A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

মুজিব নিখোঁজের এক মাস, সন্ধান না পেয়ে হতাশ স্বজনরা | Probe News

 মুজিব নিখোঁজের এক মাস, সন্ধান না পেয়ে হতাশ স্বজনরা

 

sunamgonj mujib pic.jpgপ্রোবনিউজ, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব নিখোঁজের এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো তার খোঁজ মেলেনি। আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি তার গাড়িচালক কিংবা গাড়িরও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মুজিবের পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজন সকলেই হতাশায় ভুগছেন।


এর আগে, ৪ মে রোববার সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সিলেটে ফেরার পথে নিখোঁজ হন এই বিএনপি নেতা। কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও এখনো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিএনপিও এখন নীরব রয়েছে।
মুজিবুর রহমান নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাগনি জামাই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম সুনামগঞ্জ মডেল থানায় ৫ মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


পুলিশ ৬ মে সাংবাদিকদের জানায়, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ মুজিবের মোবাইল ফোন ৪ মে রোববার বিকাল ৫ টায় জেলার ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকা অতিক্রম করেছে। পরদিন সোমবার পৌনে ১ টায় ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা এলাকায় সামান্য সময় চালু ছিল তার ফোন, পরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর আর ট্র্যাকিং করা যায়নি।


শুরুর দিকে মুজিবের স্বজনরা বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ৫৯ ব্রিকলেনের বিখ্যাত পাব সেভেন স্টার ভাড়া দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে ভাড়াটেদের দিয়ে অপহরণ করা হতে পারে। সুনামগঞ্জ শহরের পুরান বাস স্টেশনের একটি বিপণি বিতান নির্মাণ নিয়েও দ্বন্দ্বের বিষয়টি এই সময় আলোচনায় আসে।
মুজিব নিখোঁজের বিষয়ে তার স্বজন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে একেক সময় একেক তথ্য এবং নানা সূত্রে নানা গুজবও রটে।


৮ মে বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় সকাল ১১ টায় লন্ডনের ইলফুড শহরে মজিুবর রহমানের বাসার সামনের লেটারবক্সে কে বা কারা একটি চিরকুট ফেলে যায় । ওই চিরকুটে লেখা ছিল নিখোঁজ বিএনপি নেতা মুজিবকে সিলেটের একটি স্থানে অপহরণকারীরা আটকে রেখেছে।


চিরকুটে আরো উল্লেখ ছিল, সিলেট থেকে একটি সিএনজির মাধ্যমে মুজিবুর রহমান ও তার গাড়ি চালককে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের পৃথক বাসায় তাদের দুজনকে আটকে রাখা হয়েছে। তবে কে বা কারা তাদের অপহরণ করেছে সে বিষয়ে চিরকুটে স্পষ্ট করা না হলেও দুইদিনের মধ্যে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলেও চিরকুটে উল্লেখ ছিল।


এক পর্যায়ে সিলেট শহরের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কিত মামা আব্দুল মুকিতকে মুজিব অপহরণের জন্য সন্দেহ করা হয়। বলা হয় তার কাছে মুজিব কয়েক কোটি টাকা পেতেন। ওই টাকা দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করতেন মামা আব্দুল মুকিত। কিছুদিন পূর্বে মুজিবুর রহমানকে টাকা না দিয়েই তিনি লন্ডনে চলে যান। অপহরণের সঙ্গে আব্দুল মুকিতের ভাগনে সোয়েব আহমদ শামীম ও তার ভাতিজা হাবিবুর রহমান জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানানো হয় মুজিবের পরিবার থেকে।
মুজিব নিখোঁজের এক সপ্তাহের মাথায় ১০ মে এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়।


১০ মে রাতেই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিবসাত ইউপি সদস্য চরশিরতা গ্রামের লিয়াকত ও আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়। এদের আটকের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে আরো নানা তথ্য জানানো হয়।


এক পর্যায়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে মুজিবের মোবাইল ধরা পড়লে পুলিশ ওখানেও অভিযান চালায়। ওখানকার পুলিশি অভিযানও নিস্ফল হয়।


ময়মনসিংহ থেকে আটক লিয়াকত ও আবুল কালামকে ১৪ মে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১৫ মে ব্রিটিশ পুলিশের একটি দল মুজিবের স্বজনদের জানায় ‘মুজিব জীবিত’ আছেন, শীঘ্রই উদ্ধারও হবেন।


১৬ মে যুক্তরাজ্যের দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা মি. নিক ও মি. গ্রাহাম বাংলাদেশে আসেন এবং ‘মুজিব জীবিত আছেন, শিগগির তাকে উদ্ধার করা হবে। বলেও মন্তব্য করেন।


২০ মে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা গ্রামের মৃত সফিক উদ্দিনের ছেলে মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৫ মে তাকেও ১ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এক মাসের মাথায় এসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এসব তৎপরতায় কোন ফল পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন ‘নিখোঁজ’ মুজিবের স্বজনরা।


‘নিখোঁজ’ মুজিবের ভাতিজা আবুল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসির সঙ্গে সোমবারও আমরা দেখা করেছি, কোন আপডেট তারা আমাদের জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে আমরা খুবই হতাশ।’
মুজিবের শ্যালক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ, এক মাস পার হলেও আমাদের কাছে কোন আপডেট নেই। পুলিশের কাছেও নেই। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মি. নিক ও মি. গ্রাহামও গত শুক্রবার লন্ডনে চলে গেছেন। বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মি. নাইজেলও সোমবার মোবাইল ম্যাসেজের জবাবে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরতি ম্যাসেজে জানিয়েছেন, ‘কোন আপডেট নেই।’


মুজিবের বেয়াই সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘মুজিব জীবিত আছেন বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হলেও অগ্রগতির কোন খবরই তারা জানাতে পারেননি।’
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এখন আর কোথাও অবস্থান করে নিখোঁজ মুজিবকে খুঁজছেনা পুলিশ। বিভিন্ন উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চেষ্টা করছে। মাফিয়া চক্রের সঙ্গে মুজিবের সম্পৃক্ততা বা এদের দ্বারাই এই ঘটনা ঘটতে পারে এমন বিষয়ও সুনির্দিষ্ট নয়। আগের মতোই ভাসাভাসা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, মুজিব জীবিত আছেন বলে আগে যেভাবে বলা হয়েছিল, এখনো সে রকমই মনে করা হচ্ছে।’

প্রোব/এসডি/এমএম/জাতীয়/০৪.০৬.২০১৪

৪ জুন ২০১৪ | জাতীয় | ১২:১২:৫৯ | ২০:৫২:০৭

জাতীয়

 >  Last ›