A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ছায়া অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরতে চান অর্থমন্ত্রী | Probe News

কালো টাকা সাদা করার পথ বন্ধ করে

ছায়া অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরতে চান অর্থমন্ত্রী

চার দশকে মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে

natপ্রোবনিউজ, ঢাকা: ‘আসন্ন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না’, অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের এমনতর সিদ্ধান্ত দেশের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা জগতে ভূমিকম্পতুল্য হলেও গতবছরই তিনি এমনতর সিদ্ধান্তের আভাস দিয়েছিলেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছর অপরিদর্শিত অর্থ বৈধ করার হার নিরুৎসাহজনক হওয়ায় এবং বৈধ করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে অর্থমন্ত্রী এইরূপ স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে এসেছেন। বর্তমানে দেশে জিডিপি’র মাত্র ৮.৫ শতাংশ বৈধ কর থেকে আহরিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটা শিগগির দুই অংকের ধারায় স্থির করতে আগ্রহী। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানে এটা ১০.২ শতাংশ এবং ভারতে ১৭.৭ শতাংশ।

উল্লেখ্য, সাধারণভাবে করযোগ্য, কিন্তু কর বিভাগের নজরদারির বাইরে রয়েছে এমন অর্থ-সম্পদই বর্তমানে ‘কালো টাকা’ হিসেবে চিহ্নিত। সচরাচর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোবাজার, শেয়ার বাজার ইত্যাদি থেকেই কালো টাকার জন্ম হচ্ছে বেশি। সাধারণ করের সাথে বাড়তি আরও ১০/২০ শতাংশ করের সুযোগ দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১২টি বাজেটে এইরূপ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলেও অবৈধ অর্থধারীরা তার সুযোগ নিয়েছেন সামান্যই। বিগত সময়ে কমবেশি মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা অপরিদর্শিত অর্থ মালিকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে করের আওতায় এনেছেন। এর মধ্যে সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে মাত্র দুই বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। সে সময় প্রায় ৪২ হাজার করদাতা এইরূপ সুযোগ নিয়েছিলেন। বাকি চার দশকে গড়ে বছরে মাত্র ২-৩ শত কোটি টাকা করে সাদা হয়েছে!

এনবিআর মনে করে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এইরূপ অর্থধারীরা বাড়তি কর দিয়ে অর্থ বৈধ করাকে অপ্রয়োজনীয় জ্ঞান করে থাকেন। সেই সূত্রেই দেশের অর্থ-বাণিজ্য জগতে এমন মন্তব্য চালু হয়েছে: ‘গণতান্ত্রিক শাসনে কালো টাকা সাদা হয় না।’

আর্থিক বিষয়ে দেশের গবেষণা সংস্থাগুলো বরাবরই কালো টাকাকে সাদা করতে দেয়ার বিপক্ষে। তাদের যুক্তি বেআইনী পথে টাকা আয় করে কর দিয়ে সেটা সাদা করা হলে সেটা আইনী আয়ে পরিণত হয়, যা অনৈতিক। তা ছাড়া এইরূপ সংস্কৃতি বৈধ আয়ের মানুষকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এ বছরও সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ এবং টিআইবি আনুষ্ঠানিকভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, হাউজিং সেক্টর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ থেকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকার দাবি জানো হয়।
অতীতে কালো টাকা সাদা করার হার নিরুৎসাহজনক হলেও বাংলাদেশে সকলে স্বীকার করেন, এখানে বিপুল কালো টাকা রয়েছে, যদিও তার পরিমাণ নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালে সম্পাদিত ‘বাংলাদেশে অপ্রকাশ্য অর্থনীতির আকার: একটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সমীক্ষায় কালো টাকার হারকে স্থানীয় জিডিপির ৪৬ থেকে ৮১ শতাংশের মাঝামাঝি হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। ঐ হিসাবে সে বছর দেশে কালো টাকার আয়তন ছিল সর্বনিম্ন এক লাখ ৭৭ হাজার কোটি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন্যাল বাংলাদেশ তাদের এক গবেষণায় স্থানীয় অর্থনীতির ২৪ ভাগই কালো টাকার দখলে বলে মন্তব্য করেছে।

এত বিপুল অপরিদর্শিত অর্থ-সম্পদ থাকার পরও তা ‘সাদা’ করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহ মানেই অর্থনীতিবিদরা ধরে নেন, বাংলাদেশের উপরোক্ত অবৈধ অর্থ-সম্পদ যাচ্ছে অন্যদেশে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির এক প্রতিবেদনে তাই অনুমান করা হয়েছে, ২০০১ থেকে পরবর্তী দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ঐরূপ অর্থ-সম্পদ পাচার হয়েছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির ৩৫ তম বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর অতিসাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত তাই দেশের অর্থনীতির জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, সাদা করার সুযোগ বন্ধ করে সরকার বিশাল ছায়া অর্থনীতিকে করের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সেটা বহির্বিশ্বে চলে যেতে পারে।

এরকমই মত দেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। তার মতে, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা না গেলে কালো টাকা ধরে রাখা যাবে না। আইনী দুর্বলতা ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির কারণে কালো টাকার উৎস যেমন বন্ধ করা যায়নি, তেমনি একে সাদার পরিমন্ডলেও আনা যায়নি। সুশাসনের সংকট কালোটাকার সমস্যাকে বাড়িয়ে চলেছে। তবে ড. মাহবুব উল্লাহ অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার শেষ পরিণতি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায় , ‘গত বছরও অর্থমন্ত্রী এইরূপ অঙ্গীকার করেও তার বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এবারও তিনি শেষপর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়।’

প্রোব/আপা/পি/অর্থনীতি/০৯.০৫.১৪

৯ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:৫২:৩৭ | ১৮:৫৫:৫৩

জাতীয়

 >  Last ›