A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

চলে গেলেন সরদার ফজলুল করিম | Probe News

চলে গেলেন সরদার ফজলুল করিম

Sarder Fazlul Karim.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম আর নেই। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার মাঝরাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে .... রাজেউন)। রাত পৌণে একটার দিকে শমরিতা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

জামাতা শাকিল আখতার জানান,হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত কারণে কয়েকদিন আগে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। নান ধরনের সমস্যায় ভুগছিলেন। বেশ কয়েকটি অঙ্গ কাজ করছিল না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। জ্ঞান-পিপাসু এই শিক্ষাবিদের জীবনের প্রতিটা অধ্যায়ই বৈচিত্রে ভরপুর। যখন যা মনে হয়েছে তখন তিনি সেভাবেই চলেছেন, মনে লালিত আদর্শকে কখনো বিসর্জন দেননি বরং প্রতিনিয়ত তাকে আরো দৃঢ় করেছেন। বৈপ্লবিক আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে চাকরি ছেড়েছেন, দীর্ঘ চার দফায় মোট ১১ বছর জেল খেটেছেন। তবুও জীবন নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ কিংবা অপ্রাপ্তি বোধ ছিল না।

সরদার ফজলুল করিম ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক এবং ১৯৪৬ সালে স্নাতকোত্তর সনদ নেন। এরপর ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েই দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োজিত থাকেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেছেন জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও রচনার মধ্যে রয়েছে, 'প্লেটোর সংলাপ', 'প্লেটোর রিপাবলিক', 'অ্যারিস্ট্টলের পলিটিক্স', এ্যাঙ্গেলসের অ্যান্টি ডুরিং', 'নানা কথার পরের কথা', 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক', 'চল্লিশের দশকের ঢাকা', 'নূহের কিশিত', 'রুমীর আম্মা', 'দর্শনকোষ', 'শহীদ জোতির্ময় গুহঠাকুরতা স্মারকগ্রন্থ', 'সেই সে কাল'। সরদার ফজলুল করিমের জন্ম ১৯২৫ সালের মে মাসে। বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার আটিপাড়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারে। বাবা খবিরউদ্দিন সরদার কৃষিকাজ করতেন। মা সফুরা বেগম ছিলেন গৃহিণী। তাঁরা দুইভাই তিন বোন। সরদার ফজলুল করিমের শৈশব কেটেছে গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই 'শোষণমুক্ত ও মানবতাবাদী' সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনকারী এই লেখক রাজবন্দি হিসাবে দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে জেলে থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সংবিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৩ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষের পদে কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ সরদার ফজলুল করিম নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ১৯৯৮ সালে সিধু ভাই স্মৃতি সংসদ তাঁকে স্মৃতিপদক প্রদান করে। ১৯৯৯ সালের ২১ মার্চ গুণমুগ্ধজন পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ গুণীজন সম্মাননা দেয়। ২০০০ সালের ১৩ মে বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য শেরে বাংলা পদক-এ ভূষিত করে। ২০০১ সালে সরকার শিক্ষাবিদ হিসাবে শিক্ষা পুরস্কার প্রদান করে। ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তাঁকে গুণীজন সম্মাননা দেয়। ২০০৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেওয়ান গোলাম মোর্তাজা সংস্কৃতি সংসদের পক্ষ থেকে দেওয়ান গোলাম মোর্তাজা স্মৃতিপদক পান। অনুবাদের জন্য পান বাংলা একাডেমী পুরস্কার।

প্রোব/পি/জাতীয়/১৫.০৬.২০১৪

১৫ জুন ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১৮:১০ | ১৬:৫৬:২৬

জাতীয়

 >  Last ›