A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বিতর্কিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করছে ভারত | Probe News

indian river-1আলতাফ পারভেজ, প্রোব নিউজ: ভারতের বহুল আলোচিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিজেপি ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। এর আগে জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রকল্পের প্রথম ধাপ শুরু করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিবিসি’র ২৫শে ফেব্রুয়ারি’র খবরে বলা হয়েছে, বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণায় জানিয়ে দিয়েছে ক্ষমতায় আসলে তারা ভারতে নদী-সংযোগ প্রকল্প শুরু করবে। মধ্যপ্রদেশের নর্মদা ও শিপ্রা নদীকে যুক্ত করার প্রকল্প উদ্বোধন করতে যেয়ে বিজেপির এমপি চন্দন মিত্র। আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প-এর ভবিষ্যত সম্পর্কে তাদের দলীয় অঙ্গীকার স্পষ্ট করে। তবে দলটি এও দাবি করেছে, বিতর্কিত এ প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগ প্রশমিত করা সম্ভব।
আর এর আগে গত ২রা জানুয়ারি টাইম অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয় ভারতের কেন ও বেতোয়া নদীর মাঝে সংযোগকারী কৃত্রিম খাল তৈরির মাধ্যমে শিগগির প্রকল্পের প্রথম ধাপ শুরু করতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
২০০৫ সালে কেন ও বেতোয়া নদীর সংযোগের মাধ্যমে কেন অববাহিকা থেকে ‘উদ্বৃত্ত’ পানি অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বেতোয়া অববাহিকায় নেয়ার লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ প্রদেশের সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও দীর্ঘ নয় বছর পর তার বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।
মধ্য প্রদেশ ও উত্তর প্রদেশ জুড়ে প্রবাহিত কেন ও বেতোয়া নদী উভয়েই যমুনায় মিশেছে। আর যমুনা মিশেছে গঙ্গায়। বেতোয়া স্থানীয়ভাবে ভেত্রাবতী নামেও পরিচিত। কেন নদীর দৈর্ঘ্য হলো ৪২৭ কিলোমিটার এবং বেতোয়া হলো ৫৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
পুরোপুরি কংক্রিটে তৈরি কেন-বেতোয়া নদী সংযোগ খালটি হবে প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের ৩০টি পরিকল্পিত খালের প্রথমটি যার দৈর্ঘ্য হবে ৩২৩.৪৫ কিলোমিটার। তবে এই নির্মাণ উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মধ্য প্রদেশের সাত্তারপুর-পান্না জেলার সীমান্তে প্রকল্পের মধ্যে ৭৩.৮০ মিটার উচু একটি ড্যাম গড়ে তোলা হবে। যার দু’ স্থানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি কেন্দ্র থাকবে।
কেন-বেতোয়া সংযোগ খাল থেকে ভারত মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশের ৪.৯৭ লাখ হেক্টর জমিকে নতুন করে সেচের আওতায় আনবে বলে পরিকল্পনা করছে। যেসব জেলায় সংযোগ River Linking 1.jpgখাল থেকে সেচের পানি যাবে তার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের সাত্তারপুর, টিক্কাগড়, পান্না, রাচি, বিদিশা এবং উত্তর প্রদেশের ঝাশি ও হামিরপুর। সেচ ছাড়াও বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকায় কেন-বেতোয়া প্রকল্প বিশেষজ্ঞ পরিমন্ডলে ‘সেচ-কাম-বিদ্যুত প্রকল্প’ হিসেবেই পরিচিত এখন। ভারতে ও ভারতের বাইরে উভয় স্থানে পরিবেশবাদী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো প্রথম থেকে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের বড় উদ্বেগের কারণ হলো পান্না জেলায় ভারতের যে ‘টাইগার রিজার্ভ পার্ক’ রয়েছে সেই বনভূমির বিরাট এলাকা প্রকল্পের কাজের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া এই প্রকল্পের কৃত্রিম খালের জন্য বহু মানুষকে উচ্ছেদও হতে হবে।
এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার আরেকটি কারণ ছিল মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশের মধ্যে পানি নিয়ে ঐতিহাসিক বিবাদ রয়েছে। যে কারণে এ বছরের শুরুতে কেন-বেতোয়া সংযোগ খাল প্রকল্পের প্রতি সবুজ সংকেত দিলেও মধ্য ও উত্তর প্রদেশের মধ্যে সমঝোতার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দিয়েছে। যার সদস্য হলেন চিদাম্বরম, কপিল শিবাল ও পানি সম্পদ মন্ত্রী।
কেন-বেতোয়া প্রকল্প নিয়ে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশের বিবাদের অনেকগুলো দিক রয়েছে- প্রথমত. কেন অববাহিকার প্রায় ৮৭ ভাগ পড়েছে মধ্যপ্রদেশে ফলে এখান থেকে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনায় তারা উদ্বিগ্ন। দ্বিতীয়ত, যে সংযোগ খালের মাধ্যমে এই পানি বেতোয়া অববাহিকায় নিয়ে যাওয়া হবে তার ৩২৩ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১৮ কিলোমিটার পড়েছে উত্তর প্রদেশে। অর্থাৎ খালের জন্য যেসব জমি নষ্ট হবে তার প্রায় পুরোটাই যাবে মধ্য প্রদেশের। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ২১৩৫ হেক্টর যাবে মধ্যপ্রদেশ থেকে এবং মাত্র ১৮০ হেক্টর যাবে উত্তর প্রদেশ থেকে। ফলে উচ্ছেদ হওয়া গ্রামবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগকে পুনর্বাসন করতে হবে মধ্যপ্রদেশে।
উল্লেখ্য, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের ধারণা নিয়ে ভারত প্রথম কাজ শুরু করে ১৯৮২ সালে। এই ধারণার সমর্থকরা তখন থেকে বলছে, এটা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ৩৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে; ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে এবং অনেক প্রদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণও সহজ হবে।
