A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

টাইগারদের বুকে ‘সাহারা কলঙ্ক’ | Probe News

banjersey06প্রোব নিউজ,ঢাকা: ভারতের বিতর্কিত সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায় কারাগারে। আদালতে হাজিরার সময় তাঁর মুখে ক্ষোভের কালি ছুড়েছেন এক প্রতারিত। এই কালির ছোপে ভারতে ‘কলঙ্কময়’ সাহারা। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখনো বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন সাহারার লোগো- ‘সাহারা কলঙ্ক’। প্রশ্ন উঠেছে এই লোগো আর কতদিন বয়ে বেড়াবেন বাংলার টাইগাররা। দাবি উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি’র সঙ্গে সাহারার স্পন্সরশিপ-এর চুক্তি বাতিলের।
বন্ড স্কিমের আওতায় ভারতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া ১৯ হাজার কোটি রুপি ShaharaMustafaKamalফেরত দেয়নি বলে ২০১২ সালে সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারই জের এখন চলছে। এই সাহারা গ্রুপের সঙ্গে ২০১২ সালেই স্পন্সরশিপের চুক্তি করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি। তখনই এর বিরোধিতা হয়েছে। বিসিবিরি সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বিতির্কিত এই প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের গায়ে না লাগানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান প্রোব নিউজকে। কিন্তু কাজ হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সাহারার সহ-প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বি ভ্যালির (মরিশাস) চুক্তির মেয়াদ জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। ২০১২ সালের মে মাসে গ্রামীণ ফোনের চেয়ে তিনগুন বেশি বিড করে বাংলাদেশ দলের স্পন্সর স্বত্ত্ব পায় সাহারার অ্যাফিলিয়েট কোম্পানি অ্যাম্বি ভ্যালি। অ্যাম্বি ভ্যালি(মরিশাস) লন্ডন এবং নিউইয়র্কে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে। অ্যাম্বি ভ্যালি নামে পুণেতে রয়েছে সাহারার হাউজিং প্রকল্প।
বিসিবির চার বছর মেয়াদের চুক্তিটি প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। টিকেটিং ও বেভারেজ চুক্তিসহ সব মিলিয়ে চার বছরে বিসিবির ১১০ কোটি টাকা আয় হবে বলে চুক্তির সময় জানিয়েছেন বোর্ডের সেই সময়কার সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল। আর এই চুক্তি করে উল্লসিত ছিলেন সাহারার প্রধান সুব্রত রায়। তিনি নিজে সংবাদ সম্মেলন করে খবরটি তখন জানান।
অভিযোগ রয়েছে সাহারা ঠিকঠাকভাবে চুক্তির শর্ত পালন করছে না। বিশেষ করে বিকেএসপি ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ করার কথা ছিল তাদের। চুক্তিতে আছে বিকেএসপিতে দুটি স্টেডিয়াম এবং ফতুল্লা স্টেডিয়ামে তারা বিশ্ব মানের প্রেস বক্স তৈরিসহ ৫০ জন লোকSubrata-Roy_sahara থাকতে পারে এমন আধুনিক ও উন্নতমানের ডরমেটরি তৈরি করে দেবে বলে সাহারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ফতুল্লায় তড়িঘড়ি করে প্রেস বক্স ঠিক করা হলেও বিকেএসপিতে এখনো বিশেষ সুবিধা বলতে তেমন কিছু নেই।
বিসিবি চুক্তি অনুয়ায়ি আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা ঠিকমত পাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে চাননি। আর প্রধান নির্বাহী ও ফিনান্সিয়াল ডাইরেক্টরকে বার বার চেষ্টা করে টেলিফোনেও পাওয়া যায়নি। তবে বিসিবি’র সাবেক পরিচালক এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু দাবি করেন ‘ সাহারা এরইমধ্যে ২ বছরের টাকা দিয়েছে।’ চুক্তির সময় তিনি ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী সাহারা তাদের প্রচারের জন্য সরাসরি ৬ ধরণের সুবিধা নেয়। প্যাভেলিয়ন, দুই ধরণের ডিসপ্লে বোর্ড, কভার ব্র্যান্ডিং, বিসিবি’র ক্রিকেট একাডেমি এবং জাতীয় ক্রিকেট banjersey04দলের জার্সি থেকে শুরু করে খেলার সময় পরিধেয় সবকিছুতে সাহারার প্রচারণার সুযোগ নেয়। এরমধ্যে সবার আগে যা দেখা যায় তা হল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সব ধরণের জার্সিতে সাহারা লেখা। আর তা সামনের দিকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বুকেই থাকে ‘SAHARA’। যা এখন এই পরিস্থিতিতে একটি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু প্রোব নিউজকে বিব্রতকর অবস্থার কথা স্বীকার করলেও তাঁর মতে ‘দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হুট করেই তুলে নেয়া যায় না। সাহারার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ভালো কোনো স্পন্সর খুঁজে পাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের আসলে কিছু করার নেই’।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট সাহারার বিতর্কিতSahara-India-Logo বিষয় নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন। তাঁর মতে,‘সাহারা ভারতে কি করেছে এটা আমাদের দেখার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীতে শতভাগ সৎ কোনো কোম্পানি নেই। এ কারণে আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্পন্সর হিসেবে নেব না, এটা হতে পারে পারেনা।’
বাংলাদেশের টাইগারদের বুকে যত বড় আকারে ‘SAHARA’ লেখা থাকে তাও এক ব্যতিক্রম। বিশ্বের আর কোন ক্রিকেট দল এত বড় আকারে স্পন্সরের নাম বুকে ধারণ করেনা। শুধু বুকে নয়, হাতে আর ক্যাপেও সাহারা। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যেন সাহারাময়। আর একেই এখন ‘কলঙ্ক তিলক’ বলছেন বিসিবি’র সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বেও হোসেন। তিনি বলেন,‘ সাহারার সঙ্গে চুক্তি করাই ঠিক হয়নি বিসিবি’র। আর এই ভুল এখনো শোধরানো যায় সাহারার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।’

Untitledসাহারা বাংলাদেশে আসে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার খোঁজে। ২০১২ সালের গোড়ার দিকে সাহারা -মাতৃভূমি প্রজেক্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে তারা। মুন্সিগঞ্জে জমিও পেয়ে যাচ্ছিল।কিন্তু পরিবেশবাদী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সাহারা-মাতৃভূমি প্রজেক্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে তারা মুন্সিগঞ্জে জমি নিতে পারেনি। তারপরই তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিকে হাত বাড়ায়। এবং স্পন্সরশিপ চুক্তি করতে সফল হয় বিসিবি’র সঙ্গে। বিসিবি’র সাবেক পরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মনে করেন, তাদের আসল টার্গেট বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু একটি বিতর্কিত গ্রুপকে সেই সুযোগ দেয়া যায় না। আর এখনও তারা ব্যবসার সুযোগ না পাওয়ায় বিসিবি’র সঙ্গে চুক্তির শর্ত ঠিকমত পালন করছে না বলে জনেছেন। ’ তার মতে, ‘শর্ত ঠিকমত পুরণ না করার কারণ দেখিয়েই বিসিবি সাহারার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে পারে।২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। আর তাতে ‘সাহারা কলঙ্ক’ নেমে যেতে পারে টাইগারদের বুক থেকে।’
প্রোব/হার/খেলা/০৬.০৩.২০১৪

 

৬ মার্চ ২০১৪ | খেলা | ১৮:০৫:২০ | ১৪:৩৪:৫৮