A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নৃশংস নির্যাতনে ছাত্রদল নেতা খুন | Probe News

ছাত্রলীগের টর্চার সেল
নৃশংস নির্যাতনে ছাত্রদল নেতা খুন


Sylhot BCL.jpgপ্রোবনিউজ, সিলেট: ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসের ১০০৩ নম্বর কক্ষ ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল’ নামেই পরিচিত। বুধবার বিকালে ছাত্রলীগ কর্মী রাফি রিকাবীবাজার থেকে ডেকে এনে ছাত্রদল নেতা তাওহীদুল ইসলামকে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ওই কক্ষে আটকে রেখে তাওহীদুলের ওপর চালানো হয় নৃশংস নির্যাতন। লোহার রড ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। ৫-৬ জন ক্যাডার মিলে টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা চলে এ নির্যাতন।
এক সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে তাওহীদুল। এতে তার শরীর পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর ‘প্রাণ’ আছে দাবি করে ডাক্তার তাকে নিয়ে যান আইসিইউতে। সেখানে তাকে দুই ঘণ্টা রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী তাওহীদুল ইসলামকেমৃত ঘোষণা করেন ।
হত্যাকাণ্ডটি প্রথমে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু কলেজের ছাত্রদল সভাপতি আসলামুল ইসলাম রুদ্র এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘আবু সিনা ছাত্রাবাসের ওই কক্ষটি ছাত্রলীগের টর্চার সেল। ওখানে বহু নিরীহ ছাত্রকে ধরে নিয়ে পেটানো হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ সব কিছু জানলেও মুখ খোলেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সৌমেন, আবু সিনা ছাত্রাবাসের ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাই, ছাত্রলীগ কর্মী শরীফ ও অমিত সহ বেশ কয়েকজন টানা কয়েক ঘণ্টা নির্যাতন চালিয়ে খুন করেছে তাওহীদকে।
নিহত তাওহীদুল ইসলাম সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী। সে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বাড়ি শরিয়তপুর জেলার জাজিরা এলাকায়। তার পিতা শামসুর রহমান একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাওহীদ ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র। মা ও বোনকে নিয়ে কাজল শাহ এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। বোন নাহার বেগম সিলেট সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার তাওহীদের সহপাঠীরা জানায়, বুধবার তাওহীদ কলেজে গিয়েছিল। সে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশও নেয়। এরপর চলে যায় বাসায়। বিকালে তাওহীদ ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসের পাশে রিকাবীবাজারে অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মী রাফি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাওহীদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মোবাইলে কল দেয়া হলেও কেউ রিসিভ করেনি। রাত ৮টার দিকে তারা শুনতে পান তাওহীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ তলার আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এ খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। কিন্তু প্রথমে তাদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে কলেজের প্রিন্সিপাল তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান হাসপাতালের আইসিইউতে তাওহীদের লাশ দেখতে যান। তিনি লাশ দেখে বেরিয়ে আসার সময় বিএমএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই কোন না কোন ছাত্রকে মারধর করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি তাওহীদের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত ৩-৪ মাস ধরে ছাত্রলীগের নির্যাতন বেড়ে গেছে। একাধিক বার ছাত্রদল কর্মীদের ধরে রুমে নিয়ে পেটায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘অধ্যক্ষ ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে ফোন দিয়ে তিনি বারবার এর প্রতিকার চেয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অধ্যক্ষ বাইরের একটি ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীদের বহিষ্কার করেন।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও হাসপাতালে তাওহীদের লাশ দেখতে যান। তিনি রাজনৈতিক মনোভাবের ঊর্ধ্বে উঠে খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আব্দুস সালাম জানান, ‘সন্ধ্যায় তাওহীদকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সামান্য একটু পালস ছিল দেখে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলাম। তবে তাকে বাঁচানো যায়নি।’
এদিকে ডাক্তারি রিপোর্টে দেখা গেছে, তাওহীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার পেছন দিকে একেবারে থেঁতলে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ধারণা করছে রড অথবা পাইপ জাতীয় কিছু দিয়ে তাকে পেটানোর ফলে তার মৃত্যু হয়। বুধবার রাতেই কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাওহীদকে হত্যার পর ছাত্রলীগ কর্মীরা হোস্টেলেই ছিল। রাত ৮টার পরে হোস্টেল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
খুনের ঘটনার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রাতেই ছাত্রদলকর্মীরা সিলেট ওসমানী হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা অনতিবিলম্বে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামালের নেতৃত্বে রাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সমাবেশ করে ছাত্রদল। এ সময় মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রুদ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেন।
তাওহীদ খুনে প্রতিবাদে রোববার আধাবেলা হরতাল: নিহত তাওহীদের জানাজার পরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এমএ হক। এ সময় তার সঙ্গে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এমএ হক অভিযোগ করেন, তাওহীদের খুনি কারা তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কিন্তু প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তিনি বলেন, তাওহীদকে পৈশাচিক কায়দায় নির্মমভাবে খুন করা হয়। ছাত্রলীগের টর্চার সেলে তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে খুন করা হয়। তিনি বলেন, খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এ সময় তিনি রোববার সিলেট নগরীতে সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোববারের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৯তম ব্যাচের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র, ছাত্রদল নেতা মো. তাওহীদুর রহমানকে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের ডাকা অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘট চলছে। ছাত্রদলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সকল শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুরে মিছিলে কলেজ ছাত্রদলের সঙ্গে জেলা, মহানগর ছাত্রদল ও অন্যান্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রদল অংশগ্রহণ করে।
৬ দিনের বন্ধ ঘোষণা, তদন্ত কমিটি গঠন: ছাত্রদল কর্মী তাওহীদ খুনের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ৬ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কলেজ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসন বৈঠক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অধ্যাপক একেএম মোশারফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলেজ বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রোব/এহ/জাতীয় ০৬.০৬.২০১৪

৬ জুন ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:২৯:৩৯ | ১১:৩৭:৪৮

জাতীয়

 >  Last ›