অত্যধিক ব্যয়-বহুলতার কারণে প্রথম থেকে এর বাস্তবায়ন সম্ভাব্যতা নিয়ে অনেক সন্দেহ ছিল। এমনকি গঙ্গার শাখানদী হিসেবে মহানদি, গোদাভারী ইত্যাদিতে ‘উদ্ধৃত্ত’ পানি থাকার যে ধারণার উপর ভিত্তি করে এই মেগা প্রকল্পের অভিযাত্রা তার যথার্থতা সম্পর্কেও এখনো কোন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ স্টাডি হয়নি সেখানে। এ বিষয়ে গত বছরের এপ্রিলে ভারতের সাপ্তাহিক ‘ফ্রন্টলাইন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অল ইন্ডিয়া পিপলস্ সায়েন্স নেটওয়ার্কের সভাপতি ডি. রঘুনাথন বলেছেন, ‘উদ্ধৃত্ত কথাটি তৈরি হয় সাপ্লাই-ডিমান্ডের উপর ভিত্তি করে। গঙ্গা অববাহিকায় পানির বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা সম্পর্কে কোন নিরপেক্ষ স্টাডি ছাড়াই ধরে নেয়া হচ্ছে সেখানে বেশি পানি আছে এবং তা সরিয়ে নেয়া যেতে পারে। এই অববাহিকায় যখন আরও অধিক চাহিদা তৈরি হবে তখন এই মেগা প্রকল্প কী কাজে লাগবে? সকল অববাহিকাতেই পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’River Linking 3.jpg
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মেগা হাইড্রোলজিক্যাল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সামাজিক ও পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের যে রেওয়াজ রয়েছে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে নির্দেশনা দেয়ার আগে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সে বিষয়ও এড়িয়ে গেছে।
তাত্ত্বিক সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও এই প্রকল্প ধারণাটি বিশেষ বেগবান হয় ১৯৯৯ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির নতৃত্বে এনডিএ জোট দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের পর। রাজস্থান, গুজরাট, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্নাটক ও তামিলনাড়–র মতো হিন্দু প্রধান ও খরা প্রবণ এলাকাগুলোতে ভোট পাওয়ার জন্য বিজেপি এই প্রকল্পকে বিশেষ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে অনেক বছর ধরে। কিন্তু পরবর্তীকালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোট ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল। তবে ২০১২ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি সেদেশের সুপ্রীম কোর্ট-এর একটি বেঞ্চ (এস কুমার, এস এইচ কাপাডিয়া ও এ কে পাটনায়েকের সমন্বয়ে গঠিত) আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারকে নির্দেশনা দেয়। আন্তঃসংযোগের জন্য উল্লিখিত নদীগুলো যে আন্তর্জাতিক নদী এবং তার বিশাল অববাহিকা জুড়ে যে অন্যান্য দেশের মানুষও বসবাস করে এবং নদীর পানির যেকোনরূপ ব্যবহার যে তাদেরও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুপ্রীম কোর্ট উপরোক্ত নির্দেশনা দেয়ার সময় সে বিষয়টি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে।
তবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের অনেক শরিকের অনাগ্রহ সত্ত্বেও ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রী হরিস রাউত নিজে প্রকল্পের ব্যাপারে উৎসাহি ছিলেন। যে কারণে সুপ্রীম কোর্টের রায় পেয়ে তাঁর পক্ষে প্রকল্প এগিয়ে নেয়া সহজ হয়। তবে গত ১ ফেব্রুয়ারি হরিস রাউত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে উত্তরখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আর কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গোলাম নবী আজাদকে।
এ পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৩০টি সংযোগ খালের মধ্যে তিনটির ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথমে রাখা হয়েছে কেন-বেতোয়া প্রকল্পকে। একমাত্র শেষোক্ত প্রকল্পটিরই ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করেই ভারত অন্যান্য সংযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে এগোবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের দু’টি প্রধান দিক রয়েছে যার একটি বলা হয় পেনিনসুলা অংশ এবং অন্যটিকে বলা হয় হিমালয়ান অংশ। প্রথম অংশে থাকবে দক্ষিণ ভারতের River Linking 2.jpgমহানদি, গোদাভারী, পেন্নার, কৃষ্ণা, কাবেরী ইত্যাদি নদীর মধ্যে সংযোগ সাধনের জন্য ১৬ কৃত্রিম খাল তৈরি। আর দ্বিতীয় দিকে নর্দার্ন হিমালয় রিভার ডেভেলপমেন্ট কম্পোন্যান্টে থাকবে মূলত গঙ্গা ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদী এবং এগুলোর শাখা নদীতে পানি সংরক্ষণের জন্য কৃত্রিম সংরক্ষণাগার তৈরি। যেখানে অধিক প্রবাহের সময় পানি ধরে রেখে শুষ্ক সময়ে সে পানি ব্যবহার করা হবে। এ জন্য থাকবে ১৪টি কৃত্রিম সংযোগ খাল। উপরোক্ত ৩০টি সংযোগ খালের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার!! এরূপ বিশালত্বের কারণে ভারতীয় গণমাধ্যমে একে ‘মাদার অব অল প্রজেক্টস’ নামেও অভিহিত করা হয়। প্রকল্পের শেষোক্ত উত্তরাংশই বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক উদ্বেগের। কারণ গঙ্গা, ব্রক্ষ্মপুত্র ইত্যাদি নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশেরও কোটি কোটি মানুষের বাস। এই দুটি প্রধান নদী দিয়ে একদিকে যেমন ভারতের পুরো নদী প্রবাহের ৬০ ভাগ প্রবাহিত হয় তেমনি বাংলাদেশের জন্যও এই দুই নদীর প্রবাহই ভূ-উপরিস্থ পানির প্রধান উৎস। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি নর্দার্ন হিমালয় রিভার ডেভেলপমেন্ট কম্পোন্যান্টে ১৪টি সংযোগ খালের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার শুরু করা হয় তা হলে বাংলাদেশে এসব নদী ও তাদের শাখা নদীর প্রবাহ নিশ্চিতভাবেই বর্তমানের চেয়েও অনেক কমে যাবে। যেহেতু কেন ও বেতোয়ার পানি প্রথমে যমুনা এবং পরে গঙ্গায় আসে সে কারণে উজানে এই প্রবাহের তথাকথিত ‘উদ্ধৃত্ত’ অংশ থেকে পানি প্রত্যাহারের মানেই হলো ভাটির অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের পানি প্রাপ্তি কমে যাওয়া।

