A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাদ পড়ার আশঙ্কায় সরে দাঁড়ালেন খোকা! | Probe News

Khoka111.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: বাদ পড়ার আশঙ্কায় বিএনপি’র ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে সরে দাড়ালেন সাদেক হোসেন খোকা  শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিতেই তিনি সরে দারিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই সরে দাড়ান বিএনপি’র সঙ্গে তার স্থায়ী দূরত্ব তৈরি করবে কিনা তা এখনো বলার সময় আসেনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ- সরকার বিরোধী আন্দোলনে খোকা এবং তার অনুসারীরা সঠিক দায়িত্ব পালন করেননি। বিএনপি নেত্রীর বারবার তাগাদার পরও খোকা সক্রিয় হননি। মহানগর নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই সরকার বিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে।
এসব কারণে দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারপরসন বেগম Khaleda zia.jpgখালেদা জিয়া। বিএনপিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। শুরুটা করতে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগরকে দিয়ে। খুব শিগগিরই ঢাকা মহনগর কমিটি গঠন করা হবে। এজন্য সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি চ’ড়ান্ত করা হয়েছে। আর এই প্রস্তুতি কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে সাদেক হোসেন খোকাকে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া নিজে খোকাকে ডেকে আহবায়ক কমিটি থেকে অব্যাহতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর ঢাকা মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা
দিলেন সাবেক নগর পিতা সাদেক হোসেন খোকা। বুধবার নয়াপল্টনে নগর কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর এই দায়িত্ব পালন করতে চাই না। মহানগরকে ঢেলে সাজানোর জন্য নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) অনুরোধ জানিয়েছি।’ আর তার সরে দাঁড়ানোর এ ঘোষণাকে দলের অনেকেই দেখছেন ‘মুখরক্ষার প্রস্থান’ হিসেবে। তবে সাদেক হোসেন খোকার এই প্রস্থানে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন আন্দোলনের ব্যর্থতা কখনও এক ব্যক্তির উপর বর্তায় না। খোকা একজন শক্তিশালী সংগঠক। ঢাকা মহনগরের মত কমিটির নেতৃত্বে খোকার মত ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান (অব.) প্রোবনিউজকে বলেন, সাদেক খোকা আসলে পরিস্থিতির শিকার। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দক্ষ সংগঠক। বিএনপিতে তার অবদান ব্যাপক। এটা অস্বীকার করা যাবে না। শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এটা উপলব্ধি করা উচিৎ। আর দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন,‘ যতদূর জানতে পেরেছি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে সাদেক হোসেন খোকাকে রাখা হয়নি। তাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, খোকা আগামী কমিটিতে থাকছেন না। সম্মেলনে যদি কাউন্সিলররা তাকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করে, তবে অবশ্যই তিনি নতুন কমিটিতে ফিরে আসবেন।’
Khoka 3.jpgএ প্রসঙ্গে বিএপির চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘নেত্রী হয়তো আসন্ন কমিটিতে নতুনদের প্রাধান্য দিবেন। আর সাদেক হোসেন খোকাও হয়তো ভাবছেন তার আর নতুন করে দেয়ার কিছু নেই।’ দুদু বলেন, ‘বিএনপিতে নতুন নতুন নেতা সৃষ্টি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হলে ক্ষতি কী। তাছাড়া. সরকার বিরোধী আন্দোন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বিএনপি নেত্রী নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের মূল্যায়ন করছেন বলেও মনে হচ্ছে।’
দলীয় সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর কমিটির ওপর নির্ভর রাখা হলেও কার্যত কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি ওই কমিটি। আন্দোলনে রাজপথে না থেকে আত্মগোপনে থাকায় মহানগর নেতাদের ওপরও চরম অসন্তুষ্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এজন্য সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়া ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে নেতাদের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। সেসময় কমিটির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা কারাবন্দি ছিলেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর খোকার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কমিটি কিভাবে পুনর্গঠন করা যায়- সে বিষয়ে মতামত জানতে চান তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন খোকা। কিন্তু মহানগর কমিটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান মির্জা অব্বাস। প্রায় এক মাস পর গত রোববার স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে মহানগর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া।স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনের পর দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে কাউন্সিলের কথা বলা হলেও অতীতের মতো এবারও ‘ম্যাডামের’ ইচ্ছাতেই মহানগর কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, সাত বছর ধরে বিএনপির দুর্দিনসহ আন্দোলন-সংগ্রামে নিস্ক্রিয় থেকেছে ঢাকা মহানগর কমিটি। এ সময় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে দলে বিতর্কিত হন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভা এজন্য কয়েকবার নেতাকর্মীদের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। তখন থেকে কার্যত স্থবিরতা নেমে আসে ঢাকা মহানগর কমিটিতে।
BNP Office.jpg২০০৮ সালের ৪ জুন বিএনপির চরম দুর্দিনে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন দলের হিসেবে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কমিটি স্থবির ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে তা বাতিল করলেও সেসময় আর নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর বৃহত্তর স্বার্থে সাদেক হোসেন খোকাকে দলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দেন নিজেই। এমনকি ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়া নিজেই। কিন্তু প্রভাবশালী ওই দুই নেতার মধ্যে কাকে দায়িত্ব দিবেন সে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের পর বিষয়টির ফায়সালার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নবম নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়।
২০০৯ সালের ৯ জুন বিএনপির ৭২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও ঢাকা মহানগরীর সাবেক দুই সভাপতি ও ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস ও বর্তমান মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মধ্যে সাপ-নেউলে সম্পর্কের কারণে নগর কমিটি ঘোষণা সম্ভব হয়েনি। বরং সৃষ্টি হয় জটিলতা। এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরাও দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েন। তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ারসহ একটি অংশ সংস্কার ইস্যুতে সাদেক হোসেন খোকার বিপক্ষে ও মির্জা আব্বাসের পক্ষে অবস্থান নেন। অন্য অংশ মেয়র খোকাকে সমর্থন জানান। ফলে বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হতে থাকে দলের সিনিয়র নেতারা। এ অবস্থায় দ্বন্দ্ব মোটানোর দায়িত্ব পড়ে খোদ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপর।
২০১১ সালের ১৪ মে যুক্তরাজ্য সফরে যাওয়ার দিন খালেদা জিয়া সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়ক ও আবদুস সালামকে সদস্যসচিব করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। ১৫ মে ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে সর্বস্তরের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচন করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি নগর নেতারা। এমন কি অধিকাংশ ওয়ার্ড ও থানাপর্যায়ের কমিটিও হয়নি।
তবে একাধিক নেতা প্রোব নিউজকে বলেন, নীতি নির্ধারকদের উপলব্ধি হলে শেষঅব্দি হয়তো খোকাকেই মহানগর কমিটিতে আগের অবস্থানে দেখা যেতে পারে।
প্রোব/পার/রাজনীতি/১২.০৩.২০১৪
১২ মার্চ ২০১৪

১২ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:২০:৫৮ | ১৬:২৪:৪৪

জাতীয়

 >  Last ›