A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

সাংবাদিক তাই চিকিৎসা মেলেনি... | Probe News

সাংবাদিক তাই চিকিৎসা মেলেনি...

RMCH.jpgপ্রোবনিউজ, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা পাননি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকার ফটোসাংবাদিক গুলবার আলী জুয়েল। দুই দিন বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

এর আগে ভাঙ্গা পায়ের অপারেশন করে রড বের করতে গত রোববার রামেক হাসপাতালের ৩১নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন জুয়েল। সোমবার তার ওই অপারেশন করার কথা ছিলো।

এদিকে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের এমন আচরণে সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালাকালে শিক্ষার্থীদের হামলায় তার এক পা ভেঙ্গে যায়। পরে তিনি রামেক হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হলে পায়ে অপারশন করে রড লাগিয়ে দেন চিকিৎসকরা। ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফিরে যান।

আহত সাংবাদিক গুলবার আলী জুয়েল জানান, ভাঙা পায়ের চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ রায়ের কাছে যান। ভাঙা পায়ে লাগানো রড খুলে দিয়ে প্লাস্টার করতে হবে জানিয়ে ওই দিনই জুয়েলকে রামেক হাসপাতালের ৩১নং ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেন তিনি।

ওই দিন বিকেলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. বি. কে. দাম তাকে দেখে সোমবার অপারেশন করা হবে বলে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনে রাখতে বলেন। এরপর দুইদিন তার কোনো খোঁজখবর নেননি ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সরা।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বি. কে. দাম ওই ওয়ার্ড পরিদর্শন করার সময় সব রোগীর কাছে গেলেও সাংবাদিক জুয়েলের কাছে যাননি।

ওয়ার্ড থেকে চলে যাওয়ার সময় বি. কে. দামকে ডেকে জুয়েল জানতে চান, তার পায়ের রড খোলা হবে কিনা। এ সময় তিনি ‘হবে’ বলে রক্ত ও ইসিজি পরীক্ষা লিখে দিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে ডা. দামের লেখা পরীক্ষা সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে সাংবাদিক জুয়েলের স্ত্রী অর্থোপেডিক বিভাগের ১নং ওয়ার্ডের চিকিৎসক সোহেলের চেম্বারে গেলে সেখানে বসে থাকা কয়েকজন ইন্টার্ন তাকে জানিয়ে দেন ‘এ হাসপাতালে কোনো সাংবাদিকের চিকিৎসা হবে না’।

এরপর বাধ্য হয়ে জুয়েল ছাড়পত্র নিয়ে সন্ধ্যার আগে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে যান। ইন্টার্নদের চাপের কারণে সিনিয়র চিকিৎসকেরা তার অপারেশন করেননি বলে অভিযোগ করেন জুয়েল।

এরপর জুয়েল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে, এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান বি. কে. দাম তার ওয়ার্ডের কোনো শিক্ষানবিশ জুয়েলকে হাসপাতাল ছাড়তে বলেননি বলে দাবি করেন।

তবে অন্য ওয়ার্ডের শিক্ষানবিশ তাকে হাসপাতাল ছাড়তে বলে এমনটি শুনেছেন তিনি।

ডা. বি. কে. দাম বলেন, অন্য ওয়ার্ডের রোগীদের অপারেশন করার জন্য সোমবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়নি। তবে জুয়েল আবার ভর্তি হলে তিনি নিজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। এ ঘটনার প্রতিবাদসহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন ডাক্তারদের আইনের আওতায় আনা এবং সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাংবাদিকরা। সকাল ১০টায় রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার সকালে রাজশাহী সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শ.ম সাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ, সদস্য আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, আজিজুল ইসলাম, আবু সালেহ ফাত্তাহ, আসাদুজ্জামান আসাদ, ফরিদ আক্তার পরাগ, আব্দুল জাবীদ অপু প্রমুখ।

প্রোব/খোআ/মুআ/জাতীয় ০৭.০৫.২০১৪

৭ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৯:১৪:১৯ | ১২:৩৭:১৩

জাতীয়

 >  Last ›