A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

নজরুল অপহরণের দিন আদালতেই আটক হয়েছিলেন এক র‌্যাব সদস্য | Probe News

সেভেন মার্ডার
নজরুল অপহরণের দিন আদালতেই আটক হয়েছিলেন এক র‌্যাব সদস্য

 

rab11.jpgপ্রোবনিউজ,নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহরণের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে এক র‌্যাব সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। আদালত প্রাঙ্গণে নজরুলকে অনুসরণ করতে গিয়ে তার লোকজন ধরে ফেলেন ওই র্যা ব সদস্যকে। পরে তাকে কোর্ট পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে আটককৃত যুবক নিজেকে র্যা ব সদস্য পরিচয় দেন। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা র্যা ব লেখা জ্যাকেট পরা আরেক সদস্য তাকে নিজেদের লোক বলে ছাড়িয়ে নেন।
নজরুল ও চন্দন সরকার অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য সেদিন নজরুলের সঙ্গে আদালতে হাজিরা দিতে আসা সহযোগীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ সুপার। এসময় তাদের ১৬১ ধারায় জবানবন্দিও নেয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সব বিষয়ে তদন্ত করে দেখছি।’
আদালতে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইদ্রিস আলী জানান, ‘গত ২৭শে এপ্রিল নজরুলের সঙ্গে তিনিও আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। তিনিও একই মামলার আসামি ছিলেন। তারা আদালতে গিয়ে মামলার শুনানির ডাকের অপেক্ষা করছিলেন। নজরুল ইসলাম তখন আদালতের একটি কক্ষে বসে ছিলেন। এসময় সবুজ কাবুলি পাঞ্জাবি ও মাথায় পাগড়ি পরা আনুমানিক ৩০-৩২ বছরের এক যুবক বারবার নজরুলকে অনুসরণ করছিল। কিছুক্ষণ পরপর সে দূরে গিয়ে কার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছিল। নজরুলকে খুন করা হতে পারে আগে থেকেই তারা আশঙ্কা করছিলেন। এ কারণে বিষয়টি টের পেয়ে সবাই ওই যুবককে ধরে ফেলেন। পরে তার কোমরে একটি পিস্তল পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক তাকে কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের কানে কানে সেই যুবক কি যেন একটা বলে। পরে পুলিশ তাদের জানায়, সে আইনের লোক, র‌্যাব সদস্য। এর কিছুক্ষণ পর র্যা বের জ্যাকেট পরা দাড়িওয়ালা চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এসে যুবককে নিয়ে যায়।
ইদ্রিস আলী বলেন, তাদের ধারণা ওই র্যা ব সদস্য আদালত থেকে কখন নজরুলসহ অন্যরা কোনদিকে যাবে বা যাচ্ছে সেই তথ্য সহযোগীদের দিচ্ছিল।
ওই ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বাতেন জানান, তিনি নজরুলের সঙ্গে ওই মামলার আসামি ছিলেন না। আগের দিন সন্ধ্যায় নজরুল তাকে ফোন করে সঙ্গে আদালতে যেতে বলেন। এজন্য তিনি আদালত প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে যে যুবককে আটক করা হয়েছিল সে পাঁচ ফুট ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা হবে। মুখটা গোলাকার। তাদের সহযোগী তাজুল ও শহীদুল তার কোমর তল্লাশি করে একটি পিস্তল পায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজেকে র‌্যাব পরিচয় দেয়ার পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
বাতেন আরো জানান, র্যা বের সদস্য হওয়ায় তাদের আর কিছু বলা হয়নি। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, র্যা বের লোকই নজরুলকে তুলে নেয়ার জন্য এভাবে পিছু নিয়েছে। আব্দুল বাতেন বলেন, আদালত থেকে নজরুলসহ অন্যরা বের হয়ে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় দেখেন নজরুলের মোবাইল বন্ধ। তারা খবর পান শিবু মার্কেটের কাছে র্যা ব সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। পরপরই অটোরিকশা নিয়ে সেখানে গেলেও কোন গাড়ি দেখতে পাননি। তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছিল র্যা ব লেখা গাড়ি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। জালাল নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, র্যা ব সদস্যরাই নজরুল ভাইকে তুলে নেয়ার জন্য আগে থেকেই ছদ্মবেশে পিছু নিয়েছিল। তিনি বলেন, নাম না জানলেও তার মুখ দেখলে তিনি চিনতে পারবেন। তিনি বলেন, এসপি সাহেব তাদের ১৪ জনকে তার কার্যালয়ে ডেকেছিলেন। তিনি সবার কাছ থেকে ওই র্যা ব সদস্যের বিষয়ে লিখিত জবানবন্দি নিয়েছেন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নজরুলকে অনুসরণ করা ওই যুবককে শনাক্ত করতে আদালতে নজরুলের সঙ্গে যাওয়া সহযোগীদের ডাকা হয়েছিল। গতকাল নজরুলের সহযোগী দিল মোহাম্মদ, ইদ্রিস আলী, মনির, শাহজালাল, রুহুল আমীন, হৃদয়, জালাল, শহীদুল, আজাদ, নাঈম ও আরফিসহ ১৩ জন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। তাদের প্রত্যেকের কাছেই আদালত প্রাঙ্গণে নজরুলকে অনুসরণ করা ওই যুবকের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র‌্যাব ১১-তে নিয়োজিত সব সদস্যকে এই প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখোমুখি করা হলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ হয়ে যাবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত একজন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আদালত প্রাঙ্গণের সেই র্যা ব সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রোব/পি/জাতীয়/০৭.০৫.২০১৪

৭ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১১:২৪:৩৫ | ১২:৩২:০৩

জাতীয়

 >  Last ›