A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা | Probe News

বিজেপির বিজয়ের সম্ভাবনায় ছিটমহল জুড়ে হতাশা
বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা

india bangla chitmahalপ্রোবনিউজ, ঢাকা: ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স (এনডিএ) সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার মুখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দু’ দেশের ছিটমহলগুলোতে গভীর হতাশা নেমে এসেছে। ছিটমহলের বাসিন্দারা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, খুব শিগগির আর ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের সীমান্তচুক্তি এবং ২০১১ সালের এতদ্বসংক্রান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কারণ মনমোহন সরকারের আমলে বিজেপি’র পুনঃপুন বাধার মুখেই এই চুক্তি অনুমোদন সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ১১৯তম সংশোধনী বিলটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করা যায় নি।
উল্লেখ্য, ৪০৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৬২টি ছিটমহল রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা এখনো কোন দেশেরই প্রয়োজনীয় জরুরি নাগরিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারছেন না। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসাম জুড়ে থাকা এসব ছিটমহলের মধ্যে ৭১১০.০২ একর আয়তনের ৫১টি বাংলাদেশী ছিটমহল রয়েছে ভারতের ভেতরে; আর ১৭ হাজার ১৫৮.৫ একর আয়তনের ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। মোট ৫২ হাজার মানুষ বাস করে এসব ছিটমহলে যার মধ্যে ৩৭ হাজার রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশী ছিটমহলে এবং বাকিরা বাস করছেন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে।
১৯৭৪ সালের ১৬ মে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে এসব ছিটমহল বিনিময়ের যে তাগিদ দেয়া হয়েছিল সেটাই ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রির মধ্যে নতুন আরেকটি প্রটোকল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রটোকল অনুযায়ী প্রত্যেক দেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহলগুলো এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের ভূমি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেখানে বসবাসকারীরা ঐ দেশের নাগরিক হবেন। অর্থাৎ উভয় দেশ তাদের ছিটমহলগুলো বিনা ক্ষতিপূরণে বিনিময় করে নেবে।
আলোচ্য প্রটোকল স্বাক্ষরের পর ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছিটমহলগুলো বিনিময়ের জন্য তাদের সংবিধানের একদফা সংশোধনী প্রয়োজন। এইরূপ সংশোধনীর পক্ষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনও দেয়া হয়। কিন্তু এ পর্যায়ে বিজেপি, আসাম গণপরিষদ এবং পরবর্তীকালে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বলে সীমান্ত চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রটোকল অনুমোদনের বিরোধিতা করা হতে থাকে যে, এটা ঘটলে বাংলাদেশ বাড়তি জমি পেয়ে যাবে। এইরূপ একটি প্রচারণার পক্ষে পুরো ভারতে উপরোক্ত দলগুলো একটি আবেগ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে। বাস্তবে যে ছিটমহলে কোন দেশেরই কোন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই সেখানে তার বিনিময়ের মাধ্যমে জমি হারানোর বিষয়টিই হাস্যকর। উপরোক্ত দলগুলোর বিরোধিতার কারণে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট আলোচ্য বিলটি আর উত্থাপন করেনি কারণ এটি পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল।
এদিকে সীমান্তচুক্তির বাস্তবায়নে বিজেপির ধারাবাহিক বিরোধিতা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে মোদির বিজয়ের সম্ভাবনা ছিটমহলবাসীকে গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছিটমহলবাসীদের অবরুদ্ধ জীবনের আপাত কোন অবসান ঘটবে না বলেই ধরে নেয়া যায়। পূর্বের মতোই শিক্ষা-অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা বঞ্চিত রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের মতোই জীবনযাপন করতে হবে তাদের।
প্রোব/আপা/পি/জাতীয়/১৪.০৫.২০১৪

১৪ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:১৪:৪৭ | ১৬:০৯:২৭

জাতীয়

 >  Last ›