A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

১০ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ | Probe News

১০ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ

bangladesh-garment-factory.jpgহৃদয় মিজান, প্রোবনিউজ : চলতি অর্থবছরের দশ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ হাজার ৯৭০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর রপ্তানি আয় হয়েছিল ২১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমান রপ্তানি আয় ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই। তবে ধারা ধরে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুশের্দী ।

বিশেষ করে নিরাপত্তা ইস্যুতে শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ের কারখানাগুলোতে বায়াররা ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না। এছাড়া ক্রয়াদেশ না থাকায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে কি হয় সেটি এখন দেখার বিষয় বলে মনে করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ তথ্যানুযায়ী গতবছরের জুলাইতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার, আগস্টে হয়েছে ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ২০ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩ দশমিক মিলিয়ন, অক্টোবরে ১ হাজার ৬৮২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন, নভেম্বরে ১ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন, ডিসেম্বরে ২ হাজার ২৭৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন, জানুয়ারিতে ২ হাজার ২৪১ দশমিক ০৩ মিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৯৬৫ দশমিক ৪০ মিলিয়, মার্চ ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ০৬ এবং ১ হাজার ৯১৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

একই সময়ে গত বছরে জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে যথাক্রমে, ১ হাজার ৯৯৪ দশমিক ৯১, ১ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৩৮, ১ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৪০, ১ হাজার ৬৩৪ দশমিক ৬৪, ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ০০, ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৬২, ২ হাজার ৯২ দশমিক ৬০, ১ হাজার ৭৯০ দশমিক ৯৫, ১ হাজার ৮৪৬ দশমিক ৪৫এবং ১ হাজার ৬৩০ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছিল। চলতিবছরের প্রথম ১০ মাসের মধ্যে একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে।

এদিকে গতবছর রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক শিল্প কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। নিরাপত্তা ইস্যুতে সারা বিশ্বের তোপের মুখে পড়ে এ খাতটি। তারপর শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। এতে কয়েকশ’ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন পোশাক শিল্পের মালিকরা। হরতাল অবরোধের কারণে সময় মত শিফটমেন্ট দিতে না পারায় লাখ লাখ টাকার অর্ডার বাতিল হয়। তারপরও এ প্রবৃদ্ধি লক্ষনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ক্রেতাদের জোট এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শন করছে। তাদের পরিদর্শনের কারণে গতবছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২১টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রানা প্লাজা ধসের পর রাজনৈতিক কারণ, কমপ্লায়েন্স, নতুন মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কারণে মালিকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রায় ১৭৬ টি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এছাড়া গত বছরের নভেম্বর মাস জুড়েই ছিল মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন।

রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এ তিন মাস প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। শুধু এপ্রিল মাসে ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আগের মাসের শিপমেন্টের হিসেব চলতি মাসের সাথে যুক্ত হওয়ায় রপ্তানির পরিমান বেশি দেখা যাচ্ছে। আগের অর্ডারের পণ্যগুলোই এখন শিপমেন্ট হচ্ছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে।

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পর এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল; রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং এ শিল্পখাত সংকটে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে

আব্দুস সালাম মুশের্দী বলেন, রপ্তানি বা প্রবৃদ্ধি বাড়ার বিষয়টি ফ্যাক্টর নয়। আগের অর্ডারগুলোর পণ্য রপ্তানি হওয়ায় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি। সালাম মুর্শেদী বলেন, মূল ফ্যাক্টর হচ্ছে এ শিল্প এখন একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যেমন ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, এ্যার্কড ও এ্যালায়েন্সের কারখানা পরিদর্শন, দুর্বল কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রশ্নবিদ্ধ শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ের কারখানাগুলো রিলোকেট করা, রিলোকেট করতে পুনঃঅর্থায়ন করা- এগুলোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কারণে পোশাক খাতের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সর্বোপরি এ শিল্পের যে প্রবৃদ্ধি আছে এবং রপ্তানি ধরে রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই শিল্প উদ্যোক্তা।

প্রোব/আরএম/পি/অর্থনীতি.১৩.৫.২০১৪

১৩ মে ২০১৪ | অর্থনীতি | ১৮:২৫:১৮ | ১৪:০৮:১৮

অর্থনীতি

 >  Last ›