A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দু’দিনের ফিদাইন হামলা গভীর নিরাপত্তা সংকটে পাকিস্তান | Probe News

দু’দিনের ফিদাইন হামলা
গভীর নিরাপত্তা সংকটে পাকিস্তান

5395ac0191689.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: করাচিতে তেহরিক-ই-তালিবানের ফিদাইনদের দু’দিনের পুনঃপুন হামলা পুরো পাকিস্তানকে বিস্ময়ে স্তব্দ করে দিয়েছে। দেশটির সকল মতাদর্শের গণমাধ্যম আজ একযোগে বলছে, গভীর নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে তাদের দেশ। যদিও রাজনীতিবিদরা পরস্পরকে দোষারোপ করেই দায়িত্ব শেষ করছেন। সে দেশের সুপরিচিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন বলেছে, ‘এটা সুস্পষ্ট এক মনস্তাত্ত্বিক হামলা; পাকিস্তান আবারও এমনভাবে বিশ্ব সংবাদ হলো- যা কোন দেশের হওয়া উচিত নয়।’

উল্লেখ্য, হামলাকারী হিসেবে দাবিদার তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি)-এর সঙ্গে নওয়াজ সরকারের শান্তি আলোচনার যথার্থতা নিয়েও গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে গত দুই দিনের ঘটনার পর। স্পষ্ট যে, হামলার সঙ্গে যুক্তরা বাস্তবে শান্তির পথ রুদ্ধ করতে চাইছে। গত ২৫ মার্চ শুরু হওয়ায় শান্তি সংলাপের শুরুতে দু’ তরফ থেকে যুদ্ধ বিরতির অঙ্গীকার হয়েছিল সেটাও এর ফলে ভেঙ্গে গেল।

যেভাবে সর্বশেষ হামলা
যেকোন দেশের মতোই পাকিস্তানেও বিমান বন্দরকে সবচেয়ে সুরক্ষিত একটি স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান বন্দরও বটে। হামলাকারীরা খুব সহজে সেখানে ঢুকতে পেরেছে। এমনকি তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে দরোজায় সবচেয়ে কঠোর থাকার কথা সেখান দিয়েই প্রবেশ করেছিল।

f4d860f5-1464-41a4-aef2-9ea870b3ca08_zps7a48f4f9.jpgরোববার রাত সোয়া এগারটায় ১০ জন হামলাকারী দু’ গ্রুপে ভাগ হয়ে করাচি বিমান বন্দরে ঢুকে পড়ে। হাতে ছিল তাদের একে-৪৭ এবং ২২২ রাইফেল। পিঠে ছিল ভারী ব্যাগ ছিল। পুরো বিমান বন্দরের বাতি নিভিয়ে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে সেখানে তান্ডব চালানো হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি বিমানেও উঠে পড়তে চেয়েছিল বা সেগুলোকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। যদিও সে কাজে তারা সফল হয়নি। রাত সাড়ে চারটায় মধ্যরাতের ঐ হামলার সমাপ্তি ঘটে, ১০ জন হামলাকারীই নিহত হন এবং সঙ্গে আরও অন্তত ১৮ জন বিমান বন্দর কর্মীও মারা যায়। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নিহত হামলাকারীদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতি হয়েছিলেন এবং বাকি সাতজন নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মারা গেছেন।

প্রায় ১৭ ঘন্টা জিন্নাহ বিমান বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকে এই ঘটনায়। মঙ্গলবার সেখানে আবারও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে, দ্বিতীয় দফা হামলার পর। আজকের লক্ষ্যস্থল ছিল বিমান বন্দরের পাশেই এয়ারফোর্স সিকিউরিটি ফোর্সের দফতরে। হামলা শেষে আক্রমণকারীরা আবাসিক এলাকায় পালিয়ে যায়।

দফায় দফায় এসব হামলার ধরন, ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির চরিত্র বলে দিচ্ছে বহুদিনের পরিকল্পনার ফসল তা। টিটিপি বলেছে, এসব হামলা চালানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত তাদের নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদের খুনের বদলা হিসেবে। ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর হাকিমুল্লাহ নিহত হয়েছিলেন।

সোমবার ও আজকের আক্রমণে এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংস্থা। আজ বিমান বন্দরের কোল্ড স্টোরেজ-এর ভেতর থেকে ৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সময় এই হতভাগ্যরা গুলি বিনিময়ের থেকে নিরাপত্তা পেতে কোল্ড স্টোরেজে ঢুকে পড়েছিলেন বা সেখানে আটকা পড়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবারের হামলাকারীরা নিহত হওয়ার ঘোষণার পর পাকিস্তানে সাময়িক স্বস্তি এলেও দ্বিতীয় হামলা ঠিক ততোধিকভাবেই জানিয়ে দিয়েছে দেশটি কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে হামলাকারীরা সবাই ছিল বিদেশী। সেক্ষেত্রে স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানে তারা ঢুকছে কীভাবে।

