A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ব্যক্তিগত ও দলীয় সুবিধা নিতে রাজনীতি করছেন নেতারা | Probe News

সিপিডি’র সংলাপ
ব্যক্তিগত ও দলীয় সুবিধা নিতে রাজনীতি করছেন নেতারা

CPD32প্রোবনিউজ, ঢাকা : রাজনৈতিক দলগুলো সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করছে না। ব্যক্তিগত ও দলীয় সুবিধা নিতেই রাজনীতি করছেন নেতারা। শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ব্যবসায়িদের দলে ভীড় করাচ্ছে দলগুলো। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দুর্র্নীতি ঢুকে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে দেশের গণতন্ত্র। এমন সব মন্তব্য করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সর্বস্তরে জনগণকে সচেতন করতে হবে, বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং সঠিক নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ সুগম করতে হবে।
সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. রওনক জাহান। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং দলের মধ্যেও গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। যার প্রভাব থেকে মুক্ত নয় দেশের রাজনীতিও।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির বড় ক্ষতি করেছেন সামরিক শাসকরা। তারা সবাইকে জেলে নিয়ে সুবিধা আদায় করেছেন। অথচ, তাদেরকে কারাগারে যেতে হয়নি। ফলে রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। দুই দলের মধ্যে সংলাপ আয়োজন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব ও নির্বাচনের সময় বৃদ্ধি করেও নির্বাচনে আসেনি বিএনপি। ভারতের নির্বাচনে বিজেপি বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোদি জয়ী হওয়ায় বিএনপির আনন্দিত হওয়ার কিছুৃ নেই। কেননা বিএনপির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ নেই বরং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।¬¬¬
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া রাজনীতি হয় না। আমরা শুধু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি কিন্তু গণতন্ত্র মানি না গণতন্ত্রের চর্চা করি না। ইসির ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু ইসি তা প্রয়োগ করতে পারছেনা দলীয়করণ এবং চাকুরী হারানোর ভয়ে। ফলে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট জালিয়াতি, ছিনতাইসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, একতরফা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার আজ দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি কেড়ে নিয়েছে। বিএনপি’কে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিএনপি’র ‘নেতাদের মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিলে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আমরা কথা দিচ্ছি বিএনপিকে রাজনীতি করার জন্য সভা সমাবেশ করতে দিলে হরতাল ও অবরোধের মত কঠিন কর্মসূচিতে যাবেনা বিএনপি।’
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশিনার শামসুল হুদা বলেছেন, সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে ইসিকে চাপ সৃষ্টি করা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশে দুর্নীতি হবে না। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কেবল দিবস কেন্দ্রীক। ১৫ই আগস্ট দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে খালেদা জিয়া কি তার জন্মদিন পালন না করলে হয় না? জাসদ নেত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত শমসের মুবিন চৌধুরী বলেন, জাসদ মুক্ত বাজার অর্থনীতি বিশ্বাস করে না। কিন্তু সে ধারার রাজনীতি করে তারা ক্ষমতা দখল করে আছেন। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে তার কথা বলার কোন অধিকার নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর পাবলিক ফান্ড গঠন করাসহ দুর্নীতি, কালো টাকা, পরিবারতন্ত্রকে ত্যাগ করতে হবে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে সারা দেশে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও জ্বালাও পোড়াও এর সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দলগুলো ধারাবাহিক ভাবে নির্বাচনে ব্যবসায়িদেরকে নমিনেশন দিয়ে আসছে। ফলে এসব ব্যবসায়িদের অর্থ ও পেশিশক্তির কবল থেকে ম্ক্তু হতে পারছেনা দেশের রাজনীতি এবং তৈরি হচ্ছেনা নতুন নেতৃত্ব।
সংলাপে এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।
প্রোব/এহ/জাতীয় ১৭.০৫.২০১৪

১৭ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ২০:২১:১২ | ১৭:০৯:৩৪

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›