A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | Probe News

ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


dhaka university21.jpgএনামুল হক, প্রোবনিউজ, ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাণিজ্য অনুষদের ন্যায় সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও সমাজকল্যাণ অনুষদেও অস্বাভাবিক ফি-তে সান্ধ্য ডিপ্লোমা ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরবে নিভৃতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবসায়ি মনোভাব যুক্ত হচ্ছে। সান্ধ্যকোর্স চালু করার পেছনে কিছু বিভাগের শিক্ষকদের আর্থিক ফায়াদা হাসিলের মনোভাবও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।
সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে থাকা শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ে থাকা কিছু শিক্ষক নেতা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কৌশলগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধীনে থাকা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট ও ইনফরমেশন সিস্টেম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে দুই বছরব্যাপী সান্ধ্য মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। বাণিজ্য অনুষদ দ্বারা পরিচালিত ৮ কোর্সের ইভিনিং এমবিএ করার খরচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বাণিজ্য অনুষদে ইভিনিং এমবিএ করতে খরচ লাগে প্রায় দু’ লাখ টাকা। ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় ও কোর্স চালকালীন সময়ে আনুষঙ্গিক আরো ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। খরচের এরূপ অংক সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অবিশ্বাস্য।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্রী ফাহিমা আক্তার প্রোবনিউজকে বলেন, ‘বাণিজ্যকরণের ফল হয়েছে এইÑ শিক্ষকেরা সময় মতো ক্লাস নেন না। বেশির ভাগ ক্লাস দুপুরের আগেই শেষ করে নেয়। অন্যদিকে, ইভিনিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিকেলে লাইব্রেরী, সেমিনার ও কম্পিউটার রুমে প্রবেশ করা যায় না।’
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, উন্নয়ন অধ্যয়ন, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন, তথ্য ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে ডিপ্লোমা ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। সমাজকল্যাণ বিভাগে দেড়বছর মেয়াদি সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে দুই বছরব্যাপী সান্ধ্য মাস্টার্সের খরচ প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা। যার পুরো খরচ এক সাথে তুলে দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। তথ্যবিজ্ঞান ও সমাজকল্যাণ বিভাগের সান্ধ্য মাস্টার্সের খরচ ৬০-৭০ হাজার টাকা। উয়ন্নয় অধ্যয়ন বিভাগের দুই বছরব্যাপী সান্ধ্য মাস্টার্সের ব্যয় এক লাখের বেশি টাকা। নতুন চালু হওয়া টেলিভিশন স্টাডিজ বিভাগের ডিপ্লোমা মাস্টার্সে ভর্তি হতে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাগছে। এছাড়াও বাণিজ্য, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় শতাধিক স্টাডি সেন্টার স্থাপন করে সেগুলোতেও স্বল্প মেয়াদি নানান কোর্স চালু করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উপেক্ষা করে গত নভেম্বরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স লেভেলে সান্ধ্য কোর্স চালু হয়েছে। বিভাগের নিয়মিত মাস্টার্সের ছাত্র ইমতিয়াজ আল তারেক বলেন, ‘নব্য স্থাপিত সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে সর্বাধুনিক ক্লাসরুম ও সকল শিক্ষা উপকরণ থাকার পরও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সান্ধ্য কোর্স চালু হয়েছে। এতে আমাদের নিয়মিত ছাত্রদের মান কমে যাচ্ছে। সম্মানের জায়গায় বিভাগটি আর নেই। আমরা পড়াশুনা করে এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কেবল টাকা দিয়ে সমান মর্যাদা নিচ্ছে সান্ধ্যকোর্সের শিক্ষার্থীরা।’
এ ব্যাপারে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন প্রোবনিউজকে জানিয়েছেন, ‘এতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের তো কোন সমস্যা নেই। শিক্ষার্থীর ও বিভাগের আর্থিক প্রয়োজনেই এই কোর্স চালু হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, কিছু লোভী শিক্ষকের অর্থ পিপাসাকে কাজে লাগিয়ে ও দলীয়করণের মাধ্যমে সান্ধ্যকোর্স চালু করে বাণিজ্য করা হচ্ছে। এতে গুটিকয়েক উচ্চপর্যায়ের শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কৌশলগতভাবে নীরবে নিভৃতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। ওই শিক্ষকেরা গবেষণা কাজে যুক্ত না হয়ে ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থে ধাবিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ প্রোবকে জানিয়েছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবাই উপকৃত হচ্ছে। এতে প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বল শিক্ষার্থীদেরও ঢাবিতে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’ বাণিজ্যিকীকরণ ও দলীয়করণের মাধ্যমে সান্ধ্যকোর্স বন্ধ করার প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
প্রোব/এহ/জাতীয় ১৪.০৫.২০১৪

১৫ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২০:০৮:৪৫ | ১১:৪৫:১৭

জাতীয়

 >  Last ›