A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘সুজাতা সিং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে আমাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন’ | Probe News

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া
‘সুজাতা সিং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে আমাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন’

 

khaleda568প্রোবনিউজ, ডেস্ক: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং বিএনপিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ কথা বলেছেন। গত রোববার এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক শুভজিৎ রায়।
এই সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেত্রী ভারতের নতুন নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সাবেক সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকার নিয়ে তাঁর মনোভাব এবং বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। নিচে এই সাক্ষাৎকারের পুরো বিবরণ তুলে ধরা হলো।

সুষমা স্বরাজের সঙ্গে আপনার বৈঠকটি কেমন ছিল?

বৈঠক ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি চমৎকার মানুষ। আমরা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেছি। সীমান্তে হত্যার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এ ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তিস্তার পানি ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা বলেছেন। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ভারত আমাদের পানি দিচ্ছে না... একটা বড় প্রতিবেশী, তার সে রকম আচরণ করা উচিত? আমাদের এত দীর্ঘ সীমান্ত, সেখানে সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু (সীমান্তে) মানুষ হত্যার ঘটনা লোকজনকে উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ করে তুলছে।... অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আমার প্রস্তাবে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

বাংলাদেশের ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন বলে আপনি মনে করছেন?

তারা এখনো পুরোদমে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। আমি নরেন্দ্র মোদির কাছে দুটি চিঠি পাঠিয়েছি, একটি নির্বাচনে জেতার পর, অপরটি শপথ গ্রহণের পর। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারে এই নতুন সরকার একটা স্বপ্নময় পথ খুঁজছে বলা যায়। তিনি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্ক নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটা ছিল সাধুবাদ জানানোর মতো উদ্যোগ এবং তাঁর দূরদৃষ্টির পরিচয়। এটি সার্কের জন্যও ছিল একটি স্বীকৃতি—আমার প্রয়াত স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিন দশকেরও বেশি আগে যা প্রতিষ্ঠা করেন। এখন, মোদি এ সংস্থার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন...। আমি মনে করি, এটা এই অঞ্চলের জন্য ভালো। আমরা চাই আমাদের দেশ উন্নতি করুক, সেই সঙ্গে ভারতও উন্নতি করুক।

একজন নেতা হিসেবে মোদিকে আপনি কেমন মনে করেন?

মোদিকে বিচার করার ভার ভারতের জনগণের। সুশাসন ও অর্থনীতির ওপর তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ করাকে ভারতের মানুষ স্বাগত জানাবে।

তিনি কি আপনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন?

খালেদা জিয়া: হ্যাঁ, আমি যখন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম, সে সময় তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানান।

আপনার কি ভারত সফরের পরিকল্পনা আছে?

এখন এই দেশের কী অবস্থা, তা আপনি জানেন। আমি দারুণ ব্যস্ত। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। ৯৫ ভাগ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে এবং তারা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়।

ভারতের পূর্ববর্তী সরকার নির্বাচনে আপনাকে সমর্থন না দেওয়ায় আপনি কি হতাশ?

তাদের পররাষ্ট্রসচিব (সুজাতা সিং) এখানে এসেছিলেন এবং তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনে এইচ এম এরশাদের অংশগ্রহণ করা উচিত, তা না হলে নির্বাচন হবে না এবং মৌলবাদীরা ক্ষমতায় আসবে। তিনি আমাদেরও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। কেন নির্বাচনে যেতে পারব না, তা আমরা তাঁকে বলেছিলাম। আমরা একটা রাজনৈতিক দল, আন্ডারগ্রাউন্ডের দল নই। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তাতে অংশগ্রহণের কোনো যুক্তি নেই। এরশাদও প্রকাশ্যে বললেন, তিনি নির্বাচনে যাবেন না। কিন্তু পরে দেখা গেল, কোনো না কোনো পন্থায় হোক... আমি জানি না, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না; অনেকেরই বিশ্বাস যে (এটা হয়েছিল), বিশেষ করে যখন পররাষ্ট্রসচিব এ রকম কথা বললেন...। এরশাদ পরে বললেন, পররাষ্ট্রসচিব তাঁকে চাপ দিয়েছিলেন এবং একমাত্র তারাই (ভারত) এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ বলেছে, তারা কোনো একদলীয় নির্বাচন সমর্থন করে না... সেখানে কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষকও ছিলেন না, তাই তারা এটা গ্রহণ করেনি। এ দেশের জনগণও এটা গ্রহণ করেনি। আর তাই, এটা একটা অবৈধ সরকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের শিগগিরই নির্বাচন দিতে বলছে।

