A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

তৃপ্তি করে খেতে পারছে না ঢাবি’র আবাসিক শিক্ষার্থীরা | Probe News

হল ক্যান্টিনে খাবারের নিম্নমান
তৃপ্তি করে খেতে পারছে না ঢাবি’র আবাসিক শিক্ষার্থীরা
ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে ফাও খাওয়ার অভিযোগ

হলের খাবারএনামুল হক, প্রোবনিউজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে খাবারের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়নি খাবারের মান। আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যান্টিন মালিকদের খামখেয়ালিপনার বিষয়ে প্রভোস্টের কাছে বার বার অভিযোগ করেও খাবারের মান বৃদ্ধি করা যায়নি। শিক্ষার্থীরা আরো জানিয়েছে, হল ক্যান্টিনের পরিবেশ ও খাবার নিম্নমানের হওয়ায় তৃপ্তি করে খেতে পারছে না তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে দেখা গেছে, খাবারের তালিকা অনুযায়ী এক হলের সঙ্গে অন্য হলের দামেরও তারতম্য রয়েছে। আবার অনেক হলে খাবারের নাম তালিকায় থাকলেও ক্যান্টিনে নেই সেই খাবার। স্পেশাল নামে কিছু খাবার আইটেম বিক্রি করা হলেও তা খাবার যোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুর নাহার হলের আবাসিক ছাত্রী তানিয়া আক্তার প্রোবনিউজকে বলেন, ‘হলের খাবারের দাম কম হলেও খাবারের মান ভালো না। এজন্য অনেকেই নিজে রান্না করে খায়। কিন্তুর রান্নার চিন্তায় পড়েলেখার ক্ষতি হয়।’ বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা খাতুন জানিয়েছে, ‘দিনে একবার রান্না করে খেলেও তৃপ্তি পাওয়া যায়। ক্যান্টিনে তো যাওয়ার উপায় নেই।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর আবাসিক ছাত্র মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, ‘ছেলেদের হলগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও খাবারের মানও খুব নিম্নমান মানের। এ ব্যাপারে আবাসিক শিক্ষক ও প্রোভোস্টের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি।’ এই হলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের খাবারের মান বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের কোন তদারকি নেই। তবে ক্রমাগত খাবারের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে ক্যান্টিন মালিকরা।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট প্রাধ্যক্ষ ড. বায়তুল্লাহ কাদেরী প্রোবকে বলেন, ‘খাবারের দাম খুব একটা বেশি নয়। মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করছি। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য এরই মধ্যে মালিককে বলে দিয়েছে। আশা করছি ক্যান্টিনের পরিবেশ ও খাবারের মান বৃদ্ধি করতে পারবো।’
এদিকে, মাস্টার দা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. মাকসুদ কামাল বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ সত্য নয়। মনিটরিং করার পরও ভর্তুকি না থাকায় খাবারের মান ভালো করা যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে ক্যান্টিন মালিকদের অভিযোগ, চাল, ডাল, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি ও ছাত্রনেতাদের ফ্রি খাওয়ার কারণে অনেক সময় মান বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। ক্যান্টিন চালিয়ে খুব বেশি লাভ করতে পারছে না বলেও জানান তারা। বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিন ম্যানেজার ডালিম এ বিষয়ে বলেন, ‘এত ছাত্র ফাও খায় যে খাবারের মান বাড়ানো দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। প্রতিদিন ২০-২৫ জন থাকে ফাও খাদক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম প্রোবকে বলেন, ‘হলের ক্যান্টিন ও মেসগুলোতে যে ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয় তাতে পুষ্টির পরিমাণ অতি নগণ্য। খাদ্যে ক্যালরি ছাড়া অন্যান্য উপাদান যেমন প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ইত্যাদির পরিমাণ খুবই কম।’
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্যান্টিনের খাবারের তালিকায় গরুর মাংসের দাম ৩৫ টাকা, রুই মাছ ৩০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০ টাকা, ইলিশ মাছ ৩০ টাকা, রান্না ডিম ২৫ টাকা, কাচকি মাছ ২৫ টাকা, অন্যান্য ছোট মাছের তরকারি ২৫ টাকা ও সবজি ৫ টাকা।
হলগুলোর মধ্যে মাস্টার দা সূর্যসেন হলের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম বেশি। এখানে স্পেশাল রুই মাছ, স্পেশাল গরুর মাংস ও স্পেশাল মুরগি ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব খাবার ‘স্পেশাল’ আইটেম হিসেবে বিক্রি হলেও মান তেমন একটা ভালো নয়। সবজি, শাক ও আঁশ জাতীয় খাবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে নেই বললেই চলে। হল ক্যান্টিনগুলোতে কেবল মাছ, মাংস, ডিম ছাড়া বিকল্প খাবার রান্না করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের অন্য কোন পছন্দের সুযোগ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিম উদ্দীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, স্যার এএফ রহমান হল, মাস্টার দা সূর্যসেন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সরেজমিন ঘুরে খাবারের মান ও পরিবেশের একই চিত্র দেখা গেছে।
প্রোব/এহ/মুআ/জাতীয় ৬.০৫.২০১৪

৬ মে ২০১৪ | জাতীয় | ২০:৩৭:১৭ | ১৪:৪৫:৫৪

জাতীয়

 >  Last ›