A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি করেই মোদীর এই বিশাল জয়: অন্তরালে কর্পোরেট পুঁজি আর গণমাধ্যম | Probe News

উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি করেই মোদীর এই বিশাল জয়

 অন্তরালে কর্পোরেট পুঁজি আর গণমাধ্যম


result.jpgসুতীর্থ গুপ্ত, ভারত থেকে : ভারতে রচিত হল নতুন ইতিহাস। এক কথায় অভূতপূর্ব এবং অবিশ্বাস্য। সব জরিপের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে নতুন এক প্রত্যাশার জন্ম দিল ভারতের এই নির্বাচন। গুজরাটের ভদেদরা কেন্দ্র থেকে রেকর্ড ভোটে ( ৫ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে) জয়ী হয়ে ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন তিনি। ’সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’- এই মন্ত্র নিয়েই তিনি কাজে ঝাঁপিয়ে পরবেন বলে জানিযেছেন। আর দশ বছর ধরে দেশ শাসনে নানা কলঙ্ক ও গ্লানি মাথায় নিযে কংগ্রেসকে ফিরে যেতে হয়েছে বিরোধী শিবিরে। শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসের ইতিহাসে এমন শোচনীয় পরাজয় এর আগে কোনদিন ঘটেনি। কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে মাত্র ৪৪টি আসন।
এই নির্বাচন কংগ্রেসে গান্ধী-নেহরু পরিবারের একাধিপত্যকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিযেছে। জাতীয় দল হওযা সত্ত্বেও মোদী ঝড়ের সামনে কংগ্রেস খাতা খুলতে পারেনি ৭টি রাজ্যে। আর কোনও রাজ্যেই কংগ্রেস ১০টির বেশি আসন পায়নি। ভারতীয় জনতা পার্টির ৩৪ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ২৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী । নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ছাড়িয়ে বিজেপির নেতৃত্বধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট এনডিএ পেয়েছে ৩৩৯ টি আসন। তবে ভারত আবারএকদলীয় শাসনে ফিরে যাওয়ায় সরকার পরিচালনায় আর শরিকদের টানাপোড়েনের মুখে পড়তে হবে না প্রধানমন্ত্রীকে।
কোয়ালিশন রাজনীতির প্যাচ পয়জারে বিরক্ত মানুষ সম্ভবত এই পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তবে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে তালিনাডুতে জয়ললিতার এআইডিএমকে ও পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস তাদেও একাধিপত্যকে সম্প্রসারিত করেছে বিপুলভাবে। এআইডিএমকে ৩৭টি আসন পেয়ে ভারতের তৃতীয বৃহত্তম দলের মর্যাদা পেতে চলেছে। এরপরেই থাকছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা পেয়েছে ৩৪টি আসন। এবারের নিভৃাচন নানা ভাবে ইতিহাস তৈরি করেছে। তামিলনাডুতে ডিএমকে গত নির্বাচনেও যেখানে ১৫টি আসনে জয়ী হয়েীছল এবার সেখানে তারা খাতা খুলতে পারেনি। একইভাবে উত্তরপ্রদেশে দলিত নেত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি বিজেপির প্রবল দাপটের মুখে। ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ইন্ডিয়াও এবার কোন আসনে জয়ী হতে পারেনি। জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশানাল কনফারেন্স,আসামের অসম গণপরিষদ, মহারাষ্ট্রের রাজ থ্যাকারের নবনির্মান সেনাও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার কোনও সুযোগ পায় নি। প্রকৃত পক্ষে সারা দেশে বিজেপি সুনামি হিসেবে একের পর এক শাসন সকলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
ভোট বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদীর এই বিশাল জযের পেছনে মুসলমানদেরও বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। যে মুসলমানদের মোদী সম্পর্কে নানা আতঙ্কের কথা শোনা গেছে তারাই কিন্তু এবার বিজেপিকে ভোট দিয়ে এই সুনামি তৈরিতে সাহায্য করেছেন। আর তাই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মত রাজ্যে বহু মুসলমান প্রভাবিত কেন্দ্রে বিজেপি অক্লেশে জয়ী হযেছে। উত্তর প্রদেশে তো ৮০টির মধ্যে ৭৩টি আাসন বিজেপি পাওয়ায় স্পষ্ট হযেছে যে মুসলমান ভোটারদের একটা বড় অংশ এবার নতুন বিন্যাস তৈরি করেছে। তবে এবারের বিজেপির এই জয়কে এককথায় মোদীর একক জয় বলা যায়। মোদীর ক্যারিশমাকে কাজে লাগাতেই অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রথমে নির্বচন প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান ও পরে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছিল। আর এই ঘোষণার পেছনে বড় ভুমিকা ছিল হিন্দুবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের। আরএসএসের একসময়ের প্রচারক ছিলেন মোদী। তাই তাকে ভারতের মত বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন বিজেপির প্রাণভোমরা বলে পরিচিত সংঘ পরিবারের নেতারা। অবশ্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদীর সাফল্যই মোদীর আজকের এই উত্থানের পেছনে প্রবল ভাবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। গুজরাটের পিছিয়ে থাকা ঘাঞ্চো সম্প্রদায়ের এক মুদি ব্যবসায়ীর সন্তান এই নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে উন্নয়নের মডেলকে সামনে এনে প্রকৃতই শিল্পবান্ধব ভুমিকা নিয়েছিলেন সেটাই তাকে বিপুল জয়লাভে সাহায্য করেছে। মওত কা সওদাগরের কঠিন তকমা তার গায়ে লেগে যাওয়া সত্ত্বেও মোদী এককভাবে সবকিছুর মোকাবিলা করে গুজরাটকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
তবে গোটা নির্বাচনী প্রচার পর্বে করপোরেট কায়দায় মোদী জনসংযোগের কাজটি করেছেন। কখনো চা পে চর্চার মাধ্যমে আবার কখনো বিকাশ যাত্রা বা নমো সাইকেল যাত্রার মত অভিনব পন্থায় মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর কাজটি সফল ভাবে করতে পেরেছেন। বিশ্বখ্যাত বুদ্ধিজীবী এবং বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় মনে করেন, কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থ রক্ষায় কংগ্রেস নেতৃত্বের চে মোদি বেশি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবে। অরুন্ধতীর মতে, বিহার-উড়িষ্যা-ঝাড়খ--ছত্তিশগড়-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত উন্নয়নের নামে জল-জমি-পাহাড়-জঙ্গল দখলের যে ষড়যন্ত্র; তাকে বাস্তবায়ন করতে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন। কংগ্রেস সেই সেনা মোতায়েনের কাজটি করতে সমর্থ হয়নি; মোদি যেটা পারবেন বলে মনে করেছে কর্পোরেট পুঁজি। সেকারণেই মোদিও প্রচারণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে তারা। আর কর্পোরেট মিডিয়া মোদির পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে বলেও মনে করেন মিডিয়া বিশ্লেষকরা।
প্রোব/বান/দক্ষিণ এশিয়া

১৭ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১০:৪২:৩৪ | ১৮:৪৮:৪৬

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›