আওয়ামী লীগ আমাদের বলছে, তোমরা প্রথমে আমাদের বৈধ সরকার বলে স্বীকৃতি দাও, এরপর আমরা সংলাপে আসব। সুতরাং, তাদের অবৈধ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেছে...। আমি সুষমাকে বলেছি, কোনো দেশ এমন নির্বাচন দেখেনি, যেখানে পার্লামেন্টের ৩০০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫৪ জন (সরকারি হিসেবে ১৫৩ জন) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ২, ৪, ৫ জন হতে পারেন... তাই বলে ১৫৪ জন? মন্ত্রিসভার সব সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শেখ হাসিনারও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না, কিন্তু ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তারা দেখিয়েছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারতের নতুন সরকার ও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে আপনি কী পার্থক্য দেখেন?

সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন করার জন্য এটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। আবারও বলতে হয়, বিচারের ভারটা ভারতের জনগণের ওপর। তবে, যেকোনো পরিবর্তনই ভালো কিছুর আশা জাগায়। আমাদের যেখানে আগ্রহ তা হলো, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং সার্বিকভাবে এ অঞ্চলে কী ঘটে তা দেখা...। তাঁর সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়—এটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

আপনি কি মনে করেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের বাংলাদেশের ব্যাপারে তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি?

বাংলাদেশের জনগণের এটাই ধারণা। প্রকৃতপক্ষে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে এটা আমাদের সরকারেরই ব্যর্থতা, বা সদিচ্ছার অভাব। যা আরও বড় সমস্যায় রূপ নিয়েছে।

আপনার কি মনে হয়, ওই সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল এবং তা বাংলাদেশের জন্য শুভ ছিল না?

আবার বলতে হয়, এখানে মানুষের মধ্যে এ রকম ধারণাই আছে। বাংলাদেশের জনগণ আন্তরিকভাবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক কামনা করেন। এ সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে তুলে ধরবে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিবিশেষের নয়...। আমি কাউকে দায়ী করতে চাই না, কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের এটা করতে বাধ্য করেছে। এবং ভারতের সরকার তা সমর্থন দিয়েছে...। এরশাদ এখনো এ বিষয়ে কথা বলেন, তিনি নির্বাচনে যেতে চাননি, তাঁকে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হয়েছে, তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চিঠি দিয়েছিলেন, সেটা গ্রহণ করা হয়নি। তাই, এটাই ধারণা যে, ভারত সরকার একটা ভূমিকা রেখেছিল।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?

মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যদিও বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে, মমতার বিরোধিতার কথা বলে এ চুক্তি সই করা হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ জানে না, আসলে কী ঘটেছিল...। আমি মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি, এবং কে এটা আটকে দিয়েছেন, তা-ও আমি জানি না। হাসিনা যা বলেন, সরকার তাই বলে।

পার্লামেন্টে বিজেপি সীমান্ত চুক্তি তুলতে পারবে বলে আপনি মনে করেন কি? নাকি মমতা আবার এটি আটকে দেবেন বা বিজেপির আসাম ইউনিট তা আটকে দেবে?

এ চুক্তি সই হয় ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ সে বছরই এটা অনুমোদন করে। কিন্তু ভারত এখনো তা করেনি। ... ছিটমহলের বাসিন্দারা নিদারুণ দুর্দশায় আছেন। আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিজেপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায়। আশা করা যায়, শিগগিরই এর সমাধান হবে।

দুই দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় আপনি ভারতের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন। পি ভি নরসীমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি ও মনমোহন সিংকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

তিনজনই ছিলেন চমৎকার মানুষ। মনমোহন সিং একজন ভদ্রলোক... খুব মার্জিত। বাজপেয়ি প্রবীণ মানুষ, আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। রাও, ভারত সফরকালে তাঁর সঙ্গেও দেখা করেছি...। আমি বলতে পারব না, কে ভালো বা খারাপ। তাঁরা সবাই এবং মোদির নতুন সরকার বলেছে, (বাংলাদেশের সঙ্গে) সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

কিন্তু তাঁরা তো এসব সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।

তবু আমরা আশা করি, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মোদি সেসব করতে পারবেন, যা তাঁর আগের সরকার করতে পারেনি।

বিএনপির গত আমলের ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন। এখন আপনি ভারতকে কীভাবে আশ্বস্ত করবেন?

