A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

দীর্ঘমেয়াদী খরার কবলে দেশ | Probe News

দীর্ঘমেয়াদী খরার কবলে দেশ
ঝুঁকিতে কৃষি খাত; উৎপাদন কমতে পারে ১০ শতাংশ


fild.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: মাসের পর মাস স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদী খরার কবলে পড়তে পারে দেশ। এ পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। খরার প্রভাবে দেশের কৃষিখাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষিবিদ, আবহাওয়াবিদসহ সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ প্রভাবে কৃষি খাতের উৎপাদন ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কৃষক পর্যায়ে দ্রুত প্রযুক্তি সম্প্রসারণেরও তাগিদ দেন তারা। অন্যরা বলছেন, অনাবৃষ্টিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে জনজীবনও।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মার্চ মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিলে কম হয়েছে ৭৯ শতাংশ। এর ধারাবাহিকতায় মে মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এমনকি ভরা বর্ষার মওসুম জুন-জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু চলতি মওসুমেই নয় গত বর্ষার মওসুমেও সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে জুন মাসে ১৩ শতাংশ এবং জুলাই মাসে ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিভাগ ভেদে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৫৩ শতাংশ, ঢাকায় ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ২৬ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৮ শতাংশ এবং বরিশাল বিভাগে কম হয়েছে ছয় শতাংশ। ফলে বর্ষা নির্ভর আমন চাষেও কৃষককে সম্পুরক সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, গত বর্ষার মওসুমে আমন চাষে রংপুর বিভাগের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি এবং রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি সম্পুরক সেচের আওতায় নিয়ে হয়েছে। চলতি মওসুমেও এমনটির আশঙ্কা করছেন কৃষি আবহাওয়াবিদসহ কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
কৃষি বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল আমীন জানান, ইতিমধ্যে অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বোরো ফসলে। ঝুঁকিতে রয়েছে আসন্ন আউশ এবং আমন ফসল। ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার সব ধরনের সেচ ইউনিট চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে সেচ দিয়ে আউশের বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে বলে জানান কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ৩০শে জুনের মধ্যে আউশ রোপণ করা সম্ভব না হলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে আউশের ফলন। একই সঙ্গে আমন ফসলের অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছরের কম বৃষ্টির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষিবিদ মো. নূরুল আমীন জানান, মওসুমের সঠিক সময়ে সঠিক পরিমানে বৃষ্টিপাত না হয়ে শেষের দিকে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে বিলম্বিত হয়েছে রবি শস্য।
অতিরিক্ত সেচ নির্ভরতায় উৎপাদন খরচ বাড়ার তথ্য দিয়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, অন্যান্য সময়ে বোরো ফসলে যেখানে সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা সেচ দিতে হতো। চলতি বোরোর মওসুমে সেখানে সপ্তাহে ৪০ ঘন্টারও বেশি সেচ দিতে হয়েছে। তবে দিনের সুর্য কিরণ ঘন্টা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি থাকায় চলতি বোরো মওসুমে সারা দেশে ফলন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি হবে বলে ধারনা করছেন আবহাওয়া বিভাগের কৃষি আবহাওয়াবিদ মো. শামীম হাসান ভূঁইয়া। এরপরেও ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠে আসবেনা বলে মনে করছেন তিনি।
কৃষি উন্নয়নের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, কম বৃষ্টিপাতের কারণে আউশ মওসুমেও কৃষকের জমিতে সেচের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ফলে সরকার প্রণোদনা দিয়েও আউশ চাষে কৃষককে আগ্রহী করে তুলতে পারছে না। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এ কারণে আগামীতে কৃষিতে বৃষ্টি নির্ভর ফসল বিন্যাস কমে আসবে। ফসলের উৎপাদন কমবে ১০ শতাংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এখনই কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোড়দারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন শাইখ সিরাজ।
অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দফায় দফায় দেশ তাপ প্রবাহের কবলে পড়ছে বলে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলসহ রাজশাহী বিভাগ ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের উপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। মাসের শেষের দিকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হলেও মাসের অধিকাংশ সময়ই ছিল বৃষ্টিহীন। এর প্রভাবে ২৭ থেকে ৩১ মার্চ রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপ প্রবাহ বয়ে যায়। কমে আসে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান। এ সময় ২৯ মার্চ রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যা স্বাভাবিকের তুলনায় সাত আট ডিগ্রী বেশি। পরের দিনে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাও স্বাভাবিকের তুলনায় সাত-আট ডিগ্রী বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধির কারণে এপ্রিলের ২০ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ এলাকা তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহের কবলে পরে। এ সময় ২৪ এপ্রিল যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায় এপ্রিলে দৈনিক গড় তাপমাত্রা প্রায় সময়ই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। এতে জ্বর, সর্দি, কাঁশি, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং জলবসন্তসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. এম মহাদ্দেস হোসেনের মতে, গরমে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরের পানি কমে যায়। তাই পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচতে ঘন ঘন তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। তবে রাস্তার পাশের খোলা খাবারসহ শরবত কোন অবস্থায়ই খাওয়া ঠিক নয়। এতে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
এছাড়া গরমে শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ডা. মহাদ্দেস হোসেন বলেন, অবশ্যই শিশুদের খাবারের প্রতি নজর রাখতে হবে। খোলা ও বাসি খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রোব/শর/পি/জাতীয়/১৪.৫.২০১৪

১৪ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৩:৪৮:১৩ | ১৮:১২:৫৫

জাতীয়

 >  Last ›