A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

উপজেলা নির্বাচনে সাফল্যের সাত কারণ | Probe News

Upozila-Election-5.jpg

প্রোবনিউজ, ঢাকা: চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক চমক দেখিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনেই তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মোট ফলাফলকে অতিক্রম করেছে দলটি।

এবার প্রথম দুই দফায় অনুষ্ঠিত ২১১টি উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ২১টি, Upzila-election- 2.jpgভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৮টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৯টিতে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত। ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৪টি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩টিতে বিজয়ী হয়েছিল জামায়াত। সাতটি কারণে এবার জামায়াত এই সাফল্য পেয়েছে। প্রোবনিউজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমত, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের কয়েকদিন আগে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও জামায়াত তা সেরে ফেলে ২০০৯ সালে। ওই বছরের প্রথম দিকেই দেশের প্রতিটি উপজেলার ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিদের ভোটে প্রাথমিকভাবে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ভোটে নির্বাচিতদের পর্যায়ক্রমে জেলা মজলিশে শুরা ও কর্মপরিষদ থেকে চূড়ান্ত করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে অভ্যন্তীরণভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। এ কাজে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছে দলটির।

দ্বিতীয়ত, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন মূলত একটি স্থানীয় নির্বাচন। এ চিন্তা মাথায় রেখেই ২০০৯ সাল থেকেই এসব প্রার্থীদের প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়। দলের কর্মকা-ের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও রাজপথের কোন সহিংস কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম। এমনকি এসব প্রার্থী যাতে মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িয়ে না পড়ে সেদিকেও সচেতন ছিলো জামায়াত।

উল্লেখ্য, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্যাহর নেতৃত্বে জামায়াতের একটি নির্বাচন পরিচালনাকারী শাখা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচনের সকল বিষয়ে দেখভাল করে এই কমিটি। শুধু স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীরাই নয়, বরং এই কমিটিকেও প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে মুক্ত রেখেছে জামায়াত।

তৃতীয়ত, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিবিরের সাবেক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তূলণামূলক বেশি। এরমধ্যে বেশিরভাগই সাবেক জেলা সভাপতি। এক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থিতার বিষয়টি মাথায় রেখেই এ কাজ সম্পাদন করা হয়।

চতুর্থত, কৌশলে প্রার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ের সাথে যুক্ত করা হয়। গ্রামের ওয়াজ-মাহফিলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রিড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদান দিয়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির আসন দখল করা ছিলো এদের অন্যতম টার্গেট। এর Upozila-Election- 4.jpgপেছনে কাজ করে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কিছু অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। এছাড়া, দুস্থদের সহযোগিতা, কুরবানির মাংস, ঈদে সেমাই-চিনি বিতরণ, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, বিয়ে শাদীসহ নানা বিষয়ে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে এসব প্রার্থী। কেন্দ্র থেকে পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রার্থীরা এসব সামাজিক কর্মকা- চালান।

পঞ্চমত, বিএনপিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের সাথে সমঝোতায় আসে দলটি। চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বিএনপির সাথে জোরাজোরি না করলেও ভাইস-চেয়ারম্যানের পদটি সর্বোচ্চ সংখ্যক উপজেলায় ধরে রেখেছে জামায়াত। এক্ষেত্রে জামায়াতের টার্গেট ছিলো-চেয়ারম্যান ৫০টি ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ৫০টি এবং ভাইস চেয়ারম্যান শতাধিক পাওয়া। জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় না নিয়ে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে চারবছর আগ থেকেই সিরিয়াস ছিলো জামায়াত।

এছাড়া, জামায়াতের প্রার্থীরা অনেক আগ থেকে নির্বাচনী কর্মকা- শুরু করায় বিভিন্ন উপজেলায় নিরুপায় হয়ে পড়ে বিএনপি। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর নির্দেশের কারণেই বিএনপি প্রার্থীরা গতবারের চেয়ে এবার বেশি উপজেলায় জামায়াতকে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।

ষষ্ঠত, নির্বাচনের প্রায় দেড় মাস আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াত ও শিবিরের সমন্বয়ে শক্ত নির্বাচনী টিম গঠন করে স্থানীয় জামায়াত। এমনকি অনেক আগ থেকেই জামায়াত ও শিবির কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয় নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ভোট যে কোন মূল্যে ধরে রাখা। স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কারণে সেক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

সপ্তমত, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে জামায়াত। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ কমিটি সক্রিয় ছিলো। জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের বাধাহীনভাবে কেন্দ্র পৌঁছে দেয়া ও ফলাফল চূড়ান্ত গণনা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করা ছিলো এ কমিটির কাজ।

এ সম্পর্কে জামায়াতের কেন্দ্রিয় মজলিশে শুরার সদস্য ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রিয় সভাপতি ড. রেজাউল করিম প্রোবনিউজকে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় জামায়াত। এ নির্বাচনে সরকারের অন্যায় আচরণের জবাব দিয়েছে জনগণ। সামনের ধাপগুলোতেও দিবে। তাছাড়া, প্রশাসনের হয়রানি নির্যাতন সত্ত্বেও নির্বাচনে আমাদের কর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করেছে। আগামী ধাপগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

প্রোব/পার/জাতীয়/০৯.০৩.২০১৪

৯ মার্চ। জাতীয়

৯ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:২২:৪৪ | ১০:১০:১৭

জাতীয়

 >  Last ›