A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দক্ষতার অভাবে বিদেশে কদর কমছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের | Probe News

দক্ষতার অভাবে বিদেশে কদর কমছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের
  শ্রমিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় বেকারত্বের চাপ বাড়ছে দেশে
  ভারত, চীন এবং ফিলিপাইনের শ্রমিকরা দক্ষতা-যোগ্যতায় এগিয়ে


Manpower - Home Picture.jpgইবরাহীম খলিল, প্রোবনিউজ: প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কদর কমছে বিদেশে। একই কারণে অনেক শ্রমিককে বিদেশ থেকে ফেরতও আসতে হচ্ছে। দক্ষতার অভাবে বিদেশে বাংলাদেশিদের কদর কম একথা হর-হামেশায় স্বীকার করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।


সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায় বৈঠকেই তিনি বলেন, দক্ষতা বাড়ানোর জন্য জেলায় উপজেলায় ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। একদিনে সব কিছু করা সম্ভব নয়। একথা বিদেশি কুটনীতিকদেরও বোঝানোর চেষ্টা করেন মন্ত্রী। শ্রমিক রপ্তানি কমে যাওয়ার এটি একটি কারণ।


দক্ষতা কম থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে পেরে ওঠছেন না বাংলাদেশের শ্রমিকরা। অধিক পরিশ্রম করেও যে বেতন পান তা কোন কোন ক্ষেত্রে অন্য দেশের শ্রমিকের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ। দক্ষতা না থাকায় ভারত, চীন এবং ফিলিপাইনের শ্রমিকদের ধারে-কাছে যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা। বিদেশে শ্রমিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় বেকারত্বের চাপ বাড়ছে দেশের অভ্যন্তরে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিক সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও আবুধাবীসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমুহে গমন করে।


কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওই দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রেমিটেন্সেও।


বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমুহের রাষ্ট্রদূতরা যতবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ততবারই দক্ষ শ্রমিক চেয়েছেন। বিশেষ করে পেশাদার লোক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে বাংলাদেশে ডাক্তার, সেবিকা এবং গৃহস্থালীর কাজের লোক। কিছু কিছু দেশে পোশাক কারখানার কাজ করার লোক।


পরিসংখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের একজন শ্রমিক সারাদিন কাজ করে যা বেতন পান ভারত কিংবা চীনের শ্রমিকরা কয়েকগুন বেশি পারিশ্রমিক পান। কাজ না জেনে বিদেশ গমণের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। একই কারণে দেশের সুনামও ক্ষুন্ন হচ্ছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, কাজ না জেনে বিদেশে যাওয়ার কারণে অনেক কোম্পানি তাদের কাজে নিতে চায় না। এই দুর্নামের কারণে এদেশে থেকে এক সময় শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিতে পারে বিদেশিরা।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশি শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করে স্বাচ্ছন্দবোদ করেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, Manpower 2.jpgওমান এবং বাহরাইনে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় রেমিটেন্সেও এর প্রভাব পড়ছে। ২০১৩ সাল থেকে এই শ্রমিক রপ্তানি কমতে থাকে। এই প্রবণতা ২০১৪ সালেও অব্যাহত রয়েছে।


ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)- এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে এই শ্রমিক রফতানি কমতে থাকে। এই প্রবণতা ২০১৪ সালেও অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ অর্থ বছরে প্রতি মাসে গড়ে বিদেশগামীর সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজারের বেশি। ২০১৩ সালে সেই পরিমাণ নেমে দাড়ায় ৩৬ হাজারে। ২০১৪ সালের এটি দাঁড়ায় ৩৩ হাজারে। এর অর্থ দাঁড়ায় প্রতিমাসে অন্তত ২০ হাজার মানুষের রেমিটেন্সে অবদান কমছে। একইসাথে এসব শ্রমিক বাংলাদেশে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে বাংলাদেশে অতিরিক্তি ২০ হাজার শ্রমিকের চাপ বাড়ছে।


এদিকে, দক্ষতার অভাবে পার্শ¦বর্তী দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠছে না বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তারা সারাদিন পরিশ্রম করে যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পান বাংলাদেশির পান তার চেয়ে তিন চার ভাগের এক ভাগ।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)- এর ২০১০ সালের হিসেবে একজন বাংলাদেশি যেখানে গড়ে ১ হাজার ৬ শ’ ৭২ ডলার উপার্জন করেন; সেখানে একজন ভারতীয়, ফিলিপাইন এবং চীনা যথাক্রমে ৪ হাজার ৮শ’ ৪৩, ৪ হাজার ৯শ’ ৮২ এবং ৬ হাজার ১শ’ ১২ মার্কিন ডলার মজুরী পান।
এদিকে বৈধভাবে বিদেশ যেতে না পেরে অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছে অনেক মানুষ। বিশেষ করে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে গেছে। গত কয়েক মাসে অন্তত ২০ হাজার মানুষ মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়ায় এ প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে এক দিকে দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ছে অন্যদিকে দেশের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। আর যারা পুলিশের হাতে ধরা খাচ্ছে তারা দীর্ঘ জেল খাটার পর নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরছেন।
উদ্বেগের বিষয় হলো- প্রবাসীরা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকার পাঠানোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে কম খরচ হওয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি না করায় উপার্জন কমে যাওয়ার কারণে প্রবাসীরা অবৈধ উপায়ে দেশে টাকার পাঠান বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


উদ্বেগজনকহারে শ্রমিক রপ্তানি কমে যাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রটিং এজেন্সিস বায়রা। সংগঠনটির নেতা এম শাহ জালাল মজুমদার এ প্রতিবেদককে জানান, মন্ত্রীর কারণে ১২ শ’ রিক্রুটিং এজেন্সি পথে বসে গেছে। একথা বার বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু মন্ত্রীর সঙ্গে পারা যায় না। মন্ত্রী তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি ।
প্রোব/ইখ/পি/জাতীয়/০৬.০৬.২০১৪

 

৬ জুন ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১৫:০১ | ১৭:৫৪:৪১

জাতীয়

 >  Last ›