A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

তালেবানদের সঙ্গে বরিন্দবিনিময়: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড় | Probe News

তালেবানদের সঙ্গে বন্দিবিনিময়: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড়


US Prison.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: পাঁচ তালেবানের মুক্তির বিনিময়ে একজন সেনাকে ছাড়িয়ে আনার মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রিপাবলিক দলের প্রায় সব নেতারা এক যোগে পাঁচজন তালেবানের বিনিময়ে একজন সেনার মুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এসব সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারাও বলেছেন, তালেবানের হাতে বন্দী মার্কিন সেনা বাও বার্গডেলের জীবন বাঁচানোর জন্যই সরকার বন্দী বিনিময় করেছে।

বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপের বিষয়ে দু’দিক থেকে সমালোচনা আসছে। প্রথমত, কংগ্রেসকে বিষয়টি অবহিত করার ধরন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কারণ মার্কিন আইন অনুযায়ী হোয়াইট হাউজের উচিত ছিল বন্দী বিনিময়ের বিষয়টি একমাস আগে কংগ্রেসকে জানানো। কিন্তু তা না করে হোয়াইট হাউজ গত শনিবার কংগ্রেসের মাত্র কয়েকজন সদস্যকে ডেকে এনে তাদেরকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় এবং এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বন্দী বিনিময় করা হয়। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, তালেবানের হাতে আটক মার্কিন সেনাকে বাঁচানোর জন্যই এ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপের বিষয়ে রিপাবলিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সরকারের কর্মকাণ্ডে বিরোধীরা সন্তুষ্ট নয়।

সরকারের এ পদক্ষেপের বিরোধিতার দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, যে পাঁচজন তালেবানকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলা হচ্ছে তালেবান গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব তো রয়েছেই এমনকি আল-কায়েদার সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। এসব সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউজ বলেছে, কাতারের মধ্যস্থতায় এ বন্দী বিনিময় হয়েছে এবং দেশটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মুক্তি প্রাপ্ত তালেবানরা মার্কিন বিরোধী কোনো তৎপরতা চালাবে না।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বন্দি বিনিময়ের সমালোচকরা বলছেন, কাতারের আমির এ ধরণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেনে চলার নিশ্চয়তা দেননি। তারা আরো বলেছে, এর আগেও গুয়ান্টানামো বে জেলখানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারা পছন্দমত দেশে গিয়ে ফের আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কিন বিরোধী তৎপরতা শুরু করেছে। যে পাঁচ জন তালেবানকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে তারা তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ মার্কিনী একজন সেনার বিনিময়ে পাঁচজন তালেবানকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয়। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর গত ১৩ বছর ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আপোষ না করার কথা বলে আসছিল এবং তালেবানের সঙ্গে গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনো ধরণের আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেন যুদ্ধে আমেরিকার এক ট্রিলিয়নের বেশি অর্থ খরচ হয়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার সেনা নিহত এবং বহু আহত কিংবা পঙ্গু হয়ে গেছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলেও গুয়ান্টানামো বে ও আবু গ্বারিব জেলখানায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তাদের জন্য বড় কেলেঙ্কারি হয়ে দেখা দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, আটক তালেবান ও আল-কায়েদা নেতাদেরকে ছেড়ে দেয়া সম্ভব নয় এমনকি তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ নাও থেকে থাকে। অথচ একজন মার্কিন সেনা তালেবানের হাতে আটক হওয়ায় তাকে মুক্ত করার জন্য সরকার তালেবানের সঙ্গে বন্দী বিনিময় করতে বাধ্য হয়েছে।

প্রোব/বান/দক্ষিণ এশিয়া

৩ জুন ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৪:০৬:৪৯ | ১০:৩৫:৩৬

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›