A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

এবার সরকারের কাছে ১,০০০ কোটি টাকা ঋণের দাবি | Probe News

Jubok Pix.jpgপ্রোব নিউজ, ঢাকা: বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৮ বছর পর ‘যুবক’ প্রতারিত গ্রাহকদের এবার টাকা ফেরত দিতে চায়। একথা তারা সরকারকেও জানিয়েছে। তবে এরমধ্যেই আছে নতুন আরেক শর্ত। আর তাহল তাদের এক হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দিতে হবে। সরকার এর কোন জবাব এখনো দেয়নি। তবে যুবক কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যুবকের প্রণোদনা ঋণের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তারা চাইলে নিজেদের সম্পদ থেকেই দেনা শোধ করতে পারে।
Jubok Pix 3.jpgগেল ১৬ মার্চ যুবক’র নির্বাহী পরিচালক হোসাইন আল মাসুম অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে দেয়া চিঠিতে বলেছেন, ‘জেল-জুলুম, অপমান আর নানা ভাবে হয়রানি সত্বেও আমরা পালিয়ে যাইনি। বরং দায়-মুক্ত হবার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা চলতিবছরে দায় দেনা শোধ করতে চাই। আর এজন্য আমাদের এক হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দেয়ার ব্যবস্থার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ পাশাপাশি যুবক’র সদস্যদের পাওনা পরিশোধের ইস্যুটিকে একটি সামাজিক ইস্যু হিসেবে বিবেচনায় এনে সামাজিক ভাবেই নিরসনের অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
এজন্য যুবক বিষয়ক প্রথম তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে এবং যুবক বিষয়ক দ্বিতীয় তদন্ত কমিশন এর চেয়ারম্যান সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম ও কমিশনের অপর সদস্য মো. মজনুল আহসানসহ যুবকের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব করেছে যুবক। এরও আগে গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দিতে এবং সংস্থাটির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য যুবক-এ প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করেছিল যুবক কমিশন। তবে এর কোন ক্ষেত্রেই অগ্রগতি নেই বলে অর্থমন্ত্রণালয় ও যুবক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে সরকারের কাছ থেকে যুবক’র এক হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা ঋণের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি প্রোবকে বলেন, ‘তদন্তকালে যুবক’র প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে যুবক’র কাছে গ্রাহকের পাওনা ছিল প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে।’ তাই যুবকের দায় তাদের সম্পদ দিয়েই শোধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন যুবক বিষয়ক প্রথম তদন্ত কমিশনের এই চেয়ারম্যান।
এদিকে চলতি বছরের মধ্যে গ্রহকদের পাওনা শোধের মাধ্যমে যুবকের দেনার হার একটি সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে বলে দাবি করছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হোসাইন আল মাসুম। তিনি প্রোবকে জানান, ২০১৪ সালের মধ্যে যুবক হাউজিং প্রকল্পের প্রায় এক হাজার ৫০০টি প্লট গ্রাহকদের মাঝে রেজিস্ট্রি প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকার দায় সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যুবক সংশ্লিষ্ট কোম্পানীগুলোর শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার দায় সমন্বয় করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে যার ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব জমা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগের দুই বছরে অর্থাৎ ২০১২ ও ২০১৩ সালে গ্রাহকদের মাঝে জমি ও প্লট রেজিষ্ট্রি প্রদান এবং নগদ অর্থের মাধ্যমেও সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার দায় সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান হোসাইন আল মাসুম। এছাড়া বর্তমানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও বেশী ক্ষতিগ্রস্ত এমন পাঁচ হাজার জনকে মাসিক কিস্তিতে নগদ টাকা প্রদান করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন যুবকের নির্বাহী পরিচালক।
তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে যুবক কমিশন। গেল বছরের ৫ মে অর্থমন্ত্রণালয়ে কমিশনের দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কমিশনের এ বক্তব্যের সঙ্গে এক মত নয় যুবক। সংস্থাটির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৬ সালে যুবক’র সদস্যদের বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। ‘লভ্যাংশসহ ফেরত দিতে হবে’-বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনা মানতে গিয়েও দেনার পরিমান কোন ভাবেই এক হাজার ২০০ কোটি টাকার ওপরে নয় বলে দাবি করেছেন হোসাইন আল মাসুম।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরনের মাধ্যমে যুবক কার্যক্রম শুরু করে। এর পরের প্রায় এক দশকের মধ্যে ৩৫টি শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে সংস্থাটি। তবে সব কিছুর মূলে ছিল লোভনীয় লভ্যাংশে গ্রাহকের মেয়াদী আমানত গ্রহন। অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা তদন্তে যা ২০০৬ সালে ধরা পড়ে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ওই সময়সীমা ২০০৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা শোদ দিতে পারেনি যুবক।
এর পরে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তার তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরের বছরের ৫ মে সাবেক যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলামেক প্রধান করে দুই বছরের জন্যে দুই সদস্যের স্থায়ী কমিশন গঠন করে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ঠিক দুই বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৫ মে কমিশন প্রতিবেদন দাখিল করে মন্ত্রণালয়ে। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে যুবক-এ প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও যুবকের নিবন্ধন বাতিল, গ্রাহকদের আইনি সহায়তা প্রদান, সম্পত্তি উদ্ধারের আইন সংশোধন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের ওই প্রতিবেদনে।
যুবক-এর সদস্য সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। তারা যুবকের কাছে নানা আশায় অর্থ দিয়ে লাভতো দূরের কথা আসলই পাননি। অনেকে নি:স্ব হয়ে গেছেন। তাদের কথা যেকোন উপায়ে তারা যেন তাদের টাকা ফেরত পান।
প্রোব/শর/জাতীয়/ ২০ মার্চ ২০১৪

২০ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৪৮:০৯ | ১৮:৪৯:৪১

জাতীয়

 >  Last ›