A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা অনিয়ম নির্বাচন কমিশন কি জবাব দেবে | Probe News

Vote Counting 2.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: নির্বাচন কমিশন আশ্বস্থ করেছিল চতুর্থ ধাপের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ এবং যে কোন মূল্যে তারা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করবে। এজন্য আগেরদিন সেনাবাহিনীকে চিঠিও দিয়েছিল ইসি। যাতে করে সেনাবাহিনী বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব উদ্যোগ কোনটাই কাজে আসেনি।
সেনাবাহিনী আদৌ মাঠে ছিলনা কিনা, বা মাঠে থাকলেও তাদেরকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল কিনা এ প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং নির্বাচনী কাজে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে আর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোন সম্ভানা নেই। তারা এও বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এবারের উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেটাই প্রমাণিত হল।
ভোটের আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, জাল ভোট, কেন্দ্র দখলসহ ব্যাপক অনিয়ম, সংঘর্ষ , সহিংসতা ও হত্যাকা-ের মধ্যদিয়ে চতুর্থ দফায় সম্পন্ন হল ৯১টি উপজেলায় নজিরবিহীন নির্বাচন । নির্বাচনী সহিংসতা ও পুলিশের গলিতে নিহত হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১ জন, ঝালকাঠীর রাজাপুরে ১ জন এবং কুমিল্লার বরুড়ায় ১জন নিহত হয়েছেন। এর আগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে নিহত হয়েছিল তিনজন। এ নিয়ে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো সাত-এ।
তৃতীয় ধাপে নির্বাচনী সহিংসতার পর ২৩ মার্চের নির্বাচন নিয়ে শংকা বিরাজ করছিল প্রার্থীসহ ভোটারদের মাঝেও। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের আরো সক্রিয় ও জোরালো ভ’মিকার দাবিও এবং সিইসির অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু রোববারের নির্বাচনে অনিয়ম সংহিসংতা ঠেকাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
এ ব্যাপারে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেন (অব.) প্রোবনিউজকে বলেন, ‘ সুষ্ঠু নির্বাচন করার দায়িত্ব কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের উপর বর্তায় না। এ দায়িত্ব ক্ষমতাসীন দলেরও। প্রধানমন্ত্রী তো বলেছিলেন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে, অথচ নজিরবিহীন অনিয়ম ও সহিংসতা হল।’ তিনি বলেন, এটা সত্যি, প্রথম থেকেই পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণ থাকেনি। তারা কন্ট্রোল লুজ করে ফেলেছিল। এখন আর কঠোর হতে পারছে না।ক্ষমতাসীন দলের উপর ইসির আরো কন্ট্রোল থাকা উচিৎ ছিল।’
এ প্রসঙ্গে সুশাসেনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন আবারো ব্যর্থ হল। তারা এব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে পারেনি। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।’
এদিকে রোববারের নির্বাচনে ৯টি উপজেলায় ভোট বর্জন করেছে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। নির্বাচন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ৪৬টি উপজেলায় ভোট কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে দলটি । যদিও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, ‘আগের চেয়ে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে’।
তবে বিএনপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় ইসির বক্তব্যে। ইসি থেকে বলা হয়েছে, ‘চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে কিছু সহিংসতা ও কিছু গোলযোগ হয়েছে’। ভোট গ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক জানিয়েছেন,‘ সহিংসতা, গোলযোগ, ভোটদানে বাধা, ব্যালট ছিনিয়ে সিল মারা, অগ্নি সংযোগ ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে’।
বিএনপির ভোট বর্জন প্রসঙ্গে ব্রি. জে. এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) বলেন, ‘ভোট বর্জন কোন নির্বাচনী সংস্কৃতি হতে পারে না। এতে করে বিএনপির এখন আর আইনি চ্যালেঞ্জের ভিত্তি থাকল না’।
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাই এনিয়ে কিছু না বলাই ভাল। তবে সাধারণত নির্বাচন চলাকালে অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সেজন্যই তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানান কথা উঠেছে। আশা করি, দেশে ফিরে এসে উনি বিষয়টি পরিস্কার করবেন’।
বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ইসির নেয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ কেবল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। বাস্তবে কোন কাজে আসেনি। তার সেনাবাহিনীকেও চিঠি দিয়েছিল। এই চিঠির কোন অর্থ নেই। কারণ,স্ট্রাাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীকে আসলেই কোন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে কিনা, তা পরিস্কার নয়’।
নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দীন খান প্রোবনিউজকে বলেন, ‘আর্মিকে ক্ষমতা দেয়া না হলে তারা কাজ করে না। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কতটা আন্তরিক ছির তাও আমরা জানি না।’ তিনি বলেন, ‘ তবে এ কথা এখন পরিস্কার যে ভবিষ্যতে আর কোন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা নেই। কমিশন পদে পদে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে’।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে যে সূষ্টু নির্বাচন হবে না এবারের উপজেলা নির্বাচনে সেটাই প্রমানিত হলো।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন চতুর্থ দফায় ৯৩টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শেরপুরের সদর উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
চতুর্থ ধাপের ৯৩টি উপজেলায় মোট এক হাজার ১৮৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৮৯ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩১২ জন। এসব এলাকায় মোট ভোটার এক কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ১০২ জন, নারী ভোটার ৭১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪২ জন।
প্রোব/পার/জাতীয়/২৪.০৩.২০১৪

২৪ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১২:১৪:৪২ | ২০:২৫:৩৫

জাতীয়

 >  Last ›