A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

রূপালি সম্পদের এই খনি রক্ষায় নেই কোন উদ্যোগ | Probe News

হালদায় জেলেদের উৎসব
রূপালি সম্পদের এই খনি রক্ষায় নেই কোন উদ্যোগ

Halda354প্রোবনিউজ, ঢাকা: হালদা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের ডিম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে দেশের মৎস্যখাতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদ তৈরি হলেও হালদাকে রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সাধারণভাবে শত শত নদীর দেশ হলেও হালদা এ ক্ষেত্রে এক বিশেষ স্বর্ণসম্ভবা জলপ্রবাহ। দক্ষিণ এশিয়ার এমন এক জোয়ার-ভাটার বিশেষ নদী এটি যেখানে প্রাকৃতিকভাবে রুই জাতের মাছেরা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডিম ছেড়ে থাকে এবং স্থানীয় জেলেরা সেই ডিম সংগ্রহ করে নদী পাড়েই মাটির কুয়া ও হ্যাচারিতে সেই ডিম থেকে রেণু পোনা ফুটিয়ে সারাদেশের মৎস্য খামারিদের সরবরাহ করে। এভাবেই হালদার রুই, কাতল, মৃগেলগুলো দেশজুড়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে ফি বছর। অতীতে সাধারণ মাটির কুয়াতেই হালদার মাছের ডিম থেকে রেণু পোনা তৈরি হলেও এখন রাউজান ও হাটহাজারিতে সাতটি হ্যাচারিও গড়ে উঠেছে।
গতকাল এ বছরের ডিম ছাড়ার পর শত শত জেলে নৌকা উৎসবের আমেজে আজ সারাদিন ডিম সংগ্রহ করে যাচ্ছে হালদা থেকে। জেলেদের ভাগ্য ভালো হলে আরও ২-১ বার মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। প্রতি বছর হালদা থেকে জেলেরা কী পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করে তার কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্টরা এটা কয়েক হাজার কেজি হবে বলে অনুমান করে থাকেন। তবে নদীর পরিবেশ কলুষিত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই এই ডিম সংগ্রহের পরিমাণ কমছে। অতীতে রুই জাতীয় মাছের পোনার দেশজ চাহিদার প্রায় অর্ধেক হালদার মা মাছেরা পূরণ করলেও বর্তমানে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গতবছর হালদার মাছেরা অজ্ঞাত কারণে সামান্য ডিম ছেড়েছিল।
হালদা’র সৃষ্টি রামগড়ের পাহাড় থেকে এবং ফটিকছড়ি-হাটহাজারি-রাউজানের ভেতর দিয়ে ৯৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি কালুরঘাট এলাকায় কর্ণফুলীতে এসে মিশেছে।
সাধারণত এপ্রিল-মে মৌসুমে পূর্ণিমা-অমাবস্যার কোন এক গভীর ইঙ্গিতে হালদার মা মাছেরা ডিম ছাড়ে আর পুরুষ মাছেরা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিষিক্ত করে দেয়। তবে তার জন্য প্রবল বর্ষণ, মেঘের গর্জন ও নদীতে তীব্র ¯্রােতের সম্মিলন প্রয়োজন হয়। গতকাল হালদায় ঠিক তাই ঘটেছিল।
মা মাছেরা যাতে নিরাপদে পর্যাপ্ত ডিম ছাড়ে সেজন্য মৎস্য অধিদপ্তর বছরের এই সময়টি হালদাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এসময় এখানে মাছ শিকার করা যায় না। এ সময় হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চালানোও নিষেধ। এ ছাড়া নদীটির উত্তরে নাজিরহাট থেকে দক্ষিণে কালুরঘাট পর্যন্ত মাছ শিকার স্থায়ীভাবেই নিষিদ্ধ। মা মাছগুলো সচরাচর এসব এলাকাতেই বিচরণ করে বলে স্থানীয় জেলেরা ধারণা করে থাকে। তবে নদী তীরের প্রভাবশালীরা অনেকেই উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো মানেন না। নদী থেকে বালু উত্তোলন, যান্ত্রিক নৌযান চালানো ও গোপনে মা মাছ শিকার সবই সেখানে চলছে অবিরাম। অতীতে কেউ মা মাছ শিকার করলে নদী পাড়ের মানুষই সেটা প্রতিরোধ করতো। বর্তমানে সে রেওয়াজও ক্ষীণ। যে কারণে দেশের অনন্য এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।
দেশের প্রাণীবিজ্ঞানীরা হালদাকে মৎস্যখাতের জন্য সচরাচর স্বর্ণখনি হিসেবে চিহ্নিত করলেও একে রক্ষায় এখনো সরকারি উদ্যোগ খুবই সীমিত। ২০০৭ সালে সরকারি তরফ থেকে নদীটির প্রাণপ্রবাহ ঠিক রাখতে ১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হলেও প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ছাড়াই আমলাতান্ত্রিকভাবে প্রকল্প কাজ চালাতে যেয়ে নদীর প্রবাহে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই নদীকে ঘিরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২টি স্লুইস গেইট ও কৃষি বিভাগের দুই রাবার ড্যাম রয়েছে- যা নদীর প্রবাহকে বিশেষভাবে বিঘিœত করছে। আবার চট্টগ্রাম ওয়াসা এই নদী থেকে প্রতিদিন তিন কোটি গ্যালন পানি সংগ্রহ করে থাকেÑ সেটাও নদীটিকে ধীরে ধীরে হত্যা করছে।
প্রোব/জাতীয়/আপা/পি/১৩.০৫.২০১৪

১৩ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৩৮:০৮ | ১২:১৩:৩৬

জাতীয়

 >  Last ›