A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বিশ্বের রহস্যময় পাঁচটি বিমান দুর্ঘটনা | Probe News

প্রোব নিউজ, ডেস্ক: তিন দিন পরও সন্ধান মেলেনি ২৩৯ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ মালয়েশিয়ার বিমানটির। আর বিমানটির কোন ধ্বংসাবশেষও না পাওয়ায় ঘটনাটিকে রহস্যময় বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। তবে পৃথিবীর ইতিহাসে বিমান নিয়ে এমন রহস্য এবং জটিলতা এটাই প্রথম নয়। জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর রহস্যময় পাঁচটি বিমান দুর্ঘটনা এবং তা নিয়ে নানা গুঞ্জন এবং গবেষণার কথা।
২রা জুলাই, ১৯৩৭, জলপথ প্রদক্ষিণের সময় নিখোঁজ এমিলিয়া ইয়ারহার্ট
১৯৩৭ সালের ২রা জুলাই লকহিড ইলেক্ট্রায় চেপে অভিযাত্রী ফ্রেড নুনানসহ জলপথে প্রদক্ষিণ করার সময় লাপাত্তা হয়ে যান মার্কিন বিমান চালক এমিলিয়া ইয়ারহার্ট। কেন্দ্রীয় প্রশান্ত মহাসাগরের হাউল্যান্ড দ্বীপের কাছে নিখোঁজ হন এমিলিয়া। তাঁর পরিণতি কী হয়েছিল তা নিয়ে হয়েছে নানা গবেষণা এবং গুঞ্জন। বেশিরভাগ গবেষকই মনে করেন জ্বালানী শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল বিমানটি। আবার কেউ কেউ মনে করেন ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের গুপ্তচর ছিলেন এমিলিয়া এবং সেকারণে তাকে আটক করেছে জাপানিরা। কারো কারো দাবি, জাপানি একটি দ্বীপে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এমিলির মরদেহকে হয়তো কাঁকড়া টেনে নিয়ে গেছে। আবার অনেকেই মনে করেন ঐ দুর্ঘটনায় বেঁচে যান এমিলিয়া এবং পরে নিউ জার্সিতে গিয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে ফেলেন তিনি।
ফ্লাইট নাইনটিন এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গল
১৯৪৫ সালের ৫ই ডিসেম্বর। ছয়টি বিমান নিখোঁজ। আর এরই সাথে শুরু বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য। ফ্লোরিডার ফোর্ট লউডারডেল থেকে অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক চার্লস টেইলরের নের্তৃত্বে পাঁচটি বিমানে করে শুরু হয় প্রশিক্ষণ মিশন। দেড় ঘন্টা ধরে মিশন চলার পর পাইলটরা জানালেন তারা পথ হারিয়ে ফেলেছেন এবং বিমান থেকে নিচে তাকালে কিছুই চিনতে পারছেন না তারা। নেভাল এয়ার স্টেশনকে টেইলর জানান, তাঁর বিমানের দুটি দিক নির্দেশকই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে তাদের খোঁজ পেতে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল এয়ার স্টেশনের। ধীরে ধীরে আবহাওয়া বৈরি হয়ে পড়লে অবতরণের পথ খুঁজে না পেয়ে অবশেষে সাগরে অবতরণ করে বিমানগুলো। আর এতে মৃত্যু হয় বিমান চালক এবং ক্রুসহ ১২ জনের। পরে তাদের সন্ধানে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় আরেকটি বিমান।
ফ্লাইট ওয়ান নাইনটি ওয়ানের রহস্য
মার্কিন বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে ১৯৭৯ সালে। শিকাগোর বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় এমেরিকান এয়ারলাইন্স-এর ওয়ান নাইনটি ওয়ান ফ্লাইট। এতে মৃত্যু হয় ২৫৮ যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু’র।
এর আগে ১৯৬৭ সালে বিধ্বস্ত হয় এক্স-ওয়ান ফাইভ বিমানের ওয়ান নাইনটি ওয়ান ফ্লাইটটিও। আর ২০১২ সালে বিধ্বস্ত হয় জেট ব্লু এয়ারওয়েজ-এর ওয়ান নাইনটি ওয়ান ফ্লাইটটিও।
আর এতে আতঙ্কিত হয়ে ওয়ান নাইনটি ওয়ান ফ্লাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে কুসংস্কারাচ্ছন্ন কয়েকটি এয়ারলাইনস কোম্পানি।
ইংলিশ চ্যানেলে নিখোঁজ গ্লেন মিলারের বিমান
১৯৪৪ সালে ইংল্যান্ডে ইউএস আর্মি এয়ার ফোর্স ব্যান্ডের সঙ্গে পারফর্ম করেন কিংবদন্তী ব্যান্ড নেতা গ্লেন মিলার। ১৪ই ডিসেম্বর বেডফোর্ডের কাছে মিল্টন আরনেস্টে জীবনের শেষ রাত কাটান মিলার। পরেরদিন ফ্রান্সে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ইংলিশ চ্যানেলের ওপর নিখোঁজ হন তিনি।
তাঁর পরিণতি নিয়েও হয়েছে অনেক গবেষণা। কারও কারও ধারণা ল্যানচেস্টারের বোমাবাজরা ইংলিশ চ্যানেলের ওপর অভিযান চালানোর সময় গুলির শিকার হয়েছিল তার বিমানটি। তবে জার্মানীর একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক লেখায় সাংবাদিক উডো উলফকত্তে দাবি করেন মিলার ফ্রান্সে পৌঁছেছিলেন এবং প্যারিসের একটি যৌন পল্লীতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে নিখোঁজ দ্য স্টার টাইগার
১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি। বারমুডার কাছাকাছি সান্তা মারিয়া থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় দ্য স্টার টাইগার বিমানটি। যাত্রা করার পর ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে বিমানটি। এতে ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক খ্যাত এয়ার মার্শাল স্যার আর্থার কোনিংহামসহ ২৫ জন যাত্রী। বাতাস উপেক্ষা করতে ধীরে ধীরে চালানো হচ্ছিল বিমানটি। আর পর্যাপ্ত জ্বালানী নিয়েই বারমুড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তা। তবে হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে স্টার টাইগার। এর পর আর সন্ধান পাওয়া যায়নি বিমানটির।
ধারণা করা হয়ে থাকে কম উচ্চতা এবং বায়ুর শক্তিশালী ঝাপটার কারণে সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি।আবার কারও কারও মতে বিমানের ত্রুটিপূর্ণ অলটিমিটার এবং দীর্ঘসময়ের ফ্লাইটের ক্লান্তির সংমিশ্রণই ঐ দুর্ঘটনার কারণ।
প্রোব/ফাউ/ডেস্ক/১০.০৩.২০১৪

১০ মার্চ ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ১৭:৩২:৩৬ | ১১:০৫:২৫

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›