A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভারতীয় নির্বাচন কতটা জনপ্রতিনিধিত্বশীল? | Probe News

ভারতীয় নির্বাচন কতটা জনপ্রতিনিধিত্বশীল?

IndianElections14.pngপ্রোবনিউজ, ঢাকা: ষোলতম লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব বাছাইয়ের জন্য প্রায় এক মাস যাবত অনুষ্ঠিত ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনের আজ শেষ দিন। আগামী ১৬ মে থেকে ভোট গণনা শুরু হবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়া শুরু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু বরাবরের মতোই এবারও প্রশ্ন উঠছে এইরূপ নির্বাচনী পদ্ধতিতে প্রকৃতই জনগণের মতামতের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে কি না।

বর্তমানে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিত্ব বাছাইয়ের সকল স্তরেই নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে ভারতে। এর মধ্যে রাজ্যসভা ও প্রেসিডেন্ট ব্যতীত বাকি সকল স্তরে যে পদ্ধতিতে ভোট হয়, তা বাংলাদেশের মতোই ‘সিম্পল মেজরিটি সিস্টেম’ তথা একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিদের চেয়ে মাত্র এক ভোট পেলেও জিতেন। কিন্তু এই ব্যবস্থার আওতায় দেখা যাচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারেরই মতামতের কোন প্রতিফলন ঘটছে না বিজয়ী প্রার্থীর তালিকায়।

উদাহরণ হিসেবে ভারতে সদ্যসমাপ্ত ১৫তম লোকসভার কথাই ধরা যাক। ৫৪৫ আসনের লোকসভায় ৫৪৩টি আসনই সরাসরি ভোটে পূরণ হয়। কংগ্রেস ১৫তম parliament-FrontpageIndia.jpgলোকসভা নির্বাচনে ভোট পেয়েছিল ৩৭.২২ শতাংশ; অথচ আসন পেয়েছিল ২৬২টি, পুরো আসনের ৪৮ শতাংশ। একই নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ২৪.৬৩ শতাংশ, আর আসন পেয়েছিল ১৫৯টি, মোট আসনের ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বাম ও সমাজবাদীদের তৃতীয় ফ্রন্ট সেবার ভোট পায় ২১.১৫ শতাংশ, কিন্তু আসন পেয়েছে ৭৯টি, যা মোট আসনের ১৫ শতাংশ মাত্র।

যেকোন নির্বাচনে ভোটই জনআকাংখা পরিমাপের একমাত্র মানদ-। কিন্তু উপরোক্ত উপাত্ত থেকে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, একটি দল বা জোটের জনসমর্থনের সাথে তার প্রাপ্ত আসনের কোন সম্পর্ক নেই। যদি ভোটের সাথে আসন প্রাপ্তির সম্পর্ক থাকতো তা হলে ১৫ তম লোকসভা নির্বাচনের ফল হতো নি¤œরূপ:
কংগ্রেস ২০২,
বিজেপি ১৩৪, এবং
তৃতীয় ফ্রন্ট ১১৫।

সিম্পল মেজরিটি সিস্টেমের নির্বাচনে বড় দলগুলোর কাছে প্রলুব্দকর এক বিষয় হলো ‘ভাসমান ভোট’ জয় করা। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটের হিসাবে দেখা যায়, কংগ্রেস পূর্ববর্তী নির্বাচন থেকে মাত্র ৩.৯৬ ভাগ বেশি ভোট পায়। কিন্তু তাতেই তার আসন বেড়ে গিয়েছিল ৪৪টি। যা তার পূর্ববর্তী আসনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। একই নির্বাচনে বিজেপির ভোট কমেছিল মাত্র ৪.৮৮ শতাংশ। কিন্তু তার আসন কমেছে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১২ শতাংশ (২২টি)।

নির্বাচনের ‘সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র উপরোক্ত সংকট ভারতের প্রদেশগুলোর নির্বাচনে আরও প্রকটরূপে প্রতিফলিত হচ্ছে। যেমন, সর্বশেষ ২০১২ সালের উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গেছে, সমাজবাদী পার্টি ভোট পেয়েছিল ২৯.৩ শতাংশ, কিন্তু আসন পেয়েছে ৫৬ শতাংশ। ৪০৩ আসনের বিধানসভায় তারা ২২৬টি আসন পায়।

অন্যদিকে, বহুজন সমাজবাদী পার্টি একই নির্বাচনে ভোট পায় ২৫.৯ শতাংশÑ আর আসন পেয়েছে মাত্র ২০ ভাগ, ৮০টি। নির্বাচনে বিজেপি ভোট পায় ১৫ শতাংশ আর আসন পায় ৪৭টি, মোট আসনের ১২ শতাংশ।
যদি ভোট অনুযায়ী আসন বন্টিত হতো তা হলে ঐ নির্বাচনে সমাজবাদী, বহুজন সমাজবাদী ও বিজেপি আসন পেতো যথাক্রমে ১১৭, ১০৪ ও ৬০টি।

সিম্পল মেজরিটি ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বহীনতার আরও ভয়ানক চিত্র দেখা যায় সুনির্দিষ্ট আসনগুলোতে। যেমন, উত্তর প্রদেশে ২০১২ সালে ৪০৩টি আসনের মাত্র ১৬টিতে বিজয়ী প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ীই সেখানে ৪০ শতাংশের কম ভোট পেয়েছিলেন। এর বিপরীত মানে দাঁড়িয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনেই বিজয়ী প্রার্থী ৬০ শতাংশ ভোটারের অপছন্দীয় প্রার্থী। তারপরও তিনি বিজয়ী! উত্তর প্রদেশের সর্বশেষ নির্বাচনে এও দেখা গেছে, ১১৭ জন বিজয়ী প্রার্থী ৩০ শতাংশের কম ভোট পেয়ে ‘বিজয়ী’! অর্থাৎ যদিও তারা একটি এলাকায় ৭০ শতাংশ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তারপরও তারা ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।’

ভারতীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান এবারের নির্বাচনে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো ভোট ও আসনের উপরোক্ত অসামঞ্জস্যতা আরও বাড়বে এবং কম ভোটারের সমর্থন সত্ত্বেও অনেকে জনপ্রতিনিধি হবেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক দলগুলোর আবির্ভাব এবং তাদের পৃথক পৃথকভাবে নির্বাচন করার কারণে এই সংকট বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ব্যয়বহুল এই নির্বাচন রাষ্ট্র পরিচালনায় আদৌ জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিদের দিল্লি পাঠাতে পারছে কি না সে নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ।
প্রোব/আপা/দক্ষিণএশিয়া/১২.০৫.২০১৪

১২ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১২:৪৮:২৪ | ১৯:৫৪:২৭

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›