A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সংসদ ভবন ঘেরাও! প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রাচীর নির্মাণ সাময়িক স্থগিত | Probe News

Parliament 6.JPGপ্রোবনিউজ, ঢাকা: আবারো ধ্বংস হতে বসেছে লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলী। চারদিকে উঁচু প্রাচীর নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। এতে বিনষ্ট হবে সংসদ ভবন এলাকার নান্দনিক সৌন্দর্য। সৃষ্টি হবে দৃষ্টি দূষণ। এ মন্তব্য করেছেন স্থপত্যবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবিদরা।
তারা বলছেন, উঁচু প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে সংসদ ভবন এলাকা নিয়ে সরকার নিজেই নিজের ঘোষণা ভঙ্গ করছে। কারণ, সরকার সংসদ ভবন এলাকাকে ইকোলজিক্যাল জোন হিসেবে ঘোষণা করেছিল ।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানা গেছে, সংসদ ভবন এলাকার চারদিকে বর্তমানে যেখানে Parliament 1.JPGকোমড় সমান উঁচু গ্রিলের বেড়া রয়েছে; সেখানে আট ফুট উঁচু বেড়া নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে নয় কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সেলিম খানের মতে, ‘লুই আই কান যখন সংসদ ভবন ও এলাকার নকশা করেছেন তখনকার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই উঁচু বেড়া নির্মাণ জরুরী।’ সংসদ ভবন ও ভবন এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে উঁচু এই বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংসদ ভবন সচিবালয়।
তবে নিরাপত্তার অজুহাতকে ‘স্থ’ল আইডিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন স্থ্যপতি অধ্যাপক ড. শামসুল ওয়ারেস। তিনি বলেন, ‘লুই আই কান নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নক্শা করেছেন। সেখানে উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করে নিরপত্তার সুযোগ নেই।’
জানাগেছে, বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মাণ কাজ সাময়িক স্থগিত করা হলেও প্রাচীরের পুনঃনকশার কাজে হাত দিয়েছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস বলেন, ‘প্রাচীর বা বেড়ার ডিজাইনে আমাদের আপত্তি নয়। খোদ প্রাচীরেই আমাদের আপত্তি। তাই তা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় সংসদ হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার সর্বোচ্চ পিঠস্থান। ল্ইু আই কান সেভাবেই নক্শা করেছেন। সাধারণ মানুষের ঘুরে দেখার সুযোগ রেখেছেন।Parliament 2.JPG কিন্তু প্রাচীর বা বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংসদ ভবনকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। এটা অন্যায়। অগণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক সরকারের পক্ষেই এ কাজ করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার সংসদ ভবন এলাকাকে ইকোলজিক্যাল জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় এমন কিছু করা যাবে না; যাতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। কিš,‘ নিরাপত্তার নামে সরকার সংসদ ভবন এলাকায় যা করতে যাচ্ছে তাতে দৃষ্টি দূষন সৃষ্টি হবে। ধ্বংস হবে বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য নিদর্শনের সৌন্দর্য।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালের মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার মানিক মিয়া এ্যাভিনিউতে নির্মাণ করে রোড ডিভাইডার। এর পর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঢাকা শহরের ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ করে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে বসায় হলি ডে মার্কেট। যা ‘ফখরুদ্দিন মার্কেট’ হিসেবে সে সময় পরিচিতি পেয়েছিল। তখনও বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে মাত্র আট মাসের মাথায় বন্ধ করে দেয়া হয় সেই হলি ডে মার্কেট।
প্রোব/ শর/জাতীয়/ ০৯.০৩.২০১৪
৯ মার্চ ২০১৪ । জাতীয়

৯ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৩২:০৬ | ১০:১০:২৪

জাতীয়

 >  Last ›