A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

রুহুল হকসহ সাত জনের বিরুদ্ধে দুদকের নোটিশ | Probe News

প্রোব নিউজ, ঢাকা: সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। সোমবার দুদকের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই সাতজনের স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হবে।
অন্য ছয়জন হলেন আ ফ ম রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক, ছেলে জিয়াউল হক, রাজশাহীর সাংসদ এনামুল হক ও তাঁর স্ত্রী তহুরা হক, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী প্রীতি হায়দার। রুহুল হক বর্তমানে সাতক্ষীরা-৩ ও মাহবুবুর রহমান পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সাংসদের হলফনামা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য থেকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাংসদ আসলামুল হক, এনামুল হক ও কক্সবাজারের সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে গত ১২ জানুয়ারি দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এঁদের সঙ্গে বিএনপি’র দুই সাবেক সাংসদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও মশিউর রহমান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের বিরুদ্ধেও প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
হলফনামা অনুযায়ী, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ২০০৮ সালে হলফনামায় জানান, তাঁর আয় ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদের কোনো আয় নেই। কিন্তু পাঁচ বছর পর তিনি ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। পাঁচ বছর আগে তাঁর সম্পদের মূল্য প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা। এখন তা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা।
আ ফ ম রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হকের সম্পদ ২০০৮ সাল থেকে এবার ৭৮২ শতাংশ বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৮ সালে এর মূল্য ছিল তিন কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ৬৮৪ টাকা। ২০১৩ সালে তা সাত কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৫ টাকা হয়েছে।
সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান গত পাঁচ বছরে দুই হাজার ৮৪৫ একর জমি কিনেছেন। ২০০৮ সালে হলফনামায় মাত্র ২০ একর কৃষিজমির কথা জানান। এসব জমির বেশির ভাগ পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা ও তার আশপাশে। বর্তমানে এর বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০০৮ ও সাম্প্রতিক হলফনামা হিসাবে, গত পাঁচ বছরে ব্যাংকে জমা করা টাকা বেড়েছে ৫৮৬ দশমিক ৭৫ গুণ, জমি বেড়েছে ১৪৩ দশমিক ২৫ গুণ এবং বার্ষিক আয় বেড়েছে ৭৯ দশমিক ২৩ গুণ। তাঁর স্ত্রী প্রীতি হায়দারের নামে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ দশমিক ২২ গুণ।
প্রথমবারের মতো সাংসদ হওয়া কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদি ২০০৮ সালের নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য স্ত্রী-ভাইবোন ও নিজের কর্মচারীর কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার করেন। পরের পাঁচ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। তাঁর বার্ষিক আয় এখন সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা ও ব্যয় দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা ছিল।
ক্ষমতার পাঁচ বছরে সাংসদ মো. আসলামুল হকের ঘোষিত সম্পত্তি (জমি) বেড়েছে ৩৪ গুণের বেশি। ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী মাকসুদা হক চার একর ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিক, দাম ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী মিলে ১৪৫ দশমিক ৬৭ একর (১৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ) জমির মালিক, দাম এক কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া আসলামুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদও নির্বাচিত হয়েছেন।
সাংসদ এনামুল হক ২০০৮ সালে বেতন-ভাতা থেকে আয় করেন ২০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পরে এখন কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তাঁর আয় ৫০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর দুই কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে আট কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা।
লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা ও সাংসদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানির বিরুদ্ধে প্রচুর সম্পদ গড়ার পাশাপাশি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহ সদরের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির নেতা মশিউর রহমানের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
প্রোব নিউজ/মম/ঢাকা/০৩.০৩.২০১৪

৩ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৮:১৩:৪৪ | ১৮:৩৬:৫৩

জাতীয়

 >  Last ›