এটা ভুল-বোঝাবুঝি। বিএনপি সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ভারত কিংবা প্রতিবেশী অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাটি যাতে ব্যবহৃত না হয়, আমরা সে ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এটা প্রমাণও করেছি।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

আমি সংখ্যালঘু শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। আমার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সবার সমান অধিকার রয়েছে। বাস্তবে তারা বিএনপির আমলে ভালো ছিল। আওয়ামী লীগের সময়ে পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হচ্ছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। ওই সময় যারা দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, আমি তাদের তক্ষুনি শান্ত করতে সক্ষম হই। টেলিভিশনে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখানো আমরা বন্ধ করে দিই। আমার মন্ত্রীরা হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে গিয়ে নির্ঘুম রাত কাটান।

মোদি সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে কি আপনি উদ্বিগ্ন?

নির্বাচনী প্রচারণাকালে আমরা এটি বহুবার শুনেছি। অতীতেও শুনেছি। কিন্তু কেউই প্রমাণ দিতে পারেনি যে ভারতে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। সুষমা স্বরাজ এই ইস্যুটি উত্থাপনও করেননি। নির্বাচনে জয় পেতে মানুষ অনেক কিছু বলে থাকে, আমরাও অনেক কিছু বলি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সবকিছুর বাস্তবায়ন হবে। আমার মনে হয় না অনেক বাংলাদেশি ভারতে যায়... তারা এখানে ভালোই আছে।

বাংলাদেশে দুটি পরিবার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভবিষ্যতেও কি এটা বহাল থাকবে?

এটা ঠিক নয়। মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল, জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল। তাই এঁদের পরিবারের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁদের প্রতি মানুষের আস্থা জন্মেছে। ... দেখুন, এটা কেবল রাজনীতিতে নয়—একজন ব্যারিস্টারের ছেলে ব্যারিস্টার হয়, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হয়, ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী হয়। তাই রাজনীতিবিদেরাও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রাজনীতির আগ্রহটা তৈরি করে থাকেন। পরে তাঁরা জনগণের সামনে আসেন। তখন মানুষ তাঁদের গ্রহণ করল কি না সেটাই মুখ্য। আর মানুষ গ্রহণ না করলে তাঁরা সরে যান।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সম্পর্কটা কেমন?

আদর্শগত কোনো মিল নেই। আমরা উদারপন্থী। চরম ডানপন্থী নই, বামপন্থীও নই। আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান, ১৯৮৬ সালে এরশাদ যখন নির্বাচন করেন, তখন আওয়ামী লীগই জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলায়। এটা (বিএনপি ও জামায়াত) নির্বাচনী একটা বন্দোবস্ত। তারা (জামায়াত) কিছু আসন থেকে নির্বাচন করে। আমরা কিছু আসন থেকে নির্বাচন করি। এর বাইরে কিছু নয়। তারা তাদের আদর্শ মেনে চলে। আমরা আমাদেরটা।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গত ছয় বছরে আপনি হাসিনার চেয়ে ব্যতিক্রম কী করেছেন?

আমি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করতে চেয়েছি। এর পাশাপাশি সার্কের আওতায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করেছি। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দুই দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিভাজন সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তারের নীতি একধরনের আতঙ্ক ও অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আমাদের উভয় সমাজে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। তবে এটা ইতিবাচক, আমরা নতুন একটা ভিত্তি তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করছি। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এখন আমাদের বসা দরকার এবং পারস্পরের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজা উচিত। ...সব ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক করতে ভবিষ্যতের বিএনপি সরকার বড় পরিসরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে উৎসাহিত করবে এবং এ কাজে দ্বিপক্ষীয় ও সার্কের মতো আঞ্চলিক সুযোগগুলো কাজে লাগাবে।
প্রোব/জাতীয়/আপা/০২.০৭.২০১৪

 

২ জুলাই ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১৫:৩১ | ১২:১৫:৩১

জাতীয়

 >  Last ›