A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

জামায়াতের জনপ্রিয়তার জরিপ উপজেলায় ট্রাইব্যুনালের ১০ আসামীর এলাকায় প্রার্থী | Probe News

highcourt.jpgপ্রোব নিউজ, ঢাকা: এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলের বর্তমান প্রতিকূল অবস্থাকে স্বাভাবিক করতে নির্বাচনের মাঠে প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্তদের কারণে ভোটরদের কাছে জামায়াতের ইমেজ নষ্ট হয়েছে কী-না সে জনমত যাচাই করতে চাই তারা। তাই তাদের নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত-সমঝোতা করেনি বিএনপি’র সঙ্গে।

অন্যান্য উপজেলায় বিএনপির সাথে সমঝোতায় এলেও এসব উপজেলায় কোন ধরনের সমঝোতা ছাড়াই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই মনোভাবের কথা। অবশ্য এর মধ্যে প্রথম দুই ধাপে কয়েকটি উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

nijami1.jpgজামায়াতের বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমানের উপজেলা পাবনার সাথিয়া। এই উপজেলা নির্বাচন হয়েছিলো প্রথম দফায়। এই উপজেলাও বিএনপির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। এবং ৩টি পদেই বিজয়ী হয় জামায়াত প্রার্থীরা। এরমধ্যে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়ন জামাতের আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমান।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ি ট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন মামলার আসামি জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের। এখানেও ৩টি পদেই জামায়াত প্রার্থী দেয়। এই উপজেলার নির্বাচন হয় দ্বিতীয় দফায়। বিএনপি জামায়াতের সমঝোতাহীনতার কারণেই এই উপজেলায় জামায়াত-বিএনপি দুই দলের প্রার্থীই হেরে যায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে।

Golam-Azam.jpgখোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৯৯ বছর কারদন্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের উপজেলা ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর। এই উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। জামায়াত সমর্থিত ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম- এ্যাড. আশরাফুল আলম। এই উপজেলায় নির্বাচন হবে তৃতীয় ধাপে আগামী ১৫ই মার্চ।

abdus-sobhan.jpgট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন মামলার আসামি জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহানের বাড়ি পাবনার সদর উপজেলায়। এই উপজেলায় নির্বাচন হবে ৫ম ধাপে ৩১শে মার্চ। এই উপজেলায়ও বিএনপির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। জামায়াত সমর্থিত ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ডা. আব্দুল বাসেত।


Quader-Mollah.jpgমৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বাাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। এই উপজেলায় বিএনপির সাথে সমঝোতায় এসে চেয়ারম্যন পদটি ছেড়ে দিলেও ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রেখে দিয়েছে জাামায়াত। এছাড়া ফরিদপুরের সদর উপজেলায় বাড়ি মৃতুদন্ড প্রাপ্ত আরেক জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের। ওই উপজেলায় জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব। তৃতীয় দফায় আগামী ১৫ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এই উপজেলার নির্বাচন।

saidi1.jpgমৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আরেক জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোওয়ার হসোন সাঈদীর বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায়। এই উপজেলায় জামায়াতের পক্ষ হয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বয়ং সাঈদির ছেলে মাসুম সাঈদী। এই উপজেলায় নির্বাচন হবে ৪র্থ দফায় আগামী ২৭শে মার্চ। চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জনগন ন্যায়ের পক্ষে দাড়াবে। তাই জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি অনেকটাই আশাবাদি।’
বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে মাসুদ সাঈদী বলেন,‘ আমি কখনোই সেই অর্থে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তবে এতটুকু বলতে পারি আমি আদর্শগতভাবে বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী। সময় বলে দিবে ভবিষ্যতে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবো কি না।’

kam.jpgমৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামরুজ্জানের বাড়ি শেরপুরের সদর উপজেলায়। সীমানা নির্ধারন নিয়ে জটিলতা থাকায় এই উপজেলার নির্বাচন আপতত স্থগিত রয়েছে।

mirএদিকে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার আসামি জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুর হলেও ওই এলাকায় তার সম্পৃক্তা নেই। তার ব্যবসা ও রাজনীতি সবকিছুই গড়ে উঠেছে চট্রগ্রামে। এমনকি ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত হরিরামপুরের অনেকেই জানতো না মীর কাশেম আলী সম্পর্কে। এই উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপি যৌথভাবে কাজ করেছে বিএনপি প্রার্থীর জন্য। সেখানে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে বিএনপির প্রার্থী।

জামায়াত নেতা ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘শতবাধা ও সরকারের জুলুম নির্যাতন সত্ত্বেও জাময়াত প্রার্থীদের বিজয় প্রমাণ করে জামায়াত নেতাদের নামে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর জনগণ সেটা বিশ্বাস করেনা বলেই জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।’

একনজরে ট্রাইবুন্যালের আসামি জামায়াত নেতাদের এলাকার নির্বাচন

JAMAAT_LOGO.jpgট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় আসামি জামায়াত নেতার সংখ্যা- ১০জন। তাদের মধ্যে
সাবেক আমীর গোলাম আযমের উপজেলা ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়।
বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমানের উপজেলা পাবনার সাথিয়া উপজেলায়।
নায়েবে আমীর দেলোওয়ার হসোন সাঈদীর বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায়।
সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বাড়ি ফরিদপুরের সদর উপজেলায়।
নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহানের বাড়ি পাবনার সদর উপজেলায়।
সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বাাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়।
সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারের রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায়
সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কামরুজ্জানের বাড়ি শেরপুরের সদর উপজেলায়
নির্বাহী পরিষদ সদস্য জেনারেল মীর কাশেম আলীর জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুর
সিনিয়র নায়েবে আমীর একেএম ইউসুফের বাড়ি খুলনা শহরে। তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরমধ্যে বিচারাধীন এবং দন্ডপ্রাপ্ত ৭ জামায়াত নেতার উপজেলায় জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে।
মতিউর রহমান নিজামীর এলাকা পাবনার সাথিয়া উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানসহ ৩টি পদেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
তবে এটিএম আজহারের রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ৩টি পদেই হেরে গেছে জামায়াত।
বাকি ৫টি উপজেলায় সবগুলোতেই জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে। শুধু ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বিনএপিকে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত।
প্রোব/জাতীয়/ হার/১৩.০৩.২০১৪

১৩ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৫৬:১৫ | ১৮:০৩:৫৮

জাতীয়

 >  Last ›