রাষ্ট্রপতি মামুন হোসাইন হামলাকারীদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু ১০ জন কাপুরুষ যে দেশকে এভাবে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেয়; সে দেশ ঐ কাপুরুষদের অনুরূপ শত শত সহযোদ্ধার মুখোমুখি হতে আদৌ সক্ষম কি না, স্বভাবত সেই প্রশ্নও ওঠেছে।

Karachi.jpgটিটিপি’র তরফ থেকে এরূপ বিধ্বংসী হামলা এই প্রথম নয়
পাকিস্তানের বিমান বন্দরগুলোর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সামর্থ্য নিয়েও গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে এবারের দু’ দফা হামলায়। কারণ, এটা ছিল সাম্প্রতিক অনুরূপ আরও কয়েকটি হামলার সর্বশেষ। ২০১১ সালের ২ মে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পরই টিটিপি পাকিস্তানের সামরিক ও আধা-সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়ে দেয়।
২০১১ সালের ২২ মে এবং ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট যথাক্রমে করাচি নেভাল বেস এবং কামারা এয়ার বেসে অনুরূপ হামলা করেছিল টিটিপি। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর এইরূপ আরেক দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হয়েছিল পেশোয়ার বিমান বন্দর।

টিটিপি’র জন্ম কথা
চলতি দুই হামলার পর বিশ্ব তারকায় পরিণত হওয়া টিটিপি’র জন্ম ২০০৭-এর ডিসেম্বরে। মূলত পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যূষিত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকাই টিটিপির বিচরণভূমি। সাধারণ পাকিস্তানীদের কাছে এই সংগঠনটি ‘পাকিস্তান তালেবান’ নামে পরিচিত, যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো উপদল রয়েছে।

নামের মিল থাকলেও আফগান তালেবানদের সঙ্গে টিটিপি’র গভীর কোন যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায় না, যদিও উভয়ের শক্তিভিত পশতুন তরুণ সমাজ। বায়তুল্লা মেহসুদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল এটা। এখন যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোল্লা ফজলুল্লাহ।

টিটিপি’র প্রধান দুটি দাবি হলো পাকিস্তানে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন ও আফগানিস্তানে ন্যাটোর অপারেশন বন্ধ করা। গতকাল ও আজকের হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সাধারণ মূল্যায়ন হলো টিটিপি জোটে অনেকগুলো উপদল রয়েছে। যার কোন কোনটি চাইছে না সরকারের সাথে শান্তি আলোচনা চলুক। এসব উপদলকে নিয়ন্ত্রণের মতো কোন নেতাও নেই জোটে।

সম্প্রতি সরকার শান্তি সংলাপকালে জোটনেতাদের ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিল উত্তর ওয়াজিরিস্থান থেকে বিদেশী যোদ্ধাদের বের করে দেয়ার জন্য। গত ৬ জুন হাজি শের মোহাম্মদের অনুগত উতমানজাই উপজাতির জিরগার সঙ্গে খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশের গভর্ণর সর্দার মেহতাব আহমাদ খান ও লে. জে খালিদ রাব্বানির এক বৈঠককালে উপরোক্ত সময়সীমার বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছিল। এই সময়সীমা বেঁধে দেয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই করাচির দুই হামলা ঘটে। ফলে সরকারের পক্ষে এখন শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আর বিশেষ কোন সুযোগ নেই বলেই মনে হচ্ছে।

টিটিপির মুখপাত্র শহীদুল্লাহ শহীদ সোমবারের হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে আসন্ন সপ্তাহগুলোতে অনুরূপ আরো হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। স্পষ্টত এটা রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার বার্তা। ফলে পাকিস্তান জুড়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এ মুহূর্তে। বিশেষত. টিটিপিতে প্রচুর দুর্ধর্ষ উজবেক যোদ্ধা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলোর কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। উপজাতি অধ্যূষিত মিরালি এলাকা এদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে, যারা মূলত ‘ইসলামিক মুভমেন্ট উজবেকিস্তান’-এর আত্মগোপনকারী সদস্য।

উল্লেখ্য, টিটিপি জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে পাকিস্তানের সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার সাধারণ মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।

প্রোব/আপা/পি/দক্ষিণএশিয়া/১০.০৬.২০১৪

১০ জুন ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৯:৫৫:১৩ | ১৫:১৭:৪৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›