A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাংলাদেশে ‘আটকেপড়া’ উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন চেয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে রিটের শুনানি শুরু | Probe News

বাংলাদেশে ‘আটকেপড়া’ উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন চেয়ে
পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে রিটের শুনানি শুরু

 

Highcourt +Pakistan.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর বাংলাদেশে আটকেপড়া উর্দুভাষীদের পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন বিষয়টি আবার সেদেশের সর্বোচ্চ আদালতে উঠলো সম্প্রতি।
গত ১৪ মে বিচারপতি নাসির-উল-মুলকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বেঞ্চ ২০০৯ সালে আবেদনকৃত এতদ্বসংক্রান্ত একটি রিট শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে।
আলোচ্য এই রিটে বাংলাদেশে ‘আটকেপড়া ২ লাখ ৩০ হাজার পাকিস্তানীকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য’ সেদেশের সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানানো হয়।

২০০৯ সালে আটকে পড়া পাকিস্তানীদের সংগঠন জেনারেল রিপাট্রিয়েশন কমিটি [এসপিজিআরসি]-এর পক্ষে এই রিটটি করেছিলেন এডভোকেট রশিদুল হক কাজী।

গত ১৪ মে এই রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা উত্থাপিত বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানানোর জন্য পাকিস্তানের এটর্নি জেনারেল সালমান আসলাম বাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

রিটে আবেদনকারী জানান, ১৯৭২-এর পর থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার আটকেপড়া উর্দুভাষী ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মাঝে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় স্বদেশে ফিরে গেছেন। কিন্তু ১৯৭৪ সাল থেকে পাকিস্তান সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে আছে। যদিও বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক উর্দুভাষী বাংলাদেশ থেকে চলে আসছেন।
এডভোকেট রশিদুল হক কাজী জানান, সর্বশেষ ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন নওয়াজ শরীফ সরকারের মাধ্যমে ৩২৫ জন উর্দুভাষীর একটি দল পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় এসে পুনর্বাসিত হয়েছেন।

যে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের উচ্চআদালতে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আলোচ্য রীটটি করা হয়েছে

সেই এসপিজিআরসি’র বাংলাদেশে উর্দুভাষীদের মাঝে বর্তমানে তেমন সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায় না যদিও ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ ‘জেনেভা ক্যাম্পে’ স্থানীয় আবদুল জব্বার খানের নেতৃত্বে এর একটি কার্যালয় রয়েছে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে বর্তমানে উর্দুভাষী তরুণদের মাঝে মিরপুরভিত্তিক ‘ইয়ুথ রিহ্যাবিলেটেশন মুভমেন্ট’-এর সাগঠনিক প্রভাবই বেশি লক্ষ্য করা যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাধারণভাবে ‘বিহারি’ নামে পরিচিত উপরোক্ত উর্দুভাষীরা বর্তমানে ১৩টি জেলাজুড়ে ১১৬টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাঙ্গালিদের আক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থার তত্ত্বাবধানে উর্দুভাষী মানুষদের জন্য এই ক্যাম্পগুলো নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন এই ক্যাম্পবাসীদের সাধারণ নাগরিক অধিকার উপেক্ষিত হলেও ২০০৮ সালের ১৬ মে উচ্চআদালতের এক নির্দেশনায় এই ক্যাম্পবাসীদের ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশী’ হিসেবে অভিহিত করার জন্য বলা হয় এবং তাদের জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ভোটাধিকার পরিচয়পত্র ইত্যাদি প্রদানের জন্যও বলা হয়।

রাষ্ট্রীয় আদালতের এই নির্দেশনার পর ক্যাম্পগুলোতে সাধারণ উর্দুভাষীদের মাঝে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনের দাবি ক্রমে দুর্বল হয়ে যায়। ঐ সময় সর্বোচ্চ আদালতে এতদ্বসংক্রান্ত রিটটি করেছিলেন এডভোকেট হাফিজুর রহমান খান।
বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তানের উপরোক্ত রিটের বিষয়ে ঢাকাভিত্তিক উর্দুভাষী তরুণদের অন্যতম সংগঠক খালিদ খান প্রোবনিউজকে বলেন, ক্যাম্পবাসী ৬০ শতাংশ মানুষের জন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত। যদিও তারা অনেক নাগরিক অধিকার পাচ্ছে না কিন্তু তারপরও তারা এদেশ ছেড়ে কোথায় যাবে এবং কেন যাবে? তিনি পাকিস্তানের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে এখন ‘অপ্রয়োজনীয় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ থেকে ক্যাম্পবাসী উর্দুভাষীরা রেডক্রস সংস্থার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট হারে রেশন পেলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ক্যাম্পগুলোতে নাগরিক সুবিধার যথেষ্ঠ অপ্রতুলতা রয়েছে। ছোট ছোট ঘরে প্রচুর মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হয় বিধায় নতুন প্রজন্মের উর্দুভাষীরা তাদের ক্যাম্পের বাইরে সকল নাগরিক সুবিধাসহ পুনর্বসানের দাবি জানিয়েছেন।

প্রোব/আপা/পি/সাউথ-এশিয়া/১৮.০৫.২০১৪

১৮ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৭:০৬:৩৬ | ১২:২২:০৭

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›