A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

কেনিয়ার দাদাব শিবির, খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকটে শরণার্থীরা | Probe News

কেনিয়ার দাদাব শিবির: খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকটে শরণার্থীরা

refugee-camp.jpgপ্রোবনিউজ, ডেস্ক: “ওরা আমাকে এখানে জোর করে ধরে নিয়ে এসেছে। আমার সন্তানদের ফেলে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছি আমি।”- ব্যথায় কাতর হয়ে চিৎকার করে করে কথাগুলো বলছিলেন কেনিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির দাদাবে আটক এক ইথিওপিয়ান নারী ।
আটক ঐ নারীর নাম ইফরাহ হাসান। বয়স ২৯। তিন সন্তানের জননী তিনি। বিদেশি নাগরিকদের ওপর কেনিয়ার সরকারের চালানো ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানে গত ১৫ এপ্রিল নাইরোবির এস্টলাই জেলার নিজ এপার্টমেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেনিয়ান পুলিশ। পরে আরও ৭৮ জনের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হয় দাদাবে।
নাইরোবি এবং মোমবাসাতে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে বেশ ক’জন নিহত হওয়ার পর কেনিয়ার অবৈধ অভিবাসীদের ওপর চালানো হয় সরকারি অভিযান। সেসময় আটক করা হয় চার হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে। এদের বেশিরভাগই বসবাস করত সোমালিয়ান অধ্যুষিত এস্টলাই জেলায়। সরকারের দাবি, সোমালিয়ার সশস্ত্র সংগঠন আল-শাবাবই হামলাটি চালিয়েছে। আর অবৈধ অভিবাসীরাই আল-শাবাবকে সহযোগিতা করে থাকে এমন সন্দেহ থেকে চালানো হয় অভিযান।
ইফরা আল-জাজিরাকে জানায়, “আমি ইথিওপিয়ান। বৈধ কাগজপত্র আমার আছে। তারপরও পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে প্যানগানি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কাসারানি স্টেডিয়ামে নেয়ার পর দাদাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়।”
আটকের পর থেকে ইউএন সেন্টারে বসে বসে ইফরা দিন গুণে কখন তাঁর ফোনটি বেজে উঠবে? তার ফোনে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় এখান থেকে কল দিতে পারে না সে। তবে নাইরোবিতে প্রতিবেশীদের ফোন থেকে কল দেয় তাঁর সন্তানরা। সর্বশেষ ফোনটি এসেছিল পাঁচ দিন আগে। আর কথা হয়েছিল মাত্র তিন মিনিট।
আরও প্রায় ৩ লাখ শরণার্থী আছে যারা শিবিরের মধ্যে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারে। তবে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত নতুন শরণার্থীরা। নিবন্ধন করে রেশন কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত তাদের থাকতে হবে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে।
নাইরোবি থেকে দাদাবে আসা প্রায় ৭৯ জন শরণার্থীর মধ্যে ৩১ জনই এখন অবস্থান করছেন ট্রানজিট সেন্টারে। এখনও রেশন কার্ড না হওয়ায় বেশ খাদ্য সংকটে ভুগছেন তারা। মাঝে মাঝে ট্রানজিট সেন্টারে থাকা ইথিওপিয়ানরা ক্যাম্পের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে দিতে পথচারীদের অনুরোধ করেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সে যোগাযোগে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাষা। সেন্টারে থাকা ইথিওপিয়ানরা কথা বলেন, অ্যামহারিক ভাষায়। আর শিবিরে বসবাসরতদের বেশিরভাগই সোমালিয়।
এর আগে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলার সময় ট্রানজিট কেন্দ্রের কাছাকাছি অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীদের হামলায় জাতিসংঘের একজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয় এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। শিবিরের প্রবেশদ্বারের কাছেই কাঠের বেঞ্চের উপরে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ক্যামেরুনের অধিবাসী চেলিস্টাইন ফ্রেঙ্ক জ্যাকো নামের একজন। জ্যাকো গ্রেপ্তার হন নাইরোবি থেকে। তিনি জানান শিবিরে ওই হামলার দিন সেখানে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “জায়গাটা মোটেও নিরাপদ নয় কেননা আমাদের প্রবেশদ্বারের সামনেই গুলি করা হয়। আমার কাছে কাগজপত্র আছে। আমি শুধু ফিরে যেতে চাই নাইরোবিতে।”
হাজেদারা ক্যাম্পের সভাপতি ইউসুফ ফারাহ। বেশ কিছুদিন দেদাব ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে ভালোটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এর জন্য আর্ন্তজাতিক সহায়তা দরকার।”
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনইচসিআর জানায়, নতুন শরণার্থীদের সম্পর্কে তাদের জানা আছে। শিগগিরই অন্যান্য শরণার্থীদের মতই তাঁরা খাবার পাবেন বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কেনিয়া সরকার। তবে ট্রানজিট সেন্টারে থাকা শরণার্থীরা বলেন আর কোন শরণার্থীকে দাদাব শিবিরে পাঠানো ঠিক হবে না। তাদের মতে, ‘‘এই শিবিরটি চিড়িয়াখানার চেয়েও খারাপ। কারণ চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য খাবার থাকে। এখানে তাও নেই।’’

প্রোব/শামা/আর্ন্তজাতিক ০৫.০৫.২০১৪

৫ মে ২০১৪ | জাতীয় | ১৭:৫৭:৪৪ | ১৯:১৯:২২

জাতীয়

 >  Last ›