A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মুক্তিযুদ্ধ এবং একজন ফরাসি সাংবাদিক | Probe News

প্রোব নিউজ, ঢাকা: ফরাসি সাংবাদিক ফিলিপ আলফঁনসি।১৯৭১ সালে তরুন সাংবাদিক আলফঁনসি কাজ করছিলেন ফ্রান্সের একমাত্র টিভি চ্যানেলে। আর সেই সুবাদে তিনি তখন হাজার মাইল দূর থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের  খবর সংগ্রহ করতে। সেই তিনি আবার ঢাকায় এসেছেন, এসেছেন বাংলাদেশে। আশা তাঁর মিশে থাকবেন এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে।
১৯৭১  তার সংগ্রহ করা প্রায় দুই ঘণ্টার ভিডিওচিত্র নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ডকুমেন্টারি ফিল্ম। আর তার পরিবেশন করা খবর সেই সময়ে আলোড়ন তোলে ফ্রান্সে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর পক্ষে বাংলাদেশে প্রবেশ অত সহজ ছিলনা। এপ্রিল মাসে তিনি কলকাতা থেকে শরণার্থীদের পথ ধরে চুয়াডাঙ্গার কাছে পৌঁছান। তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগে ঐ এলাকায় বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তখন তাঁকে এক দল মুক্তিযোদ্ধা জানালেন, বাংলাদেশে ঢুকতে হলে পাসপোর্টে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিসা লাগবে। আর তাঁর পাসপোর্টে  মুক্তিযোদ্ধারা সত্যি সত্যি একটা সিল দিয়ে দিলেন। ফিলিপ আলফঁনসি জানান,‘ যতদূর মনে পড়ে, একটা আলু কেটে সেই সিলটা বানানো হয়েছিল।’
france journalistসেই তরুন ফরাসি সাংবাদিক বাংলাদেশকে ভোলেননি। ভোলেননি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে। তাই পরিণত বয়সে আবার এসেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তাঁর সেই পাসপোর্ট  আর ভিসা। তা হাস্তান্তর করেছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে।
শনিবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে পাসপোর্ট  হস্তান্তর উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়া উদ্দিন তারিক আলি ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের প্রেসিডেন্ট কাজী এনায়েত উল্লাহ। পাসপোর্ট হস্তান্তরের পর ফিলিপ আলফঁনসি বলেন, ‘এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হস্তান্তর করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি ঐ নয় মাসের সঙ্গী ছিলাম। আমি দেখেছি, পাকিস্তানের  অগ্নিবোমা। এর মধ্যেও আমি ভিসা পেয়েছি। ওই সময় আমার সঙ্গে সাংবাদিক অ্যালান কোন্সেস ছিলেন। তিনি এখন আর বেঁচে নেই। আমার এ পাসপোর্টটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তার মানে আমি আপনাদের মধ্যে আছি!’ আলফঁনসি’র ভাষায়, এর মাধ্যমে তিনি জাদুঘরে সব সময় থাকবেন ।
আলফঁনসি জানান, ১৯৭১ সালে প্রথম দফায় বাংলাদেশে ঢুকে  তিনি ১০/১৫দিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি কলকাতায় ফিরে গিয়ে দেখেন সেখানে অনেক সাংবাদিক অপেক্ষমাণ। তাঁরা তাকে  রীতিমতো ছেঁকে ধরেছিলেন।তিনি বলেন, তাঁর সেসব সাহসী প্রতিবেদন টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পর বিপুল সাড়া পড়ে যায় ফ্রান্সে। তিনি বলেন,‘সামরিক শক্তির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ছিল খুব দৃঢ়। স্বভাবে তাঁরা ছিলেন শান্ত। যথেষ্ট শৃঙ্খলাও ছিল তাঁদের মধ্যে। তাঁদের দেখেছি সাধারণ মানুষজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছিলেন। সাধারণ মানুষজনও পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের।’
এদিকে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আলফঁনসি’র ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রের প্রদর্শণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই তথ্যচিত্রের নাম ‘নায়ক’। আর তা নির্মাণ করেছেন প্যারিস প্রাবাসী বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের ছেলে প্রকাশ রায়।
প্রোব/হার/ঢাকা/জাতীয়/০১.০৩.১৪

১ মার্চ ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:৪৮:০৪ | ১৮:০২:১৬

জাতীয়

 >  Last ›