A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

যুগে যুগে পরাশক্তির উপনিবেশ ক্রিমিয়া | Probe News

প্রোবনিউজ, ডেস্ক: আমেরিকা-রাশিয়ার শক্তির লড়াইয়ে এখন টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে কৃষ্ণসাগরের ছোট উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায়। এ মুহূর্তে বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুও ইউক্রেনের এই ভূখ-টি। এটি কার অধীনে থাকবে, এর চুলচেরা বিশ্লেষণ যখন চলছে, তখন বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির পার্লামেন্ট জানাল, তারা রাশিয়ায় বিলীন হয়ে যেতে চায়।
রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশবিশেষ হলেও সাংবিধানিকভাবে এটি Crimea_republic_map_2.pngস্বায়ত্তশাসনের অধিকার ভোগ করে। সরকারি নাম 'অটোনোমাস রিপাবলিক অব ক্রিমিয়া'। শতকের পর শতক ধরে সাম্রাজ্যবাদীদের ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের নির্মম শিকার এই অঞ্চলটি। গ্রিক-স্কিথিয়ান-বাইজেন্টাইন-জেনোয়াদের স্মৃতিচিহ্ন পাওয়া যায় ক্রিমিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে। এছাড়া বহিরাগত আক্রমণকারীদের মধ্যে ছিল গথ এবং হানরা। তবে যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করার ইতিহাস আছে তুর্কিভাষী মোঙ্গলদের। তারা স্থানীয়দের মধ্যে মিশে গিয়ে 'ক্রিমিয়ান তাতার' জাতিগোষ্ঠীর প্রবর্তন করে। 'গোল্ডেন হোর্ড' থেকে স্বাধীন হওয়ার পর এটি তুরস্কের উপনিবেশে পরিণত হয়।
অষ্টাদশ শতকে বিভিন্ন যুদ্ধ জয়ে বাড়তে থাকে রাশিয়ার প্রভাব। ১৭৭৪ সালে 'কুচুক কাইনারজি শান্তিচুক্তি'তে ক্রিমিয়া রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরের শতকেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ সালে রাশিয়া এবং ইউরোপের (ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক সংঘবদ্ধ) যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্রিমিয়া। বিংশ শতকে ক্রিমিয়া পরিণত হয় রাশিয়ান, ক্রিমিয়ান তাতার, ইউক্রেনিয়ান এবং ইহুদিদের মিলিত আবাসভূমিতে।
শিল্প-সাহিত্যে এ অঞ্চলের বেশ খ্যাতির পরিচয়ও পাওয়া যায়। ক্রিমিয়া থেকে বেরিয়ে এসেছেন অনেক বিখ্যাত রাশিয়ান কবি, লেখক ও শিল্পী। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ক্রিমিয়ায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অনেক ক্রিমিয়ান তাতার জার্মানির দোসরে পরিণত হয়। সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিন তখন এই পুরো জাতিগোষ্ঠীকেই ক্রিমিয়া থেকে মধ্য এশিয়ায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষকে ক্রিমিয়া থেকে বের করে দেয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও বিতাড়িত হয় অনেক তাতার। তবে অনেক কমিউনিস্ট নেতার সমর্থনে আশির দশকে তাতাররা আবার ক্রিমিয়ায় ফিরে আসার সুযোগ পায়। কিন্তু আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তারা সোভিয়েত বিমুখ হয়ে পড়ে। ১৯৫৪ সালে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে ইউক্রেন প্রশাসনকে 'উপহার' দেন। তখন অনেক ক্রিমিয়ার জনগণও ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। তবে উপদ্বীপটির সেভাস্টোপোল শহরে রাশিয়ান নৌঘাঁটি রেখে দেয়া হয়। নব্বইয়ের দশক থেকেই এই নৌঘাঁটি রাশিয়া-ইউক্রেনের বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়।

জোসেফ স্টালিনের কালে বিপুল রাশিয়ানকে স্থানান্তর করা হয় ক্রিমিয়ায়। সঙ্গত কারণেই বর্তমানে ক্রিমিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই রাশিয়ান। ২০০১ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ক্রিমিয়ার মোট জনসংখ্যার ১২ লাখ রাশিয়ান, ৫ লাখ ইউক্রেনিয়ান এবং আড়াই লাখ ক্রিমিয়ান তাতার।
বর্তমানে ক্রিমিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ এই রুশ জাতিগোষ্ঠীই তাদের নিজস্ব পার্লামেন্টের কাছে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটের মধ্য দিয়ে নিজেদের স্বাধীনতার কথা জানিয়েছে। যুক্ত হতে চাইছে রাশিয়ার সঙ্গে। তবে ক্রিমিয়ার সংখ্যালঘু ইউক্রেনিয়ান এবং ক্রিমিয়ান তারতাররা এর বিরোধিতা করছে।

প্রোব/বান/আন্তর্জাতিক ১৮.০৩.২০১৪

১৮ মার্চ ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ২১:৫২:৪৩ | ১৩:২২:১০

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›