A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নিরাপত্তা শঙ্কা অগ্রাহ্য করে রূপপুর প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ | Probe News

নিরাপত্তা শঙ্কা অগ্রাহ্য করে রূপপুর প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ঋণের অংক নিয়েও চলছে ধূম্রজাল

Ruppur 1.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: নিরাপত্তা শঙ্কা অগ্রাহ্য করে এবং পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র বিষয়ে ন্যূনতম জনবল গড়ে না তুলেই বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ কাজ ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে চলেছে। উপরন্তু, এই প্রকল্পে কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হবে এবং রাশিয়া সর্বমোট কত টাকা ঋণ সহায়তা দেবে; তার কোন তথ্যই জনসম্মুখে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।

ইতোমধ্যে মূল রি-এক্টর স্থাপনের কাজের আগেই তিন পর্যায়ে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়ে গেছে বাংলাদেশ সরকারের। যার মধ্যে প্রথমে হয়েছে ৫০ লাখ ডলারের সমীক্ষা চুক্তি; দ্বিতীয় ধাপে হয়েছে ২৬ কোটি ডলারের সমীক্ষা মূল্যায়ন ও নকশা প্রণয়ন চুক্তি এবং তৃতীয় ধাপে সম্প্রতি বাংলাদেশ মন্ত্রিসভা ১৯ কোটি ডলারের আরেকটি ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করেছে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের অর্থের ৯০ শতাংশই রাশিয়া ঋণ আকারে দিচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী রুশ কোম্পানি পাবনার রূপপুরে বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করতে কারিগরী সহায়তা ও ঋণ সহায়তা উভয়ই দেবে। ইতোমধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এইরূপ ঋণের ৫৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও হয়ে গেছে। তবে তা হলো মূল ব্যয় ও ঋণচুক্তির প্রাথমিক ধাপ মাত্র। কারণ, ইতোপূর্বে জানানো হয়েছিল, প্রস্তাবিত প্রকল্পের চুল্লি দুটি স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার এবং এই প্রকল্পের পরিচালক শৌকত আকবর জানিয়েছিলেন, সরকার রাশিয়ার কাছে এ বিষয়ে বড় অংকের ঋণের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে এই প্রকল্পকে ঘিরে ধীরে ধীরে ঋণের এক বিশাল বোঝা চেপে বসছে ভবিষ্যত প্রজন্মের উপর।

২০১৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় এই প্রকল্প অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল এতে ৫২৪২ কোটি টাকা খরচ হবে। তার আগে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর এ বিষয়ে রাশিয়া ফেডারেশনের সঙ্গে সরকারের একটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি হয়ে যায়। এখন প্রকল্পের সাথে যুক্ত কেউই বলতে পারছেন না প্রকল্পের পুরো খরচ প্রকৃত পক্ষে কত হবে এবং কবে এটার ফল পাওয়া যাবে। যদিও প্রথমে ধারণা দেয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে এখান থেকে বিদ্যুত পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ। কিন্তু মূল চুল্লী স্থাপনের সময়ই এখনও চূড়ান্ত হয়নি তবে বিভিন্ন ‘প্রাথমিক কাজ’-এ অর্থ ব্যয় অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার চেরনোবিল ও জাপানের ফুকুশিমা দাইকিতে দুর্ঘটনার পর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের হার কমে আসলেও এ বিষয়ে নিরুদ্বেগে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ । বিশেষত, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে স্ট্রনসিয়াম ৯০ এবং সিজিয়াম ১৩৭ নামে যে বর্জ্য তৈরি হয় সেটা কোথায় ফেলা হবে সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ ও রাশিয়া কোনপক্ষই স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে নেবে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী অন্যদেশের পারমাণবিক বর্জ্য তারা গ্রহণ করে না। তা ছাড়া চুল্লী স্থাপন নিয়ে হলেও পারমাণবিক বর্জ্য বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সমঝোতা বা চুক্তিও হয়নি।

Ruppur Atomic Plant.jpgএছাড়া, বলা হচ্ছে চুল্লী শীতলিকরণের জন্য যে পানি ব্যবহৃত হবে তা নেয়া হবে পদ্মার স্রোত থেকে এবং সেই পানির প্রায় পুরোটাই আবার পদ্মার স্রোতে ফেলা হবে। এইরূপ তীব্র গরম পানি পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাণবৈচিত্র্যেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হলেও সে নিয়ে কোন পরিবেশগত সমীক্ষা চালানো হয়নি সরকারি-বেসরকারি কোন তরফ থেকে।

এদিকে দেশের পদার্থ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইরূপ একটি বিদ্যুতকেন্দ্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখা, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা হলে তা প্রতিরোধ, তেজষ্ক্রীয়তা থেকে সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশে ন্যূনতম কোন জনবল নেই এবং কোন পূর্বাবিজ্ঞতাও নেই। এইরূপ অবস্থায় অতি ঘন বসতিপূর্ণ একটি এলাকায় এইরূপ কেন্দ্র স্থাপন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে রূপপুরে পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তখনকার বসতি পরিস্থিতি ও পদ্মার স্রোত ছিল একেবারেই আলাদা। এখন পাঁচ দশক শেষে পাবনার নতুনতর জনমিতিক পরিবেশে একইভাবনা নিয়ে এগোনো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষত চুল্লী শীতলিকরণের জন্য প্রতিদিন যে সাত লাখ গ্যালন পানি সংগ্রহ ও ফেলা প্রয়োজন তার সুযোগ এখন আর আছে কি না সেটা বিরাট এক পরিবেশগত প্রশ্ন আকারে হাজির হয়েছে।

এছাড়া মূল শঙ্কা তৈরি হয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়েও। ভিভিইআর (Voda Voda Enargo Reactor) ১০০০ নামের রাশিয়ার এই পারমাণবিক চুল্লী বিশ্বব্যাপী দুর্ঘটনা প্রবণ হিসেবেই গণ্য হয়। এছাড়া অতীতে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র সেসব শিল্পোন্নত দেশই স্থাপন করেছে যাদের এর দুর্ঘটনা মোকাবেলার মতো আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ছিল। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিলের চেরনোবিল দুর্ঘটনা মোকাবেলা করতেই রাশিয়ার ১৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সরাসরি মৃত ছাড়াও এই দুর্ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির শিকার ২ লাখ উদ্ধারকর্মীও। বাংলাদেশে এইরূপ তেজষ্ক্রীয়তা শনাক্ত করা ও তার চিকিৎসা করার মতো কোন অবকাঠামোই নেই।

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বে যে চার শতটি পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে তার এক চতুর্থাংশই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এবং চীন ব্যতীত আর কোন দেশই এখন এইরূপ কেন্দ্র তৈরিতে আর উৎসাহিত নয়।

প্রোব/আপা/পি/জাতীয়/১৩.০৬.২০১৪

১৩ জুন ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:৫৮:৫৯ | ১৭:২৬:০২

জাতীয়

 >  Last ›