A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

জয়ের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া দুই দল | Probe News

upo election.JPGপ্রোবনিউজ, ঢাকা: চতুর্থ পর্বে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৯১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। তৃতীয় পর্বের সহিংসতার ধারাবাহিকতায় রোববারের নির্বাচন নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সহিংসতার আশঙ্কা করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ভোটার এমনকি ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ প্রার্থীরাও। গত তিন পর্বের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদে প্রথম দুই পর্বে chart2.jpgবিএনপি এগিয়ে থাকলেও তৃতীয় পর্বে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে। তাই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে উভয় পক্ষই মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। দুদলের নেতাদের বিবৃতি ও বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, রোববারের নির্বাচনে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না।
উপরন্তু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছুটিতে থাকায় তৃতীয় পর্বের নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ইসি তেমন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় চতুর্থ পর্বের নির্বাচন নিয়ে এই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এপর্যন্ত ৩ ধাপে মোট ২৯৫টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি’র ১২৩ এবং আওয়ামী লীগের ১১৭ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছের। জামায়ত ২৯ এবং স্বতন্ত্র ও অন্যন্য দলের ২৩ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। ৩ ধাপের নির্বানে আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির চেয়ে ৬টি পদে পিছিয়ে আছে। আর বিএনপি প্রথম ধাপে যে ব্যবধান তৈরি করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তা ধরে রাখতে পারেনি। তাই দুই দলই চতুর্থ ধাপের নির্বাচন নিয়ে মরিয়া।
রোববার ৪৩ জেলার ৯১ উপজেলায় ভোটের লড়াই হবে। এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংকটে রয়েছে দুই দলই। জানা যায়, ৩৮টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের এবং ৩৭ উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি। এ নিয়ে দু দলেই বহিস্কারের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও জামায়াতের সঙ্গে এই নির্বাচন নিয়ে এিনপি’র বিরোধ তৈরি হয়েছে। কারণ, জামায়াতেরও প্রার্থী রয়েছে বেশ কিছু উপজেলায়। এর সুবিধা পেতে পারে আওয়ামী লীগ।
প্রথম ধাপে নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে এসে শুরু হয় ব্যাপক অনিয়ম। ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল করা, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটরদের কেন্দ্রে আসতে বাঁধা দেয়া নির্বচনের পরিবেশকে ঘোলাটে কওে দেয়। নির্বাচনী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে ১ জন এবং তৃতীয় ধাপে ৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রধম ধাপে ৬৫, দ্বিতীয় ধাপে ১০০ এবং তৃতীয় ধাপের ২০০ কেন্দ্রে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তৃতীয় ধাপে তাই ৩ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। বিএনপি অভিযোগ করেছে, চতুর্থ পর্বের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও প্রার্থীদেও অনুসারীদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অপরদিকে, আওয়ামী আওয়ামী লীগের অভিযোগ, জামায়াত-বিএনপি সংঘবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস করছে। তবে রোববারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে শুক্রবার সকাল থেকেই ৯১ উপজেলা সদরে অবস্থান নিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। যদিও ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও গোলযোগ হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীকে তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। ‘এটা মূলত নির্বাচন কমিশনেরই ব্যর্থতা’ বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দীন খান।
তৃতীয় পর্বের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও সহিংসতা হয়েছে। নির্বচনী সংঘর্ষে ২ জন এবং পুলিশের গুলিতে ১জন নিহত হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রসঙ্গে প্রোবনিউজকে বলেন, ক্ষমতাসীন দল সন্ত্রাস ও ভোট জালিয়াতির আশ্রয় না নিলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি অনেক বেশি আসনে বিজয়ী হবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রোবনিউজকে জানান, ‘প্রথম পর্বের নির্বাচন ছাড়া বাকি দুটিতে চরম বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হলে এর ফলাফল ভিন্ন রকম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনিয়ম ও সহিংসতা এড়াতে দেশে সিইসির উপস্থিতি কাম্য ছিল।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মোট উপজেলা ৪৮৭টি। প্রথম তিন ধাপে ২৯৫টির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ৯১টি উপজেলার নির্বাচনের পর আর বাকি থাকছে ১০১টি উপজেলার নির্বাচন ।
প্রোব/পার/জাতীয়/ ২২.০৩.২০১৪

 

২২ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:২৭:২০ | ১৭:৪৮:৫৫

জাতীয়

 >  Last ›