A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দাবি না মানলে ‘কঠোর কর্মসূচির’ হুমকি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের | Probe News

দাবি না মানলে ‘কঠোর কর্মসূচির’ হুমকি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

প্রোবনিউজ, ঢাকা: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা এবং প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণের দাবিতে ক্লাস বন্ধ রেখে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, দাবি পূরণ না হলে ‘আরও কঠোর’ কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হবেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের ডাকে রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। এ সময় শিক্ষকরা সমাবেশ, স্বাক্ষর সংগ্রহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

সপ্তম বেতন স্কেলে সচিব, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও মেজর জেনারেল পদের কর্মকর্তাদের এক নম্বর গ্রেডে রাখা হলেও প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের বেতন আগের তুলনায় তিন থেকে চার ধাপ নেমে গেছে।

বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ মে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে সচিব কমিটি এই কাঠামো সুপারিশ করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। নতুন কাঠামোতে এই ‘অবনমনের’ প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে গত তিন মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

তাদের বাকি দাবিগুলো হল- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ঘোষণা; সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবদের সমান করা, অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সচিবের সমতুল্য করা এবং সহযোগী, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতন কাঠামো ক্রমানুসারে নির্ধারণ।

দেশে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় এ বিদ্যাপিঠের শিক্ষকরা আগের ঘোষণা অনুযায়ী ক্লাস বন্ধ রেখে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে জড়ো হন। চার দফা দাবিতে সেখানে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়, যাতে সই করেন সাতশরও বেশি শিক্ষক। পরে সেখানেই একটি সমাবেশে যোগ দেন তারা, যাতে সব পক্ষের শিক্ষকরাই ছিলেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সমাবেশে বলেন, “আজ ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগপৎ আমাদের এই কর্মসূচি চলছে। আমাদের দাবি যদি মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

তিনি জানান, আগামী রোববারও তারা একই কর্মসূচি পালন করবেন। শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংবলিত দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একে এম নূর-উন-নবীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এসে শিক্ষকদের এ কর্মসূচিতে এসে সংহতি প্রকাশ করেন।

রোববার বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসুচি পালক করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যা্লয়ের শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “যদি আমাদের দাবি না মানা হয়, তাহলে এটা (কর্মসূচি) আর তিন ঘণ্টা থাকবে না; লাগাতার ধর্মঘটে পরিণত হবে। আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে ধর্মঘট চালিয়ে সেশনজট বাড়াতে চাই না। কিন্তু আমাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি দ্রুত মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “আগামীকাল মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে আমাদের এই বেতন কাঠামো নিয়ে যদি কোনো সুরহা না হয়, তাহলে আগামী ২৩ অগাস্ট রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।”

অন্যদের মধ্যে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাতিল সিরাজ, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রাণিবিদা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। পাবনা প্রতিনিধি জানান, চার দফা দাবিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রোববার একই কর্মসূচি পালন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আওয়াল কবির জয়, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।

প্রোব/পি/জাতীয়/১৬.০৮.২০১৫

 

 

১৬ আগ্‌স্ট ২০১৫ | জাতীয় | ১৫:৩১:২৩ | ১২:৫৭:২০

জাতীয়

 >  Last ›