A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

ভিয়েতনাম যুদ্ধে ফ্রান্সকে পরমাণু বোমা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র: ইতিহাসবিদ | Probe News

ভিয়েতনাম যুদ্ধে ফ্রান্সকে পরমাণু বোমা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র: ইতিহাসবিদ

Frence-Vietnam2.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধবাজি এবং মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্ব হরণের অভিযোগে সমালোচিত বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের কুকীর্তির আরেকটি ঘটনা তুলে ধরলেন প্রখ্যাত এক মার্কিন ইতিহাসবিদ। তিনি জানান, পঞ্চাশের দশকে ভিয়েতনাম-ফ্রান্স যুদ্ধের কালে যুদ্ধ জয়ে ফ্রান্সকে পরমাণু অস্ত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।

৬০ বছর আগে ১৯৫৪ সালের এই সপ্তাহে দিয়েন বিয়েন ফু’র যুদ্ধে ভিয়েতনামি বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ফরাসি বাহিনী। প্রতিশোধ নিতে ফ্রান্সকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এজন্য প্যারিসকে দু'টি পরমাণু অস্ত্র সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ জুলিয়ান জ্যাকসনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় ফ্রান্স। তবে মার্কিন কংগ্রেস সে সময়ে সরাসরি ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অস্বীকার করে। এ সময় প্যারিসে তৎকালীন মার্কিন যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফস্টার ডালাস ফরাসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডালাস এ বৈঠকে ফরাসি কর্মকর্তাদের বলেন, তোমাদেরকে দু’টো পরমাণু বোমা সরবরাহ করলে কেমন হয়? তার প্রস্তাবে হতচকিত হয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নিজেদের উপনিবেশ বজায় রাখার জন্য ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর ধরে যুদ্ধে ৫৫ হাজার ফরাসি সেনা নিহত হয়েছিল। দিয়েন বিয়েন ফু’র গেরিলা যুদ্ধে ভো নগুয়েন গিয়াপের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামি গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফরাসী বাহিনী ওই অঞ্চল থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

১৯৫৩ সালের দিকে ফরাসি সেনাপ্রধান জেনারেল নাভারে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে ২৮০ মাইল দুরে দিয়েন বিয়েন ফু’এর উপত্যকায় একটি শক্তিশালী গ্যারিসন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। জঙ্গল এবং পার্বত্য এলাকার এই উপত্যকায় একটি বিমান অবতরণ ক্ষেত্র ছিল এবং তার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিল ফরাসিরা। এ ছাড়া, তারা উপত্যকার ভেতরের টিলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে পারবে বলেও ধারণা করেছিল।Frence-Vietnam3.jpg তবে গিয়াপের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামি গেরিলারা প্রাকৃতিক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাঁজোয়া বহরের সমাবেশ ঘটায় ফরাসি অধিকৃত টিলাগুলোর ঠিক উল্টো দিকে। রসদ এবং সামরিক সরঞ্জাম বহনের কাজে ভিয়েতনামের গেরিলারা সাইকেল ব্যবহার করে বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। অন্যদিকে গিয়াপের বাহিনীর হঠাৎ গোলাবর্ষণে হতচকিত হয়ে যায় ফরাসি সেনারা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাহিনী ফরাসি সেনাদের বিমান অবতরণ ক্ষেত্রটি অচল করে দেয়। ফলে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ফরাসিদের।

৫৬ দিন অবরোধের পর ফরাসি সেনারা শেষ পর্যন্ত ৭ মে ভিয়েতনামের গেরিলাদের কাছে আত্মসর্পন করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধে ফ্রান্সের ১,১৪২ জন নিহত, ১,৬০৬ জন নিখোঁজ এবং ৪,৫০০ জন আহত হয়েছিল। ভিয়েতনামিদের হতাহতের সংখ্যা ২২ হাজারে গিয়ে ঠেকেছিল।

অবশ্য পরবর্তীতে অনেকেই দাবি করেছেন, প্রকৃতপক্ষে পরমাণু বোমা সরবরাহের প্রস্তাব দেননি ডালাস। অনুবাদকের ভুলের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি। তবে দলিল-প্রমাণ থেকে জানা যায়, ১৯৫৪ সাল থেকেই ফ্রান্স পরমাণু বোমা তৈরির তৎপরতা শুরু করে। আর পরবর্তীতে ভিয়েতনামে যুদ্ধে আমেরিকা নিজেই জড়িয়ে পড়ে এবং ফরাসিদের মতই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

প্রোব/বান/আন্তর্জাতিক ০৬.০৫.২০১৪

৬ মে ২০১৪ | আন্তর্জাতিক | ১০:৪৮:১৮ | ১৫:৫৯:৫৯

আন্তর্জাতিক

 >  Last ›