ভারতে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো ‘ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (এনডব্লিউডিএ)। এই সংস্থার মতে ভারত তিনটি বিবেচনা থেকে এই প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে। যার মধ্যে আছে:
ক. ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা যোগানের লক্ষ্যে বাড়তি জমিকে সেচের আওতায় আনা;
খ. গঙ্গা ও ব্রক্ষ্মপুত্রের বাৎসরিক বন্যার হাত থেকে আসাম, পশ্চিমবাংলা, বিহার ও উত্তরপ্রদেশকে রক্ষা করা; এবং
গ. রাজস্থান, গুজরাট প্রভৃতি প্রদেশের খরা ও মরুপ্রবণ এলাকার সবুজায়ন।
ভারতের সুপরিচিত পরিবেশবাদী সংগঠক মেধা পাটকার এনডব্লিউডিএ এর উপরোক্ত দাবির সাথে বিশেষত ড্যামের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, ড্যাম যদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতো তা হলো কোশি নদীর ড্যাম পূর্ব বিহারকে রক্ষা করতে পারতো। তাঁর মতে, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ভারতের প্রদেশগুলোর মধ্যে বিবাদ আরও বাড়াবে।
ভারতে কেন-বেতোয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন উদ্যোগ বাংলাদেশে কীরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লক হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পানিবিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান এ বিষয়ে তাঁর গবেষণা তথ্যের আলোকে প্রোব নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ সরাসরি এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গঙ্গার প্রবাহ থেকে পানি সরানো হলে ফারাক্কা পয়েন্টে অবশ্যই পানি কম আসবে এবং যার ফলে গঙ্গাচুক্তি থাকার পরও আমরা পানি পাবো না।
এদিকে গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে পদ্মা ও যমুনায় পানি প্রবাহ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে। এতে করে এখানকার নদী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

প্রোব/পিএইচ/আন্তর্জাতিক/৪ র্ম্চা ২০১৪
৪ মার্চ ২০১৪ । আন্তর্জাতিক

৪ মার্চ ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ২১:৩২:১৭ | ১৫:২১:১৩

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›