A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বিজেপির বিজয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পে গতি বাড়াবে | Probe News

বিজেপির বিজয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পে গতি বাড়াবে


Indian-rivers ( ভেতরে).jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ বিশেষ গতি পাবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। কারণ, এই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছিল অতীতের বিজেপি সরকারের শাসনামলেই এবং বিজেপি বরাবর বলে থাকে এটা হলো তাদের নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ির ‘ড্রিম প্রজেক্ট।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট যে টাস্কফোর্স গঠন করেছিল তার প্রধান ছিলেন বিজেপির মিত্র সংগঠন শিবসেনার নেতা সুরেশ প্রভু। প্রভু সে সময় বাজপেয়ি সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রীও ছিলেন। ইতোমধ্যে খবর বেরিয়েছে মোদির অধীনেও সুরেশ প্রভু প্রভাবশালী মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, এল কে আদভানির মতো মুখ্য বিজেপি নেতারা মনে করেন, বিগত দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপির তিনটি বড় সাফল্যের একটি ছিল নদী সংযোগের ধারণা। নিজের ব্লগেই তিনি এই ধারণা ব্যক্ত করেছেন। আদভানি হলেন বিজেপি পরিবারে এই প্রকল্পের প্রধান সমর্থকদের একজন, যিনি সদ্যসমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের প্রচারাভিযানকালে ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্য প্রদেশে নর্মদা ও কৃষিপরা নদীর আন্তঃসংযোগ ঘটিয়ে বলেছেন, ‘বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা মাত্র এই প্রকল্পের কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে।’ তিনি এই প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেয়ার জন্য মধ্য প্রদেশের চৌহান সরকারকে অভিনন্দন জানান।
বাস্তবে নদী সংযোগের ধারণাটি গড়ে উঠেছে এইরূপ বিবেচনাকে সামনে রেখে যে, ভারতের কিছু অববাহিকায় ‘উদ্বৃত্ত পানি’ রয়েছে এবং সেখান থেকে ঐ পানি ‘অভাবগ্রস্ত অববাহিকায়’ নেয়া যায় পানিপ্রবাহগুলোর আন্তঃসংযোগ ঘটিয়ে। এই ধারণা বাস্তবায়নের জন্যই পরবর্তীকালে গড়ে উঠে ভারতীয় ‘ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের কার্যকালের শেষের দিকে মধ্য ও উত্তর প্রদেশে কেন ও বেতোয়া নদীর মাঝে আন্তঃসংযোগকারী কৃত্রিম খাল তৈরির মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও তারা পুরো মেয়াদে এই কার্যক্রম নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। কেন-বেতোয়া খাল হলো আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ৩০টি খালের একটি। এই প্রকল্পের সমর্থক বিজেপি নেতারা বলে থাকেন, এর বাস্তবায়ন হলে দেশে নতুন করে ৩৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা যাবে। অনেক প্রদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণও সহজ হবে।
এবারের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারাভিযানকালে বিজেপি নেতারা রাজস্থান, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক ও তামিলনাড়–র মতো হিন্দু প্রধান ও খরাপ্রবণ প্রদেশগুলোতে ভোট পাওয়ার জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে তামিলনাড়– ব্যতীত প্রায় সকল প্রদেশে তারা একচেটিয়া বিজয় পেয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের অন্যতম মূল অংশ হলো গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী এবং দুই নদীর শাখা নদীগুলোতে পানি সংরক্ষণের জন্য কৃত্রিম সংরক্ষণাগার তৈরি এবং সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে দেশের অন্যত্র বয়ে নিয়ে সেচের কাজে লাগানো। এর জন্য থাকবে বহু কৃত্রিম খাল। এসব খালের প্রস্তাবিত দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ১০ হাজার কিলোমিটার! এরূপ বিশালত্বের কারণে এই প্রকল্পকে বলা হয় বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প, যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি রূপি।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রথম থেকে এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন কারণ গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের পানির প্রধান উৎস। ভারত পরিকল্পনামত পানি প্রত্যাহার শুরু করলে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা পুরোপুরি পানিশূন্য হয়ে যাবে। যদিও এই শংকার কথা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা কখনোই জোরের সাথে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরেননি।
এদিকে গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় পরিবেশবাদীদের প্রধান জোট ‘বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ (বাপা) এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে পদ্মা ও যমুনায় পানি প্রবাহ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে। এতে করে এখানকার নদী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বিশিষ্ট পানি প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক এ বিষয়ে প্রোবনিউজকে বলেন, ভারত যেভাবে বিভিন্নভাবে অভিন্ন নদীগুলোতে পানি দস্যুতা করছে তাতে বাংলাদেশের মানুষের এখন সময় হয়েছে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবির। কারণ গঙ্গা, তিস্তা ইত্যাদি নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি ঘটছে পাহাড়সম।

এদিকে, বাপার সাথে যুক্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা নদীসংযোগ প্রকল্পের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশে নিম্নোক্ত সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করেছেন:

পুরো অববাহিকা জুড়ে মৎস্য সম্পদের ব্যাপক অবলুপ্তি;
পলির প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়া এবং তার ফলে বঙ্গোপাসাগরে নতুন আর কোন ভূমি তৈরি না হওয়া;
উপকূলীয় এলাকায় ভাঙ্গন ও লবনাক্ততার আগ্রাসন শুরু হওয়া;
নতুন প্রবাহ না থাকায় নদীগুলো বিষাক্ত হয়ে পড়বে এবং আশে পাশের মানুষকে তা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করবে;
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ কমে যাওয়া; এসব অববাহিকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া; ব্রহ্মপুত্রের সাথে সম্পর্কের কারণে তিস্তা ও করোতায় অববাহিকাও আক্রান্ত হওয়া; ইত্যাদি।

প্রোব/আপা/পি/দক্ষিণএশিয়া/১৯.০৫.২০১৪

১৯ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১০:১৯:০০ | ১১:৪৬:৩৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›