A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সেভেন মার্ডার: সাবেক দুই র‌্যাব কর্মকর্তা গ্রেফতার | Probe News

সেভেন মার্ডার

সাবেক দুই র‌্যাব কর্মকর্তা গ্রেফতার


N Gong RAB Arrest.jpgপ্রোবনিউজ, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত জনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনায় অবসরে পাঠানো র্যা বের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এরা হলেন, র‌্যাব-১১-এর সদ্য সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি দল ঢাকার সেনানিবাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
তবে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় চাকরি হারানো র্যা বের আরেক কর্মকর্তা লে. কমাণ্ডার এমএম রানাকে পাওয়া যায়নি। নারায়ণঞ্জের ঘটনায় চাকরি হারানোর পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১’র সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা।
নারায়ণগঞ্জে নৃংশস ঘটনার ২০ দিন পর র্যা বের দুই কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হল।
সাত খুনের ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বজন ও তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেছেন- নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে র্যা বের এই তিন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগনেতা নূর হোসেন ৬ কোটি টাকা দিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, "আদালতে নির্দেশে দুই র্যা ব কর্মকর্তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে তোলা হবে। এমএম রানাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।"
ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার এসআই মামুনুর রশিদ জানান, জিয়া কলোনীর গেট দিয়ে দুই র‌্যাব কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছে মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশের যৌথ দল সাবেক এ দুজন সেনা কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এরপর র্যা ডিসন হোটেল সংলগ্ন জিয়া কলোনী গেট দিয়ে র্যা বের দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে বের হন নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দল। এর আগে গণমাধ্যম কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে না ঢুকে নারায়ণঞ্জ জেলা পুলিশের দল জিয়া কলোনী সংলগ্ন গেট দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করেন। দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার অভিযানে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করে ক্যান্টমেন্ট থানা পুলিশ।
নারায়ণঞ্জের ঘটনার পর গত ৫ মে র‌্যাব-১১’র সদ্য সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেনকে অকালীন অবসর (প্রি-ম্যাচিউরড রিটায়ারমেন্ট) ও নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার এমএম রানাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সশস্ত্র বাহিনী। তারা এখন এক বছরের অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (এলপিআর) রয়েছেন।
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের ও পরদিন আরো একজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে৷

গত ১১ মে হাইকোর্ট র্যা বের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
নজরুলের শ্বশুর গত ৪ মে অভিযোগ করেন, ছয়কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজনকে খুন করেছে র্যা বের তিন কর্মকর্তা। নূর হোসেন তাদের এই টাকা সরবরাহ করেন।
সেনাবাহিনী থেকে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ ও মেজর আরিফকে অকালীন অবসরে পাঠানোর পর থেকেই তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছিল। তারা সেনাবাহিনী থেকে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বাসার বাইরে যেতে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়।
এর আগে ১১ মে হাইকোর্ট এক আদেশে বলেন, দণ্ডবিধি বা বিশেষ কোনো আইনে তাদের ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে হবে। হাইকোর্টের ওই আদেশের কপি রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্যাক্সযোগে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। রায়ের কপি পুলিশের কাছে পৌঁছার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল-যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন র্যা বের সেই তিন কর্মকর্তা।
সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০ টায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, র্যা বের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যে কোনো তাদের গ্রেফতার করা হবে।
প্রোব/খোআ/জাতীয় ১৭.০৫.২০১৪

১৭ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১০:১৫:৪৫ | ১৫:৪০:১২

জাতীয়

 >  Last ›