A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

‘আসামের মুসলিম নিধন পদ্ধতিগত গণহত্যা’ | Probe News

‘আসামের মুসলিম নিধন পদ্ধতিগত গণহত্যা’



Assam vio_ap1.jpgপ্রোবনিউজ, ঢাকা:
সাধারণভাবে যেকোন জঙ্গি হামলাই ভারতে এখন তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ মনোযোগের সাথে মোকাবেলা করা হয়। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় নিয়োজিত প্রকাশ্য- গোপন সবগুলো বাহিনী এরূপ ক্ষেত্রে নেমে পড়ে সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে। কিন্তু ১ মে থেকে ৩ মে আসামের বাকসা ও কোকড়াঝাঁড় জেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটেছিল। তিন দিন ধরে সেখানে সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে নরসিংবাড়ি ও বালাপাড়ার মুসলমান পাড়াগুলোতে। ন্যূনপক্ষে ৩২ জন মুসলমান নারী ও শিশু খুন হওয়ার পরও পুলিশ বা সেনা কেউ এগিয়ে আসেনি ঐ এলাকায়। আসাম সরকার খুনের দায় এড়াতে ঘটনার পরপরই বিষয়টির তদন্তভার কেন্দ্রিয় ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’র কাছে হস্তান্তর করেছে। আর পুরো হত্যালীলা শেষে কোকড়াঝাঁড়ের মুসলমানরা হাজারে হাজারে যখন আশেপাশের জেলায় পালিয়ে যায় তখনি কেবল সেখানে মোতায়েন হয়েছে ১৫ শত সেনা এবং পুলিশের ৪৩টি কোম্পানি।

উল্লেখ্য, ভারতের মুসলমান প্রধান প্রদেশগুলোর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের পরই আসামের অবস্থান। এই প্রদেশের ২৩ টি জেলার মধ্যে কোকড়াঝাঁড়ে মুসলমান জনসংখ্যা ২০ শতাংশ। আসামের মুসলমানদের অনেকেই উর্দুভাষী যদিও দাড়ি ও লুঙ্গি পরিহিত মুসলমানমাত্রই সেখানে চিহ্নিত হন ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ হিসেবে। কোকড়াঝাঁড়ের সর্বশেষ গণহত্যার মাত্র কয়েকদিন আগেই আসামে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে এবং তাতে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয় নির্বাচনে বিজয়ী হলে আসাম থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের তাড়াবে তারা। বিজেপি নেতা রাজনাথ ও নরেন্দ্র মোদি আসামের জনসভাগুলোতে অবৈধদের উচ্ছেদ পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন অবৈধ বাংলাদেশী সবাইকে তারা তাড়াবেন নাÑ তালিকা থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের বাদ দেয়া হবে।
এরূপ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ঘোষণার পরপরই ঘটে কোকড়াঝাঁড়ের ঘটনা। হামলার পূর্ব থেকে স্থানীয় মুসলমানরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে রেখেছিলেন সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। স্বভাবতই অনেক গণমাধ্যমে গণহত্যার দায়ে যুক্ত করা হয়েছে মোদিকেও। যদিও সবাই এও জানাচ্ছেন, খুনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বড়োল্যান্ড বা এনডিএফবি।
উল্লেখ্য, কোকড়াঝাঁড় হলো আসামের বাকসা, চিদাং ও উদালগুরি নিয়ে গড়ে ওঠা বোড়ো নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত জনপদের সবচেয়ে পুরানো জেলা। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। আসামের সবচেয়ে বড় আদিবাসী বোড়োরা উপরোক্ত চারটি জেলা নিয়ে স্বাধীন বোড়োল্যান্ড-এর দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চালাচ্ছে। তবে এনডিএফবি সাম্প্রতিক সহিংসতায় যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে অত্র অঞ্চলে মুসলমানদের সাথে বড়োদের সংঘাত তৈরির জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র মাত্র।
অন্যদিকে, আহত মুসলমানরা জানিয়েছেন তারা আক্রমণকারীদের মাঝে বোড়ো লিবারেশন টাইগার (বিএলটি)-এর আত্মসমর্পণকারী জঙ্গীদের দেখেছেন। এই বিএলটি হলো বোড়ো পিপল্স ফ্রন্টে (বিপিএফ)-এর একটি শাখা। কোকড়াঝাঁড়ে এবার নির্বাচন করছেন বোড়ো পিপল্স ফ্রন্টের প্রমিলা রাণী ভর্মা। অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর পাশাপাশি ছয় লাখ বোড়ো রয়েছে এই জেলায়। মুসলমান রয়েছে চার লাখ। প্রমিলার সমর্থকরা মনে করছেন বোড়োরা হারলে মুসলমানদের জন্য হারবেন।
আসামের রাজনীতিতে বিপিএফ বর্তমানে কংগ্রেসের মিত্র। তবে বিজেপির তরফ থেকে সম্প্রতি স্বাধীন বোড়োল্যান্ডের পক্ষে সবুজ সংকেতের পরই গুজব রটেছে বোড়ো পিপলস্ ফ্রন্ট নির্বাচনের পরপরই বিজেপিকে সমর্থন দেবে। বিজেপি সম্প্রতি সর্বভারতীয় বোড়ো ছাত্র সমিতির সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছে ক্ষমতায় গেলে তারা আসাম ভেঙ্গে আরেকটি রাজ্য বানাবে বোড়োদের জন্য।
এদিকে, ১ মে থেকে ৩ মে’র ঘটনায় নিহতদের বিজেপি সমর্থিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশী মুসলমান বলা হলেও বাস্তবে দ্য হিন্দু’র সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এরা উর্দুভাষী বহু পুরানো বসতির মুসলমান এবং তিন দিন ধরে হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে দেশজুড়ে দাঙ্গা তৈরির লক্ষ্যে। কাশ্মীরের মূখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তাই ঘটনার জন্য সরাসরি মোদিকে দায়ী করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তাই বলেছেন। ওমর আবদুল্লাহ ২০১২ সালের অনুরূপ গণহত্যার বিচারহীনতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, পুরো বিষয়টি আসামে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে পদ্ধতিগত গণহত্যা মাত্র। আসামের ঐ দফা গণহত্যায় ১০৮ জন মুসলমান নিহত হন এবং প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান উদ্বাস্তু হয়।
প্রোব/আপা/পি/দক্ষিণ-এশিয়া/০৬.০৫.২০১৪

৬ মে ২০১৪ | দক্ষিণ এশিয়া | ১৩:৪৩:২১ | ১৩:৪৮:৫৯

দক্ষিণ এশিয়া

 >  Last ›