A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘আদালত বিব্রত হলেও ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা করে ছাড়বো’ | Probe News

‘আদালত বিব্রত হলেও ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা করে ছাড়বো’

dhanmondi math 9-5-2প্রোবনিউজ, ঢাকা : ‘আদালত কি কারণে বিব্রতবোধ করছেন আমরা তা জানি না। তবে আদালত বিব্রতবোধ করলেও ধানমন্ডি মাঠ জনগণের সম্পূর্ণ অধিকারে না আসা পর্যন্ত মাঠ রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ শুক্রবার সকালে ধানমন্ডি খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সমাবেশে এ কথা বলেন ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থপতি ইকবাল হাবিব, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সাবেক সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ জালাল আহমেদ, ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী ফারজানা রহমান, বাপার সহ-সম্পাদক শরিফ জামানসহ পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভয়েজের সভাপতি আলমগীর কবির।
চার পরিবেশবাদীর বিরুদ্ধে শেখ জামাল ক্লাব কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলা অবিলম্বে বাতিল, মাঠের ভেতর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করা ও ধানমন্ডি মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে নাগরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, ‘বিচারপতি বিব্রতবোধ করায় দুইবার ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা মামলার শুনানি বাতিল হয়েছে। অন্য আদালতে আবেদন করেও সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছি না। বাধ্য হয়েই উচ্চ আদালতের বিচারপতির কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কি কারণে দুটি আদালত‘বিব্রতবোধ’ করেছেন জানি না?’
dhanmondi math 9-5ইকবাল হাবিব বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। বাংলাদেশের সকল আদালত বিব্রতবোধ করলেও ধানমন্ডি মাঠ রক্ষা করে ছাড়বো।’ এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা একটা রূপক আন্দোলন। এর মাধ্যমে আমরা সারা দেশের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।’
ধানমন্ডি খেলার মাঠ রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, ‘অসংখ্য টোকাই এ মাঠে খেলে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এখানে বাস্কেটবল, টেনিস কোর্ট চালু করলে এলাকার সাধারণ মানুষের ক্রিকেট-ফুটবল খেলার কবর রচিত হবে। তাই ডিসিসিকে অনুরোধ করছি অচিরে মাঠের ভেতর অবৈধ স্থাপনা ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করুন।’
ধানমন্ডি খেলার মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এলজিআইডি ও ডিসিসি এই মাঠের ভেতর সকল স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এখনো মাঠের ভেতর অবৈধ নির্মাণ কাজ চলছে। ক্লাবের দায়িত্ব ছেড়ে অচিরেই চলে যাবেন। মাঠের স্থাপনা জনগণের সামনে কিছুই না।’ মাঠে খেলতে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে এই স্থপতি বলেন, ‘তোমাদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে এই মাঠের সকল স্থাপনা অপসারণে মুক্তিযুদ্ধের মত ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরাও তোমাদের সঙ্গে আছি। মাঠ তোমাদের হাতে বুঝিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ধানমন্ডি ৮ নং সড়কে পরিবেশবাদীদের সঙ্গে জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে খেলতে আসা খেলোয়াড়সহ তরুণ, শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সের অভিভাবকেরা। সংক্ষেপ্তি সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে তারা। এরপর প্রায় দেড় ঘন্টা সমাবেশের পর নির্মানাধীন অবৈধ লং টেনিসকোর্ট প্রদক্ষিণ করেন সমাবেশকারীরা। অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য সেখানে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত দুবছর ধরে শেখ জামাল ক্লাব উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাঠে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছে পরিবেশবাদী ৫০টির বেশি সংগঠন। গত ১৮ এপ্রিল সর্বসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে পরিবেশবাদীরা। এতে পরিবেশবাদী চার নেতাসহ অজ্ঞাতনামা দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে শেখ জামাল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়েই ২৪ এপ্রিল সর্বসাধারণের জন্য খেলার মাঠ উন্মুক্ত করে দিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) দক্ষিণ।


প্রোব/এহ/পি/ জাতীয় ০৯.০৫.২০১৪

৯ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৪:৫০:০৩ | ১৭:১০:৪৬

জাতীয়

 >  Last ›