A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘যৌক্তিক পরিণতি’ পর্যন্ত আন্দোলন: খালেদা | Probe News

Khaleda Zia Mar 13‘যৌক্তিক পরিণতি’ পর্যন্ত আন্দোলন: খালেদা

প্রোবনিউজ, ঢাকা: তিপ্পান্ন দিন পর নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে ‘যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত’ আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

‘যৌক্তিক পরিণতিতে’ না পৌঁছানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ‘কষ্ট স্বীকার করে হলেও বৃহত্তর স্বার্থে’ এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে ডাকা টানা অবরোধের ৬৭তম দিনে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, যার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

তিনি বলেন, “শ্বাসরূদ্ধকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং একের পর এক উসকানিমূলক আচরণ করে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানো হচ্ছে। কাজেই যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছানো না পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”

সরকারের দমন-পীড়ন ‘জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত’ করেছে মন্তব্য করে দেশকে ‘ধ্বংসের হাত থেকে’ রক্ষায় তিনটি দফায় পুরনো দাবিগুলোই নতুন করে তুলে ধরেন ২০ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা ।
খালেদা জিয়া সমস্যা সমাধানে যেসব দাবি তুলে ধরেন সেগুলো হলো-গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, পুলিশি ও যৌথবাহিনীর ‘হয়রানি’ বন্ধ করা এবং হয়রানিমূলক সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিচারবহির্ভূত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া; সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দ্রুত সংলাপের আয়োজন করা।খালেদা জিয়া বলেন, “আমাদের বিশ্বাস এই প্রক্রিয়াতেই আমরা সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেই বিএনপি ও শরিকরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। ভোট ঠেকাতে তাদের আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতায় সারা দেশে নিহত হন শতাধিক মানুষ।

বিএনপিহীন ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। শুরুতে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে আলোচনায় আসার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানালেও পরে বিএনপির সঙ্গে সব ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ওই মহা কারসাজির নির্বাচনী প্রহসনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এটি একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। শেখ হাসিনা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটা সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের অঙ্গীকারও করেছিলেন।

“কিন্তু যথারীতি তিনি তার সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন। আসলে প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো দৃষ্টান্ত তাদের নেই।”

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর মধ্য দিয়ে যে কোনো পদ্ধতিই সংশোধিত ও পরিশোধিত হতে পারে। প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতিও ঐক্যমতের ভিত্তিতে সংশোধনের সুযোগ ছিল এবং উচিত ছিল সেটাই করা।”
গত মহাজোট সরকারের সময় ওই সংশোধনীর ফলে ‘শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক পন্থায়’ ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ ‘প্রায় রুদ্ধ’ করে ফেলা হয়েছে মন্তব্য করে এ বিষয়টিকেই ‘সব সংকটের মূল উৎস’ হিসাবে তিনি চিহ্নিত করেন।

নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর শক্রবার বিকাল পৌনে ৫টায় খালেদা জিয়ার এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশে ‘কড়াকড়ি’ থাকলেও এ সংবাদ সম্মেলনের কারণে গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৮৬ নম্বর সড়কে খালেদার ওই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয় পুলিশ।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই কার্যালয়েই খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। এরপর একাধিকবার দলের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে বিবৃতি পাঠালেও তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেননি।

প্রোব/পি/জাতীয়/১৩.০৩.২০১৫

১৩ মার্চ ২০১৫ | জাতীয় | ২০:২৩:৫৭ | ১৮:০৬:৪০

জাতীয়

 >  Last ›