A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

তিন সংকটের মুখে দেশের অথনীতি | Probe News

উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন
তিন সংকটের মুখে দেশের অর্থনীতি
কৃষি, শিল্প ও রপ্তানি বাণিজ্যে কমছে প্রবৃদ্ধির হার

export itemsপ্রোবনিউজ, ঢাকা: অর্থনীতিতে আভ্যন্তরিন তিন সংকটের কথা তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’। সংস্থাটির মতে, অদূরদর্শী রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, অসামঞ্জস্য মুদ্রানীতি এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের স্থবিরতায় ধারাবাহিক ভাবে কৃষিখাত, শিল্পখাত এবং রপ্তানি বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির হার কমছে।
এছাড়া একই কারনে দারিদ্র্য হ্রাসের হার কমছে, কমছে সামাজিক খাতে বাজেট বরাদ্দ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার। অপর দিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারত্বের হার।
শনিবার উন্নয়ন অন্বেষণ প্রকাশিত ‘ডিলিং উইথ ডিসিলারেশন: স্টেট অব বাংলাদেশ ইকোনোমি এন্ড ডেভেলপমেন্ট ২০১৩-১৪’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের আভ্যন্তরিন অর্থনীতির এ সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত আয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার ঘাটতি শুধু আয়কর খাতে। এর ধারাবাহিকতায় অর্থবছরের শেষ নাগাদ এ ঘাটতির পরিমান আরো বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। অথচ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৬ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।
এছাড়া বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার কমার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১১ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে গত কয়েক বছরে ধরে অব্যাহত ভাবে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি করা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে ২০০৯-১০ অর্থবছরের এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরের বছর তা থেকে কমে হয়েছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১১-১২ সালে আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১১ শতাংশে এবং ২০১২-১৩ সালে হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। উন্নয় অন্বেষণ বলছে, কৃষিখাতের ক্রমহ্রাসমান এই প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনেও এ খাতের অবদান কমিয়ে দিচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি খাতের অবদান ছিল ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এখাতে অবদান কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশে।
পাশাপাশি কমছে শিল্প খাতেরও প্রবৃদ্ধি। ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে।

এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪০দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। দেশের রপ্তানি আয়ে পোশাক শিল্পের ওপর একক নির্ভরতা অর্থনীতিকে একমুখীন করছে বলে মনে করছে উন্নয়ন অন্বেষণ। তারপরও দেখা যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২০১১-১২ সালের তুলনায় ২০১২-১৩ সালে কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
ফলে চলতি অর্থ বছরে জিডিপি গত এক দশকের সর্বনি¤œ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উন্নয়ন অন্বেষণ। তাই চলমান এসব সংকট মোকাবেলায় অর্থনীতিতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ।
প্রোব/শর/অর্থনীতি/ ১৭.৫.২০১৪

১৭ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৫১:৩০ | ১১:০৪:৫৯

জাতীয়

 >  Last ›