A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

পুঁজিবাজার : প্রণোদনা তহবিলে আগ্রহ নেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের | Probe News

পুঁজিবাজার : প্রণোদনা তহবিলে আগ্রহ নেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের

Capital Market- File Photo.jpgমিজানুর রহমান, প্রোবনিউজ: পুঁজিবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে ৯০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। ইতিমধ্যে এর ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। ষষ্ঠবারের মতো সময় বাড়ানো হয়েছে। তারপরও প্রণোদনা এ তহবিলে আগ্রহ নেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। অনাগ্রহের কারণ হিসেবে ঋণ পেতে জুড়ে দেয়া কঠিন শর্তকেই দায়ি করছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। আর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ ¯্রফে লোক দেখানো। তাদের মতে, সরকারের দেয়া এ তহবিল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিদের কাজে আসবে না। সহায়ক হবে না পুঁজিবাজারের জন্যও।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা তহবিলের ৩০০ কোটি টাকা ছাড় দেয়। এর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিদের জন্যে মাত্র তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে ৯৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। প্রণোদনা তহবিলের বাকি অর্থ এখনও অলস পড়ে আছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও সহায়তা তহবিলের তদারকি কমিটির আহবায়ক মো. সাইফুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত চার হাজার ৭৫৭ জন বিনিয়োগকারির জন্য ৯৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চেক গ্রিনল্যান্ড ইক্যুইটি, আইসিবি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট ও বিএমএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে। সাতটি প্রতিষ্ঠানকে চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া পুনঃবিনিয়োগ তহবিলের জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার ৬৯৫ জন বিনিয়োগকারীর মোট ৪৬১ কোটি টাকার জন্যে আবেদন করেছেন। আবেদনকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০টি স্টক ব্রোকারেজ এবং ২০টি মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে।
বিনিয়োগকারিদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় দফায় দফায় আবেদনের মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে আইসিবি’কে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে ৬ষ্ঠ বারের মতো আবেদনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০শে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রথম দফায় এর মেয়াদ গত বছরের ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছিল।

ঋণ পেতে জুড়ে দেয়া কঠিন শর্তের সমালোচনা করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। ‘পুঁজিবাজারে দশ লাখ টাকার ওপরের বিনিয়োগকারিরা এ তহবিলের আওতায় পড়বে না’-এমন শর্ত জুড়ে দেয়ায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারি বাদ পড়েছেন বলে প্রোবনিউজকে জানান বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি তানজিল আহমেদ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের ব্যক্তিগত গ্র্যান্টি চাওয়ার শর্তটিকেও দায়ি করেন তিনি।
পাশাপাশি ঋণ বিতরণের এ দায়িত্ব আইসিবিকে দেয়ার সমালোচনা করেন তানজিল আহমেদ। তার মতে, এ দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে দেয় যেত।
আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর পরিচালক ও শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের স্বত্বাধিকারি শাকিল রিজভী সরকারের এ উদ্যোগকে পুঁজিবাজারের বিপক্ষে বলেই মন্তব্য করেছেন। প্রোবকে তিনি বলেন, দান ছদকা দিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট চলে না।
ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারিদের জন্য ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফের কথা থাকলেও এখনও তা সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর-রশিদ চৌধুরী।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এ তহবিল ব্যবস্থাপনায় কোনো অবস্থাতেই আইসিবির ঋণ ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না। যদিও এ ঋণ ফেরত প্রদানে ব্যর্থ মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারদের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরিমানা ছাড়াও নিবন্ধন সনদ বাতিল করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, দেশের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর বিনিয়োগকারীদের তোপের মুখে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে বিএসইসি। এতে ১০ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।
প্রোব/আরএম/পি/অর্থনীতি/১৩.০৫.২০১৪

১৩ মে ২০১৪ | অর্থনীতি | ১৪:২১:১৭ | ১৩:৫০:১৬

অর্থনীতি

 >  Last ›