচ্চিত্র। ১৯৭২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের জয়দেবপুরে শুরু হয় ‘ওরা ১১ জন’এর শ্যুটিং। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রিয় চরিত্রেই অভিনয় করেন খসরু।
জানা গেছে, ‘ওরা ১১ জন’ ছাড়াও সংগ্রাম, নকল মানুষ, বাদশা এবং রাজার হলো সাজা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন খসরু। চাষী নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি হয় খসরুর। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি এখন পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
তবে ১১ জনের মধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন কাজী ফিরোজ রশীদ। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বিরোধীদলীয় এমপি। এর আগে এরশাদের আমলে তিনি ডাক ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৭২ সালের ১৩ই আগস্ট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ সারা দেশের ২৫টি সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পায় ‘ওরা ১১ জন’।
চলচ্চিত্রটির নামকরণ প্রসঙ্গে চাষী নজরুল বলেন, ‘আমরা জন্ম থেকেই ‘১১’ সংখ্যাটির সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত ছিলাম। দেখেছি, ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন। এর পরে যুক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর। তাই ছবির নামকরণেও ‘১১’ সংখ্যাটি রাখতে চেয়েছি’।
তিনি আরো জানান, চলচ্চিত্রটির প্রযোজকের ভূমিকায় মাসুদ পারভেজের নাম থাকলেও অর্থায়ন করেছে স্টার ফিল্ম করপোরেশনের ইফতেখার আলম কিসলু। এছাড়া চলচ্চিত্রটির কাহিনীকার ছিলেন আল মাসুদ। চিত্রনাট্যকার ছিলেন কাজী আজিজ আহমেদ। আর চিত্রনাট্যে সংলাপ বসিয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। এটিএম শামসুজ্জামানই ওই চলচ্চিত্রে রাজাকারের ভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র জগতে এটিএম শামসুজ্জামান অপ্রতিদ্বন্দ্বি খলনায়কের খ্যাতি অর্জন করেন। আর সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন খন্দকার নূরুল আলম, প্রধান চিত্রগ্রাহকের ভূমিকায় ছিলেন এম এ সামাদ এবং সম্পাদনায় ছিলেন বশির হোসেন।
ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। চাষী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ছবিতে অন্যান্য কলাকুশলী ছিলেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, সুমিতা দেবী, রওশন জামিল, খলিল, রাজু আহমেদ, মিরানা জামান প্রমুখ।
প্রোব/শর/জাতীয়/ ২৫ মার্চ ২০১৪

২৫ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২১:৪৮:২৪ | ১০:৫০:৪৬

জাতীয়

 >  Last ›