A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সরকারের ধারাবাহিক কৌশলে ক্রমে পর্যুদস্ত বিএনপি! দল পুনর্জাগরণে ব্যর্থতা | Probe News

সরকারের ধারাবাহিক কৌশলে ক্রমে পর্যুদস্ত বিএনপি!

দল পুনর্জাগরণে ব্যর্থতা  দূরত্ব বাড়ছে শরিকদেরও

 

khaleda 9-10.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা: অপহরণ, প্রশাসনিক নৈরাজ্য, অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জনজীবন যখন ক্ষুব্দ ও দিশেহারা তখনও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ধারাবাহিক নিশ্চুপতায় বিস্মিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। নারায়ণগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেভেন মার্ডার ও দলটির চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হলেও দলটি রাজনৈতিক বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে কোন ধরনের উচ্চবাচ্য করতে পারছে না। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারেটিবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার কাজ ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের আদালতে স্থানান্তর করা হলেও দলটির পক্ষ থেকে মৃদু বক্তৃতা-বিবৃতি ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পরিমন্ডলে ইতোমধ্যে স্পষ্ট, খালেদা জিয়াকে রাজনীতির পরিমন্ডল থেকে সরানোর নীরব গুজবটি ইতোমধ্যে প্রকাশ্যরূপ নিতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ পরিকল্পনার আওতায় কয়েক বছর ধরে সরকারের একের পর এক কৌশলে বিএনপির আস্তে আস্তে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এখন চূড়ান্ত অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কোন কোন ভাষ্যকার প্রধান বিরোধিদলের এইরূপ নিষ্ক্রিয়তাকে দেশে শাসন নৈরাজ্য তৈরি করবে বলেও মনে করেন। তারা এও বলছেন, দুর্বল আইন-আদালতের পাশাপাশি সক্রিয় বিরোধী দল না থাকলে সরকার লাগামহীন আচরণ করে চলতি সুশাসনের সংকটকে গভীর রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়ের জন্ম দিতে পারে।
সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আক্রমণের আগেই গ্রেফতার, গুম, অপহরণ ইত্যাদির মাধ্যমে ময়দান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হটিয়ে দিয়েছে। অধিকাংশ জেলাতে প্রথম সারির বিএনপি সংগঠকরা সবাই এলাকা ছাড়াÑ কেউ কেউ দেশ ছাড়া। মধ্যসারির সংগঠকদের মধ্যে যারাই আন্তরিকতার সঙ্গে সক্রিয় হতে গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অন্যদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে। দিশেহারা খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যাদের উপর ভরসা করেছিলেন তাদের অনেকেই আইন-আদালতকেন্দ্রীক নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাকে মামলাজট থেকে মুক্ত করার ভুল পথে ঘুরিয়ে সময়ক্ষেপণ করিয়ে এখন কেন্দ্রীয় কার্যালয় এড়িয়ে চলেন।
বিএনপির ভুল রণকৌশল ও রাজনৈতিক মৈত্রীর দ্বিধাদ্বন্দ্বে জামায়াতে ইসলামীও ক্রমে স্বতন্ত্র অবস্থান নিতে শুরু করেছে। সরকারের সাথে তারা এখন আলাদাভাবে বোঝাপড়ার পথ নিয়েছে। সরকারও মনে করছে জামায়াতকে ছাড় দিয়ে বিএনপি থেকে দূরে সরিয়ে আনতে পারলে ভবিষ্যতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলার মেঠো সম্ভাবনা অনেকাংশেই রুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ যেকোন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে অবস্থানের নৈতিকশক্তি সম্পন্ন কর্মি রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, জামায়াত মনে করছে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থেকে গত ৫ বছরে কিছুই অর্জন নেই তার। উপরন্তু এই রাজনৈতিক মৈত্রীর প্রশ্নে বিএনপিতে শক্তিশালী একটি বিরোধী পক্ষ বরাবর নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। প্রকাশ্য না বললেও জামায়াত এখন তাই একলা চলার নীতি এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী নতুন কৌশলগত অবস্থানের ফসল হিসেবে তাদের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় সংগঠককে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে নিতে পেরেছে।
জামায়াত ইসলামীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ হেফাজতে ইসলামকেও বিএনপির কাছাকাছি অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সম্প্রতি। হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা শফি ইতোমধ্যে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ বয়ান দিয়েছেন অনেকগুলো ধর্মীয় জলসায়। হেফাজতকে আরও কাছে আনতে হাটহাজারি মাদ্রাসাকে জমি দেয়ার পাশাপাশি সরকার গণজাগরণ মঞ্চকেও ভেঙ্গে দিয়েছে। বিনিময়ে কেন্দ্রীয় হেফাজত গত ৫ মে শাফলা চত্বর দিবস পালনও এড়িয়ে গেছে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সরকারের এই বোঝাপড়ায় ধর্মীয় এই কাফেলার মধ্যসারির সংগঠকরা ইতোমধ্যে তাদের ১৩ দফার আন্দোলন ছেড়ে অন্যান্য ছোট ছোট ইসলামী দলে চলে গেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিএনপিকে পর্যুদস্ত ও একঘরে করার এইরূপ বহুমুখী পরিকল্পনার জাল ছিঁড়ে বের হওয়ার জন্য খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই দলকে গোছানো ও সুবিধাবাদী নেতাদের সরিয়ে দিতে শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দিলেও তার সামান্যতমও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কয়েকটি জেলায় কমিটি ভেঙ্গে দেয়া ছাড়া আর কোন গঠনমূলক পদক্ষেপই নেয়া যায়নি। ৭৫টি জেলা কমিটির মধ্যে সবচেয়ে বেসামাল অবস্থা খোদ ঢাকাতে। ৫ জানুয়ারিকেন্দ্রীক আন্দোলনে সুস্পষ্ট নিষ্ক্রীয়তার পরও ঢাকার চিহ্নিত নেতাদের কারো বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। খালেদা জিয়ার এই অক্ষমতায় কর্মী পর্যায়ে গভীর হতাশার পাশাপাশি এ ধারণাও তৈরি হয়েছে, গুলশান ২ এর যে চক্রটি ৫ জানুয়ারি পূর্ববর্তী প্রতিরোধ আন্দোলনে নিরব থেকে সরকারকে একতরফা নির্বাচনের পথ সুগম করে দিয়েছিল তারাই এখনও চেয়ারপার্সনকে ঘিরে আছে। কর্মীদের অনেকে এখন মনে করেন, কেন্দ্রীয় এই চক্রটি সরকারি পরিকল্পনার ছকেই দলকে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া পাশাপাশি খালেদাকেও রাজনীতি থেকে মাইনাস করার কাজে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান মনে করেন, সরকারি দমন-পীড়নের কারণে বিএনপির বর্তমান গতিহীনতা। দীর্ঘ দমন পীড়নে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দলে। সে কারণেই ঘুরে দাঁড়াতে সময় নিচ্ছে দল।


প্রোব/আপা/পি/রাজনীতি/১০.০৫.২০১২

১০ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২১:০১:১৬ | ১০:৫২:৪৩

জাতীয়

 >  Last ›