A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘দণ্ডমুক্তি সূচকে ব্লগার হত্যার প্রতিফলন’ | Probe News

‘দণ্ডমুক্তি সূচকে ব্লগার হত্যার প্রতিফলন’

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) প্রকাশিত ২০১৫ গ্লোবাল ইমপিউনিটি ইনডেক্সে (বৈশ্বিক দণ্ডমুক্তি সূচক) স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্লগার আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই র্যাং কিংয়ে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ‘দণ্ডমুক্তির সংস্কৃতি’ সঠিকভাবে উঠে এসেছে। ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষামূলক সংগঠন সিপিজে বৈশ্বিক এ সূচকটি প্রকাশ করে। সূচকে ১৪ টি রাষ্ট্রের তালিকা করা হয়েছে যে দেশগুলোতে এক দশকে কমপক্ষে ৫ জন সাংবাদিক হত্যার ঘটনা অমিমাংসীত রয়ে গেছে। সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০০৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১শে আগস্ট। সূচকের শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া। এরপরই ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিপাইন। বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম।

সিপিজে’র এশিয়া কার্যক্রম গবেষণা অ্যাসোসিয়েট সুমিত গালহোত্রা বলেন, ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো এ সূচকে এসেছে বাংলাদেশে। এর কারন হলো, আগের বছর সাংবাদিক ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে এবং হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে দেশটির অক্ষমতা বা অনিচ্ছা। ভয়েস অব আমেরিকাকে গালহোত্রা আরও বলেন, ‘সূচকে বাংলাদেশ আসার একমাত্র কারণ ব্লগার হত্যা নয়। প্রিন্ট মিডিয়া সহ সাংবাদিকতার ঐহিত্যগত অন্যান্য মাধ্যমের কর্মীরাও গত দশকে হত্যার শিকার হয়েছেন। আর হত্যাকারীরা শাস্তির বাইরে রয়ে গেছে। তবে তালিকায় বাংলাদেশকে ঠেলে দেয়ার পেছনে ব্লগার হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

ইব্রাহিম খলিল সবাক নামের এক বাংলাদেশী ব্লগার বলেন, ব্লগার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। আর বাংলাদেশে হত্যাকারীরা পার পেয়ে যায়- বৈশ্বিকভাবে দেশটি এভাবে চিহ্নিত হওয়াটা যথার্য। ভয়েস অব আমেরিকাকে সবাক বলেন, ‘বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষগুলো ব্লগারদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কয়েকজন ব্লগার নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে মামলাগুলো তদন্তও করছে না। এটা বিশ্বজুড়ে সবার জানা।’

এ বছর সন্দেহভাজন ইসলামপন্থীদের হাতে বাংলাদেশে চার জন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার নিহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশি-মার্কিন ব্লগার ও লেখক অভিজিত রায়কে ঢাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মার্চ ও আগস্ট মাসের মধ্যে আরও তিনজন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার শিকার হন। এরা হলেন- ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস ও নিলাদ্রী চ্যাটার্জি।

সিপিজে তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাংলাদেশে গত এক দশকে অমিমাংসীত ৭ টি হত্যাকান্ডের মধ্যে হত্যার শিকার ৫ জনই ব্লগার যারা ধর্মীয় উগ্রবাদের সমালোচনা করতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর নামেমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ এসব অপরাধের ন্যায়বিচারের জন্য সামান্যই সরব হয়েছে। এতে আইনের শাষনের বদলে প্রাধান্য পাচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থ।’

বাংলাদেশ পুলিশ বলেছে, ব্লগার হত্যাকাণ্ড গুলোর পেছনে ছিল স্থানীয় কট্টরপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)। পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে এবিটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করলেও কোন মামলার এখনও সমাধা হয় নি। প্রধানত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে, ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের ইসলাম-বিদ্বেষী বলে বিবেচনা করা হয়। ইসলামপন্থী কয়েকটি গ্রুপ নাস্তিক ব্লগারদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল। আগস্ট মাসে বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান বলেছিলেন, ব্লগারদের লেখা মানুষের অনুভুতিতে আঘাতের কারণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, পুলিশ প্রধান যখন ব্লগারদের ওপর হামলার জন্য ব্লগারদেরই দায়ী করেন, তখন এসব হত্যাকাণ্ড সমাধা করতে সরকারের সংকল্পের অভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। ভয়েস অব আমেরিকাকে রবার্টসন বলেন, ‘ব্লগারদের লেখার বিষয়বস্তুকে প্রশ্ন করার পরিবর্তে আইজিপির উচিত ছিল শুধু তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্মত না হওয়ার কারণে যারা হত্যা করেছে তাদের খুঁজে বের করা ও গ্রেপ্তার করার জন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া। তিনি আরও বলেন, এসব হত্যাকান্ড মামলায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কোন অংশে কম জঘন্য নয়। আর এটা একটি বার্তা যা মানবাধিকার নিয়ে সতর্ক উন্নয়ন দাতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কাছে অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে।’

ব্লগারদের ওপর হামলা নিয়ে জনসমক্ষে খুব কমই বক্তব্য রেখেছে শেখ হাসিনার সরকার। সম্প্রতি দুই বিদেশী হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী দোষ চাপিয়েছেন বিরোধী দলগুলোকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখার জামান বলেন, হত্যাকাণ্ড গুলো নিয়ে কথা বলতে সরকারের অনিচ্ছা এবং হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সামান্য অগ্রগতি একটি উদ্বেগজনক রীতির প্রতিফলন। ভয়েস অব আমেরিকাকে তিনি আরও বলেছেন, ‘গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের হেফাজতে মৃত্যুর নানা ঘটনা এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একটি অংশের দ্বারা অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ বেড়েছে। এর পেছনে আংশিক কারণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করার রীতি (ডিনাইয়াল সিনড্রোম)। আর আংশিক কারণ হলো এসব সংস্থার কয়েকটিতে বৃদ্ধি পাওয়া রাজনীতিকরণ। এর ফলে তাদের ওপর আরোপিত কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তাদের পেশাদার দক্ষতা, সামর্থ্য আর সততা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে হচ্ছে। পেশাদারিত্ব নষ্ট করা আর আইনপ্রয়োগকারীদের আইনভঙ্গকারীতে পরিণত করার পেছনে দায়ীদের যথেষ্ট কর্তৃত্বের সঙ্গে বিচারের আওতায় আনা আনার উদাহরণ খুবই কম।’

ব্লগারদের মধ্যে আপাতত সন্দেহ রয়েছে যে, তাদের ওপর চালানো অনেক হামলা রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা অনুপ্রাণিত। হত্যাকাণ্ড গুলোর পর কমপক্ষে ১২ জন ব্লগার জীবনের আশঙ্কায় বিদেশে পালিয়ে গেছেন। হত্যা মামলাগুলোর তদন্তে সামান্য অগ্রগতি আর এ ইস্যুতে সরকারের সাধারণ নিরবতা বিবেচনায় তারা বলছেন, দণ্ডমুক্তির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রোব/পি/বিবিধ/মিডিয়া/১৫.১০.২০১৫

 

১৫ অক্টোবর ২০১৫ | বিবিধ | ১৩:১৭:১৪ | ১৫:১০:১৮

বিবিধ