A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

তিস্তার পানি নয়, পাওয়া গেলো বিদ্যুৎ | Probe News

প্রোব নিউজ, ঢাকা: ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে একশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
মঙ্গলবার দুপুরে মিয়ানমারের রাজধানী নে পি দওয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি এই আশ্বাস দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানান। তবে দু’দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে বিতর্কিত তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে তেমন কোন আলোচনাই হয়নি।
বৈঠকের পর মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতের সহযোগিতা বাড়াতে অনুরোধ করেন।“বিশেষ করে ত্রিপুরা থেকে একশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার জন্য মনমোহন সিংকে অনুরোধ জানান তিনি। মনমোহন সিং আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হবে।”
২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যৎ বিক্রি করছে। এজন্য গত বছর দুই দেশের গ্রিড লাইনকে সমন্বিত করে প্রায় ৯৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন বসানো হয়। ভারত থেকে বাংলাদেশের গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ভারতের বহরমপুর ও বাংলাদেশের ভেড়ামারায় বসানো হয় দুটি সুইচিং স্টেশন। এছাড়া ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার পালটানায় স্থাপিত ৭০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অন্তত একশ’ মেগাওয়াট বাংলাদেশে বিক্রির জন্য রাজ্য সরকার আগ্রহ দেখালেও নয়া দিল্লির সবুজ সংকেত না পাওয়ায় বিষয়টি আটকে আছে।
পালটানায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভারতের পশ্চিম অংশ থেকে ভারি যন্ত্রপাতি পূর্ব অংশে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের ওপর দিয়েই। আশুগঞ্জে ট্রান্সশিপমেন্ট চালুর মধ্য দিয়ে ভারতকে সেই সুযোগ দেয় বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান- এই চার দেশ আঞ্চলিক উদ্যোগে জলবিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারে। এ উদ্যোগ এই অঞ্চলের অর্থনীতিকেও গতিশীল করবে।
দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, স্থলসীমা প্রটোকল ভারতের লোকসভায় উত্থাপন করায় মনমোহন সিংকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই প্রটোকল বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিল শিগগিরই ভারতের পার্লামেন্টে পাস হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
“তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ভারতের ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।”এরআগে ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় ওই প্রটোকলের পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তা আটকে যায়।
শাকিল জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর মনমোহনের সঙ্গে এটাই শেখ হাসিনার প্রথম সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও সন্ত্রাসকে এ অঞ্চলের ‘অভিন্ন শত্রু’ হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং এর বিরুদ্ধে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেন।
অন্যদের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন ও পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিরয়ার আলম, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়া উদ্দিন ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।
প্রোবনিউজ/মম/ঢাকা/০৪.০৩.২০১৪

 

৪ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:৪২:৪০ | ১৬:২৮:৪২

জাতীয়

 >  Last ›